চুল পড়ছে বেশি?
বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬, ১২:০৩ PM

চুল পড়ছে বেশি?

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৮/০৭/২০২৬ ০৮:৫৭:১১ AM

চুল পড়ছে বেশি?


দিন দিন চুল পাতলা হয়ে যাওয়া, অতিরিক্ত চুল ঝরে পড়া কিংবা টাকের সমস্যা এখন নারী-পুরুষ উভয়ের কাছেই বড় উদ্বেগের বিষয়। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন নির্দিষ্ট পরিমাণ চুল পড়া স্বাভাবিক। কিন্তু সেই হার অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেলে কারণ খুঁজে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

চর্ম ও যৌনরোগ বিভাগের চিকিৎসক বলেন, খুশকি, অ্যান্ড্রোজেনিক হরমোনের প্রভাব, মানসিক চাপ এবং চুলে অতিরিক্ত প্রসাধনী ব্যবহারের কারণে অনেকের চুল বেশি পড়ে।

বিশেষজ্ঞদের তথ্যমতে, একজন সুস্থ মানুষের মাথায় সাধারণত এক থেকে দেড় লাখ চুল থাকে। প্রতিদিন ১০০ থেকে ১৫০টি চুল ঝরে পড়া স্বাভাবিক। তবে এর চেয়ে বেশি চুল পড়লে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত। বালিশ, চিরুনি বা তোয়ালে নিয়মিত অতিরিক্ত চুল জমা হওয়া কিংবা হালকা টানেই একসঙ্গে অনেক চুল উঠে এলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

চিকিৎসকদের মতে, অতিরিক্ত চুল পড়ার অন্যতম কারণ অ্যান্ড্রোজেনিক হরমোন। পুরুষদের টাক পড়া এবং অনেক নারীর চুল পাতলা হয়ে যাওয়ার পেছনে এই হরমোনের ভূমিকা রয়েছে। এছাড়া মেনোপজ, থাইরয়েডের সমস্যা, গর্ভাবস্থা ও সন্তান জন্মের পর হরমোনের পরিবর্তনের কারণেও সাময়িকভাবে চুল ঝরতে পারে।

এ ছাড়া খুশকি বা ছত্রাকজনিত সংক্রমণ, শরীরে পুষ্টির ঘাটতি, দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ, অ্যানিমিয়া, ডায়াবেটিস, টাইফয়েড, জন্ডিস, ম্যালেরিয়ার মতো রোগ, বড় ধরনের অস্ত্রোপচার কিংবা কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও চুল পড়ার কারণ হতে পারে। বংশগত কারণেও অনেকের টাকের সমস্যা দেখা দেয়।

বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, দীর্ঘদিন খুব টাইট করে চুল বাঁধা, ঘন ঘন রং করা, রিবন্ডিং বা রাসায়নিক ব্যবহার করলে হেয়ার ফলিকল ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এতে অনেক ক্ষেত্রে স্থায়ীভাবে চুল কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

চুল সুস্থ রাখতে পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ, পর্যাপ্ত পানি পান, প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজসমৃদ্ধ খাবার খাওয়া, মাথার ত্বক পরিষ্কার রাখা এবং খুশকির চিকিৎসা করানো জরুরি। পাশাপাশি অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা এড়িয়ে চলা, ভেজা চুলে জোরে আঁচড় না দেওয়া, টাইট করে চুল না বাঁধা এবং চুলের ধরন অনুযায়ী শ্যাম্পু ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

চিকিৎসকদের ভাষ্য, বেশির ভাগ ক্ষেত্রে কারণ শনাক্ত করে চিকিৎসা নিলে চুল পড়া অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। প্রয়োজন অনুযায়ী ২ থেকে ৫ শতাংশ মিনোক্সিডিল ব্যবহার উপকার দিতে পারে। এ ছাড়া আধুনিক চিকিৎসায় হেয়ার ট্রান্সপ্লান্টের সুবিধাও রয়েছে, যদিও এটি তুলনামূলক ব্যয়বহুল।

অতিরিক্ত চুল পড়া দীর্ঘদিন অব্যাহত থাকলে বা মাথায় টাকের অংশ দ্রুত বড় হতে থাকলে দেরি না করে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা।

আজকের সিলেট/ডি/এসটি

সিলেটজুড়ে


মহানগর