‘মাত্র ১০ মিনিটে নেইমারের কাছ থেকে বিশ্বকাপ আশা করা ঠিক না’
মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ১১:২০ AM

‘মাত্র ১০ মিনিটে নেইমারের কাছ থেকে বিশ্বকাপ আশা করা ঠিক না’

ক্রীড়া ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৭/০৭/২০২৬ ০৮:৪৪:৪২ AM

‘মাত্র ১০ মিনিটে নেইমারের কাছ থেকে বিশ্বকাপ আশা করা ঠিক না’


নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের বিদায়ের পর যখন চারদিকে সমালোচনার ঝড়, ঠিক তখনই কোচ কার্লো আনচেলত্তি এবং তারকা ফরোয়ার্ড নেইমারের পাশে দাঁড়ালেন সাবেক অধিনায়ক কাফু। নিউইয়র্কে ‘গ্লোবো’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, হারের জন্য এককভাবে কাউকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো ঠিক নয়।

মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ব্রাজিলের বিদায় দেখার পর, সোমবার সকালে নিউইয়র্ক সিটিতে বিশ্বকাপের ট্রফির একটি বিশালাকার রেপ্লিকা উদ্বোধনের অনুষ্ঠানে যোগ দেন ২০০২ বিশ্বকাপজয়ী এই কিংবদন্তি।

সেখানে সেলেসাওদের হারের কারণ এবং ম্যাচের ৬৭ মিনিটে গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি ও রাইয়ানকে উঠিয়ে নেইমার ও দানিলোর মতো বিতর্কিত পরিবর্তন নিয়ে প্রশ্ন করা হলে আনচেলত্তিকে পুরোপুরি নির্দোষ দাবি করেন কাফু।

তিনি বলেন, ‘যারা খেলোয়াড় বদল নিয়ে কথা বলছেন, তারা জানেন না আনচেলত্তি এবং খেলোয়াড়রা প্রতিদিন কীসের মধ্য দিয়ে যান। তারা জানেন না সেদিন মাঠে খেলোয়াড়টির অবস্থা কেমন ছিল। জাপানের বিপক্ষে ম্যাচের প্রথমার্ধেও অনেকে আনচেলত্তির সমালোচনা করেছিলেন, কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে যখন তিনি সমালোচিত খেলোয়াড়দেরই মাঠে রেখে দিলেন এবং দল জিতল, তখন সবাই প্রশংসা করল।’

উল্লেখ্য, জাপানের বিপক্ষে ম্যাচে ভক্ত ও সমালোচকদের তোপের মুখে থাকা কাসেমিরোই বিরতির পর প্রথম গোলটি করেছিলেন। আনচেলত্তির সিদ্ধান্তের পক্ষে কাফুর এই অবস্থান অবশ্য আরেক ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি রোনালদো নাজারিও-র (ফেনোমেনো) সম্পূর্ণ বিপরীত। স্প্যানিশ পত্রিকা ‘আস’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রোনালদো বলেছিলেন, আনচেলত্তি ইতিহাসের অন্যতম সেরা কোচ হলেও নরওয়ে ম্যাচে বেশ কিছু ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

তবে মিলানের সাবেক শিষ্য কাফু তার প্রিয় কোচের ওপর পূর্ণ আস্থা রেখে বলেন, “বাইরে থেকে ‘আমি হলে ওকে নামাতাম, ওকে উঠাতাম’ বলা খুবই সহজ। আমি আনচেলত্তির পরিবর্তনের সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত। জাতীয় দলের জন্য কোনটা ভালো, সেই মাপকাঠি তিনি ভালো জানেন। দুর্ভাগ্যবশত সিদ্ধান্তটি কাজে আসেনি। আসল সমস্যা হলো, আমরা যেমনটা আশা করেছিলাম ব্রাজিল সেই স্তরের খেলা উপহার দিতে পারেনি।”

ম্যাচ চলাকালীন নরওয়েজিয়ান গোলরক্ষক আরিয়ান ন্যাল্যান্ডকে নেইমারের ‘ গবেট’ বা ‘অহাম্মক’ বলে গালি দেওয়ার ঘটনাটিকেও ফুটবলের স্বাভাবিক আবেগ হিসেবে দেখছেন কাফু।

তিনি বলেন, ‘মাঠের ভেতরের আবেগ সবসময় নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। ব্রাজিল তখন হারছিল, সবাই স্নায়ুচাপে ভুগছিল, এমন মুহূর্তে অনেক কিছুই ঘটে যেতে পারে। এখন বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর নেইমারকে নিয়ে কথা বলব? দুঃখিত, আমি ভুল মানুষ। আমি কখনো ওর সমালোচনা করব না। কারণ আমি নিজে মাঠে ছিলাম এবং জানি এটা কতটা কঠিন আর খেলোয়াড়রা কতটা কষ্টের মধ্য দিয়ে যায়। কেউ বিশ্বকাপে হারতে চায় না।’

জাতীয় দলে নেইমারের অবদান ও উত্তরাধিকার নিয়ে ওঠা সমালোচনার জবাবে কাফু অত্যন্ত দৃঢ়ভাবে বলেন, ‘নেইমার সেখানে ছিল, খেলেছে এবং ব্রাজিল দলকে প্রতিনিধিত্ব করেছে। জাতীয় দলে তার চমৎকার একটা যুগ ছিল। দুর্ভাগ্যবশত সে বিশ্বকাপ জিততে পারেনি, কিন্তু জাতীয় দলের হয়ে নেইমারের পরিসংখ্যান ও অর্জন দুর্দান্ত। আপনি একজন ফুটবলারের কাছ থেকে মাত্র ১০ মিনিটে বিশ্বকাপ জিতিয়ে দেওয়ার আশা করতে পারেন না। বিশ্বকাপ জিততে হলে পুরো টুর্নামেন্টে ধারাবাহিকভাবে ভালো খেলে আসতে হয়।’

ব্রাজিলের এই পরাজয়ের পেছনে নরওয়ের কোচ স্টেল সলবাকেনের চতুর কৌশল এবং সেটির বিপরীতে ব্রাজিলের ঘুরে দাঁড়ানোর অক্ষমতাকে দায়ী করেছেন কাফু।

তিনি বিশ্লেষণ করে বলেন, ‘আমরা এমন একটা দল দেখলাম যারা দুর্ভাগ্যবশত প্রত্যাশা অনুযায়ী পারফর্ম করতে পারেনি, যা যেকোনো দলের সাথেই হতে পারে। অন্যদিকে প্রতিপক্ষ মাঠে কৌশলগতভাবে দারুণ অবস্থানে ছিল। তারা নির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে এসেছিল। নরওয়ের মূল লক্ষ্যই ছিল ব্রাজিলের প্রধান শক্তি ‘কাউন্টার-অ্যাটাক’ বা প্রতিআক্রমণ রুখে দেওয়া। তারা খেলার গতি কমিয়ে দিয়েছিল এবং মাত্র ৩টি সুযোগ তৈরি করে ২টিতে গোল তুলে নিয়েছে। আর আমাদের সেই কৌশল ভাঙার মতো শক্তি বা প্রতিক্রিয়া দেখানোর ক্ষমতা ছিল না।”

আজকের সিলেট/ডি/এসটি

সিলেটজুড়ে


মহানগর