ফাইল ছবি
বোরো ধানে মাঠ ভরা কৃষকের। এখন হাসিমুখে ব্যস্ততা থাকার কথা ফসল তোলার। কিন্তু সেই হাসি কেড়ে নিয়েছে আকস্মিক বন্যার ভয়াল বার্তা। সেকারনে সিলেট বিভাগের চার জেলায় এখন নতুন আতঙ্ক আকস্মিক বন্যা।
পাউবোর তথ্যমতে আকস্মিক বন্যা হওয়ার রয়েছে ব্যাপক আশঙ্কা। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বলছে, উজানে ভারতের পাহাড়ী অঞ্চলে ভারি বৃষ্টিপাত হওয়ায় সুরমা-কুশিয়ারাসহ বিভিন্ন নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে বন্যার এই শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এছাড়া সিলেট বিভাগে টানা চারদিন ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। এতে বিভিন্ন এলাকায় অস্থায়ী জলাবদ্ধতা তৈরি হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে। তা্দের সেই সর্তকতা ভূল হয়নি।
শনিবার বেলা ১টার দিকে সিলেটের আকাশ কালো অন্ধকারে ঘিরে ধরে। তৈরী হয় এক ভয়ার্থ পরিবেশ। এরপর ঝড়ো হাওয়ার ও শুরু হয় হালকা বৃষ্টি।
এদিকে, আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, শনিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ৯৬ ঘণ্টায় সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী (৪৪–৮৮ মিলিমিটার) থেকে অতি ভারী (১৮৮ মিলিমিটার) বৃষ্টিপাত হতে পারে। পূর্বাভাসে আরও বলা হয়, দেশের উত্তরাঞ্চল ও তৎসংলগ্ন এলাকায় গভীর সঞ্চালনশীল মেঘমালা তৈরি হয়ে তা অব্যাহত থাকতে পারে। এর প্রভাবে সিলেটসহ আশপাশের এলাকায় স্বল্প সময়ে বেশি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এ ধরনের ভারী বর্ষণের কারণে সিলেট মহানগরের নিচু এলাকায় অস্থায়ী জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতে পারে।
অপরদিেক, বন্যা পূবার্ভস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (বাপাউবো) ঢকার সহকারী প্রকৌশলী মো: মাহমুদুল ইসলাম শোভন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলেছেন, সিলেট-সুনামগঞ্জের সুরমা-কুশিয়ার নদীর পানি সমতল আজ ও কাল ( রোববার) স্থিতিশীল থাকতে পারে। আগামী সোমবার_বৃদ্ধি পেতে পারে।
এছাড়া আগামী সাতদিন (২৩ থেকে ৩০ এপ্রিল) সামগ্রিকভাবে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওর অববাহিকা ও তৎসংলগ্ন উজানে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত সংঘটিত হতে পারে। দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ ও নেত্রকোণার নিম্নাঞ্চলে আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টির ঝুঁকি রয়েছে।
এদিকে সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে সময়ের চাকা যেন কৃষকের প্রতিকূলে ঘুরছে। অতিবৃষ্টি আর বজ্রপাতের আতঙ্ক পেরিয়ে যখন ধান ঘরে তোলার স্বপ্নে বিভোর কৃষকরা, তখনই নতুন আপদ হিসেবে দেখা দিয়েছে আগাম বন্যার শঙ্কা। নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় ফসল হারানোর ভয়ে আধা-পাকা ধানই কেটে ঘরে তুলছেন দুশ্চিন্তাগ্রস্ত কৃষকরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে সুনামগঞ্জের কৃষকদের একের পর এক বিপর্যয়ের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। মে মাসের শুরু থেকে জলাবদ্ধতা এবং গত ১৮ এপ্রিল বজ্রপাতে পাঁচ কৃষকের মৃত্যুর ঘটনায় হাওরে ধান কাটা ব্যাহত হয়। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই এখন সুরমা, কুশিয়ারা ও বৌলাইসহ প্রধান নদ-নদীর পানি বাড়তে থাকায় হাওরজুড়ে বন্যার আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
আজকের সিলেট/এপি
নিজস্ব প্রতিবেদক 








