ইউরোপের মাটিতে বাংলাদেশের প্রথম জয়
শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ০২:৫২ AM

ইউরোপের মাটিতে বাংলাদেশের প্রথম জয়

ক্রীড়া ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৬/০৬/২০২৬ ০১:১৫:৩৭ AM

ইউরোপের মাটিতে বাংলাদেশের প্রথম জয়


ইউরোপের মাটিতে ইউরোপের কোনো দলের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচটা খেললো বাংলাদেশ। ঐতিহাসিক এই ম্যাচের সব আলো নিজের দিকে কেড়ে নিয়েছেন তপু বর্মণ। একটা না, দুইটা গোল করলেন এই ডিফেন্ডার। শেষ পর্যন্ত তাঁর জোড়া গোলেই ম্যাচ জিতল থমাস ডুলির দল।

শুক্রবার ফিফা প্রীতি ম্যাচে বাংলাদেশকে আতিথেয়তা দেয় সান মারিনো। স্তাদিও অলিম্পিকো সেরাভালে স্টেডিয়ামে স্বাগতিকদের ২-১ গোলে হারিয়েছে বাংলাদেশ। প্রথমার্ধে ১-১ গোলে সমতায় থাকার পর দ্বিতীয়ার্ধে আরেকবার জাল কাপান তপু। তাঁর জোড়া গোলের বিপরীতে সান মারিনোর হয়ে এক গোল শোধ দেন নিকোলাস জাকোপেত্তি।

এই ম্যাচ দিয়েই বাংলাদেশের ডাগ আউটে দাঁড়ান জার্মান কোচ থমাস ডুলি। শুরুর একাদশে সমিত সোম, ফাহামেদুল ইসলাম ও জায়ান আহমেদদের বসিয়ে রাখেন তিনি। তবে বিরতির পর একাদশে আনেন একাধিক পরিবর্তন। আর নিজের প্রথম অ্যাসাইনমেন্টেই জয় নিয়ে মাঠ ছাড়লেন তিনি।

এদিন ম্যাচের ১৭তম মিনিটে প্রথম ভালো আক্রমণ শানায় বাংলাদেশ। তবে বক্সে জামাল ভূঁইয়ার শট আটকে যায় প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারদের বাঁধার মুখে। দুই মিনিট পর গোছালো আক্রমণে ডান দিক থেকে মোরছালিনের ক্রসে তপু বর্মণের হেডে লিড নেয় বাংলাদেশ।

৩১ মিনিটে ম্যাচে সমতায় ফেরে সান মারিনো। ডান দিক দিয়ে বেরার্দি বক্সে ঢুকে তপুকে কাটিয়ে কাটব্যাক দেন। বাংলাদেশের তিনজন ডিফেন্ডার বক্সে থাকলেও কেউ ক্লিয়ার করতে পারেননি, সেখান থেকে লক্ষ্যভেদ করেন নিকোলাস জাকোপেত্তি।

৩৮ মিনিটে সাদ উদ্দিনের সামনে ছিল কেবল গোলকিপার। কিন্তু এই ডিফেন্ডার উরিয়ে মারেন পোস্টের উপরে দিয়ে। 

বিরতির পর জামালের সঙ্গে তুলে নেওয়া হয় মোরছালিনকে। তাদের জায়গায় কোচ ডুলি মাঠে নামান সমিত সোম ও জায়ান আহমেদকে। আর ইসা ফয়সালের পরিবর্তে মাঠে নামেন জায়ান।

৪৮ মিনিটে এগিয়ে যেতে পারত বাংলাদেশ। হামজার দারুণ এক পাস ধরে এগিয়ে ডান দিক থেকে ক্রস দেন রফিকুল, কিন্তু গোলমুখের সামনে বলে পা ছোয়াতে পারেননি সোহেল রানা। 

তবে এই সময় দারুণ পাসিং ফুটবলের প্রদর্শনী দেখায় বাংলাদেশ। ৫৩ মিনিটে আরেকটি গোছালো আক্রমণের শেষটা সুন্দর হয়নি। ডান দিক থেকে এবার সাদের ক্রসে ফাহিম লাফিয়ে উঠে শট নিলেও গোলে রাখতে পারেননি। ৮ মিনিট পর কাপিচ্ছিয়োনির দারুণ ফ্রি কিক কর্ণারের বিনিমেয় ক্লিয়ার করেন মিতুল। 

খানিক পর বিশ্বনাথ ঘোষ ও ফাহিমেদুল ইসলামকে মাঠে নামান ডুলি। উঠে যান ফাহিম ও রফিকুল। বদলি হিসেবে বিশ্বনাথ নিজের নামের সঙ্গে সুবিচার করতে পারেননি। মাঠে নামার খানিক পরই ভালো সুযোগ পেয়েছিলেন এই ডিফেন্ডার। কিন্তু বিশ্বনাথের সামনে কেবল প্রতিপক্ষের গোলকিপার থাকলেও তিনি শট লক্ষে রাখতে পারেননি। 

প্রীতি ম্যাচে সাধারণত ৮ জন খেলোয়াড় পরিবর্তনের নিয়ম আছে। তবে দুই দলের সম্মতিতে ১১টি পরিবর্তন করা যায়। খেলার ৭৬ মিনিটে সোহেল রানা সিনিয়রকে তুলে কাজেম শাহ কিরমানিকে মাঠে নামানো হয়।

৮৬ মিনিটে সেই তপুর দ্বিতীয় গোলে ফের এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। বক্সের একটু সামনে কে হামজার নেওয়া ফ্রি কিকে কেউ পা ছোঁয়াতে পারেননি। সেখান থেকে বিশ্বনাথের সাইড ভলিতে মাথা ছোয়ান তপু। গোলের পর জার্সি খুলে বুনো উল্লাসে ফেটে পড়েন অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার। গ্যালারিতে বাংলাদেশী দর্শকেরাও মাতেন জয়ের আনন্দে। শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ।

আজকের সিলেট/এপি

সিলেটজুড়ে


মহানগর