কুশিয়ারার ভাঙনে ধ্বংসের মুখে বিয়ানীবাজারের প্রাচীন বাজার
রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৫১ PM

কুশিয়ারার ভাঙনে ধ্বংসের মুখে বিয়ানীবাজারের প্রাচীন বাজার

বিয়ানীবাজার প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৯/০৪/২০২৬ ০৩:৩০:৪০ PM

কুশিয়ারার ভাঙনে ধ্বংসের মুখে বিয়ানীবাজারের প্রাচীন বাজার


দুই শত বছরের পুরোনো ঐতিহ্যবাহী বিয়ানীবাজারের প্রাচীনতম বাণিজ্যিক কেন্দ্র বৈরাগী বাজার এখন বিলুপ্তির পথে। কুশিয়ারা নদীর তীরঘেঁষা এই বাজারটি কালের বিবর্তনে যেমন হারিয়েছে তার পুরোনো জৌলুস, তেমনি ভয়াবহ নদীভাঙনে প্রতিনিয়ত সংকুচিত হয়ে পড়ছে এর অস্তিত্ব।

উপজেলার কুড়ার বাজার ইউনিয়নে অবস্থিত বৈরাগী বাজার একসময় ছিল এলাকার প্রধান বাণিজ্যকেন্দ্র। সিলেটসহ বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ব্যবসায়ীরা নৌপথে পণ্য নিয়ে এখানে আসতেন। সেই জমজমাট বাজার এখন স্মৃতির পাতায় ঠাঁই নিচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বাজারের ভেতর দিয়ে যাওয়া একমাত্র সংযোগ সড়কটি ইতোমধ্যে কুশিয়ারা নদীতে বিলীন হয়ে গেলেও এখনো কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি উপজেলা প্রশাসন।

ব্যবসায়ীরা জানান, স্বাধীনতার আগ থেকেই বৈরাগী বাজার ছিল বিয়ানীবাজার উপজেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাজার। কয়েকটি ইউনিয়নের মানুষের যাতায়াত ও বাণিজ্যের প্রধান মাধ্যম ছিল এই সড়ক। কিন্তু নদীভাঙনে ইতোমধ্যে ১০০ মিটারের বেশি এলাকা নদীগর্ভে চলে গেছে।

বৈরাগী বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আখতারুজ্জামান আজব আলী বলেন, বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতায় বাজারের অবস্থা আরও খারাপ হয়ে যায়। সামান্য বৃষ্টিতেই ভেঙে পড়ে বাজারের বিভিন্ন অংশ।

বণিক সমিতির সভাপতি আব্দুল কালাম মনু বলেন, এই রাস্তা দিয়ে কয়েকটি পরিবারের একমাত্র যাতায়াত। শিক্ষার্থী ও মুসল্লিরাও এই পথ ব্যবহার করেন। স্থানীয় উদ্যোগে বাঁধ দেওয়া হলেও টেকসই সমাধান হচ্ছে না।

এলাকাবাসী জানান, বৈরাগী বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে যাওয়ার একমাত্র পথও এই সড়কটি। ভাঙনের কারণে মুসল্লিদের চলাচলে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছে।

মসজিদের ইমাম ও খতিব শামসুল ইসলাম বেলালী বলেন, বর্ষা মৌসুমে রাস্তা নদীর পানির সাথে একাকার হয়ে যায়। এতে মুসল্লিদের যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ডা. শামছুল হক বলেন, বিভিন্ন দপ্তরে বহুবার যোগাযোগ করেও স্থায়ী কোনো সমাধান পাইনি। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ঐতিহ্যবাহী এই বাজার হারিয়ে যাবে।

স্থানীয়রা জানান, শুধু বৈরাগী বাজার নয়—কুশিয়ারা নদীর ভাঙনে ইতোমধ্যে বহু বসতভিটা, রাস্তাঘাট ও ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। বাজারটি রক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে হাবিবা মজুমদার জানান, নদীভাঙন কবলিত স্থান পরিদর্শন করা হয়েছে এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। বর্ষার আগেই ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা চলছে।

আজকের সিলেট/এপি/প্রতিনিধি

সিলেটজুড়ে


মহানগর