১৬ দিন সেবা বন্ধ ক্যামেলিয়া হাসপাতালে, বিপাকে লাখো শ্রমিকরা
শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:২০ AM

১৬ দিন সেবা বন্ধ ক্যামেলিয়া হাসপাতালে, বিপাকে লাখো শ্রমিকরা

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৩/০৪/২০২৬ ১২:০০:২৫ PM

১৬ দিন সেবা বন্ধ ক্যামেলিয়া হাসপাতালে, বিপাকে লাখো শ্রমিকরা


মৌলভীবাজারের শমশেরনগর চা বাগান এলাকার ক্যামেলিয়া ডানকান ফাউন্ডেশন হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা টানা ১৬ দিন ধরে বন্ধ রয়েছে। এতে চরম দুর্ভোগে ওই এলাকার চা শ্রমিকরা।

হাসপাতালটি বন্ধ থাকা অবস্থায় ডানকান ব্রার্দাসের বিভিন্ন চা বাগানে ৫জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় চা শ্রমিক নেতরা।

স্থানীয় চা শ্রমিক নেতা সীতারাম বীন বলেন, ক্যামেলিয়া হাসপাতালে দ্রুত চিকিৎসাসেবা শুরু করতে কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করছি, অতীতের মতো সব ধরনের অপারেশন চালুসহ শিশু মৃত্যুর কারণ তদন্ত, হাসপাতালে সংঘটিত অপ্রীতিকর ঘটনার তদন্তসহ সব বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

ঘটনার সূত্রপাত এক কিশোরীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে। সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী ঐশি রবিদাস (১৩) মাথাব্যথা নিয়ে গত ২৬ মার্চ বিকেলে হাসপাতালে ভর্তি হয়। রাতে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে স্থানান্তরের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেন। তবে পরিবারের সদস্যরা রাতে স্থানান্তরে রাজি না হওয়ায় পরদিন সকালে হাসপাতালেই তার মৃত্যু হয়।

এই মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে শ্রমিকদের মধ্যে। স্থানীয় এক নেতার নেতৃত্বে একদল লোক হাসপাতালে হামলা চালায়, ভাঙচুর করে এবং চিকিৎসকদের হেনস্তা করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ হস্তক্ষেপ করলেও নিরাপত্তাহীনতায় চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা হাসপাতাল ত্যাগ করেন। এরপর থেকেই হাসপাতালের কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।

চা শ্রমিকদের জন্য এই হাসপাতাল ছিল একমাত্র নির্ভরযোগ্য চিকিৎসাকেন্দ্র। নব্বইয়ের দশকে ইংল্যান্ডভিত্তিক ক্যামেলিয়া ডানকান ফাউন্ডেশন এই হাসপাতালটি প্রতিষ্ঠা করে। যেখানে বাগানের শ্রমিক, তাদের পরিবার এবং কর্মকর্তারা নিয়মিত চিকিৎসাসেবা পেতেন। জরুরি প্রয়োজনে আশপাশের সাধারণ মানুষও এখান থেকে সেবা গ্রহণ করতেন।

বর্তমানে হাসপাতাল বন্ধ থাকায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন চা শ্রমিক পরিবারগুলো।

একাধিক নারী চা শ্রমিক বলেন, এই হাসপাতালই ছিল আমাদের ভরসা। অভিযোগ থাকলে তদন্তের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া যেত। কিন্তু এখন আমরা চিকিৎসা থেকে পুরোপুরি বঞ্চিত।

শুধু হাসপাতাল নয়, একই ফাউন্ডেশনের অধীনস্থ লংলার ক্যামেলিয়া স্কুলের কার্যক্রম নিয়েও দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য দুই খাতেই সেবা বন্ধ হয়ে গেলে সবচেয়ে বড় ক্ষতির মুখে পড়বে চা শ্রমিক পরিবারগুলোর সন্তানরা।

ঘটনার পর ২৯ মার্চ শমশেরনগর চা বাগানে একটি জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও হাসপাতাল চালুর বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ইংল্যান্ডে অবস্থিত ফাউন্ডেশনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নির্দেশনা ছাড়া কার্যক্রম পুনরায় চালু করা সম্ভব নয়। ইতোমধ্যে ঘটনাটির তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে বলে জানা গেছে।

বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রামভজন কৈরী বলেন, ‘ঐশির মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। তবে এ ঘটনায় হাঙ্গামা না করে তদন্তের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত ছিল। দ্রুত হাসপাতালের সেবা চালুর দাবি জানাই।

এবিষয়ে জানতে চাইলে শমশেরনগর চা বাগান ব্যবস্থাপক ও ডানকান ব্রাদার্সের উপ-মহাব্যবস্থাপক মো. কামরুজ্জামান বলেন, ‘হাসপাতালটি সম্পূর্ণ আলাদা একটি ফাউন্ডেশনের অধীনে পরিচালিত হওয়ায় তাদের সরাসরি হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই। তবে চিকিৎসাসেবা বন্ধ থাকায় শ্রমিকদের দুর্ভোগের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

এদিকে শ্রমিকদের মধ্যে আশঙ্কা বাড়ছে কেবল সাময়িক বন্ধ নাকি স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যাবে তাদের একমাত্র চিকিৎসাকেন্দ্র? উত্তর এখনও অজানা। তবে দ্রুত সমাধান না এলে স্বাস্থ্যঝুঁকি আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।

এ বিষয়ে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘চা শ্রমিক নেতৃবৃন্দ আমার কাছে এসেছিলেন হাসপাতালটি পুনরায় চালু করার জন্য। আমি বিষয়টি নিয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করবো। আশা করছি দ্রুত সময়ের ভিতরে এটি চালু হবে এবং চা শ্রমিকরা সেবা নিতে পারবে।

আজকের সিলেট/এপি

সিলেটজুড়ে


মহানগর