টানা তিন দিনের ভারী বৃষ্টিপাত ও ভারতের মেঘালয় থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে সীমান্তবর্তী ও বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। যদিও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নদ-নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে এবং তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা নেই।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গোয়াইন, পিয়াইন ও সারি নদীর পানি বাড়তে থাকায় আশপাশের নিম্নাঞ্চলে আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। টানা বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে সীমান্তবর্তী এলাকার পানি আরও বাড়তে পারে বলে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
বর্তমানে উপজেলার ৩ নম্বর পূর্ব জাফলং ইউনিয়নের আসামপাড়া হাওর, ১১ নম্বর মধ্য জাফলং ইউনিয়নের বাউরভাগ-সাংকিভাঙ্গা হাওর, পূর্ব আলীরগাঁও ইউনিয়নের খাস হাওর ও কাকুনাই হাওর, পশ্চিম আলীরগাঁও ইউনিয়নের নাইনদা, তীতকুলি ও বালির হাওর, তোয়াকুল ইউনিয়নের লক্ষীনগর হাওর এবং নন্দিরগাঁও ইউনিয়নের চলিতাবাড়ি, শিয়ালা ও বাইমারপার হাওর পানিতে তলিয়ে গেছে।
এ ছাড়া উপজেলার আরও কয়েকটি ইউনিয়নের নিচু এলাকায় পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো পাকা বা গ্রামীণ সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।
এদিকে পানি বৃদ্ধির ফলে কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। বোনা ও রোপা আউশ ধানের পাশাপাশি আমনের বীজতলায় বানের পানি ঢুকতে শুরু করেছে। দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকলে আমনের বীজতলার ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
পশ্চিম আলীরগাঁও ইউনিয়নের গণমাধ্যমকর্মী রিয়াজুল ইসলাম জানান, অনেক এলাকায় আমনের বীজতলা আংশিকভাবে পানিতে তলিয়ে গেছে। বিশেষ করে নওয়াগাঁও গ্রামের বেশ কিছু বীজতলার চারা ইতোমধ্যে পানির নিচে চলে গেছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা বাঁধন কান্তি সরকার বলেন, নদ-নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তাই বর্তমানে বন্যার আশঙ্কা নেই।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রায়হান পারভেজ রনি বলেন, ভারতের মেঘালয়ে হালকা বৃষ্টিপাত এবং স্থানীয়ভাবে ভারী বর্ষণের কারণে উপজেলার কিছু ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। তবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রয়েছে এবং এখনই বন্যার আশঙ্কা দেখা যাচ্ছে না।
গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রতন কুমার অধিকারী বলেন, আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী সিলেটে বড় ধরনের বন্যার সম্ভাবনা নেই। ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে উপজেলার কিছু নিম্নাঞ্চলে পানি প্রবেশ করেছে। সম্ভাব্য যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসন, বিভিন্ন সরকারি দপ্তর এবং জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত গোয়াইনঘাটে বৈরী আবহাওয়া ও বৃষ্টিপাত অব্যাহত ছিল।
আজকের সিলেট/এপি/প্রতিনিধি
সৈয়দ হেলাল আহমদ বাদশা, গোয়াইনঘাট থেকে 








