হাওরে জলাবদ্ধতা: ফসল বাঁচাতে কৃষকদের বাঁধ কেটে পানি নিষ্কাশন উদ্যোগ
রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৫৩ PM

হাওরে জলাবদ্ধতা: ফসল বাঁচাতে কৃষকদের বাঁধ কেটে পানি নিষ্কাশন উদ্যোগ

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৪/০৪/২০২৬ ০১:০৯:৫৯ PM

হাওরে জলাবদ্ধতা: ফসল বাঁচাতে কৃষকদের বাঁধ কেটে পানি নিষ্কাশন উদ্যোগ


কয়েকদিনের টানা অতিবৃষ্টিতে সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার দেখার হাওরের প্রায় ১২০০ হেক্টর ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় ক্ষুব্ধ কৃষকরা শেষ পর্যন্ত ফসল রক্ষা বাঁধ কেটে পানি নামানোর উদ্যোগ নিয়েছেন।

শুক্রবার সকালে উপজেলার পূর্ব পাগলা ইউনিয়নের কাড়াড়াই এলাকায় ১৯ নম্বর প্রকল্পের ক্লোজার বাঁধ ভেকু মেশিন দিয়ে কেটে দেন কয়েকশ কৃষক। 

সরেজমিনে দেখা যায়, হাওরের ভেতরে জমে থাকা অতিরিক্ত পানি বের হওয়ার কোনো পথ না থাকায় ব্যাপক জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। এতে সোনালী বোরো ধান পানির নিচে তলিয়ে কৃষকদের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এর আগে বুধবার একই ইউনিয়নের ১৬ নম্বর প্রকল্পের পুটিয়া নদীর ক্লোজার বাঁধও কেটে দেন স্থানীয় কৃষকরা। ওই বাঁধ কাটার পর পানি কিছুটা কমায় স্বস্তি ফিরে আসায় এবার কাড়াড়াই বাঁধ কেটে পানি নিষ্কাশনের কাজ শুরু করেন তারা।

স্থানীয় কৃষক ছমির উদ্দিন ছালেহ বলেন, “হাজার হাজার হেক্টর ফসল চোখের সামনে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। প্রশাসনের কাছে বারবার গিয়েছি, কিন্তু কোনো সমাধান পাইনি। তাই বাধ্য হয়ে নিজেরাই বাঁধ কেটে পানি নামাচ্ছি। পরে আবার নিজেরাই ঠিক করে দেব।”

পূর্ব পাগলা ইউনিয়নের ইউপি সদস্য ছাদেক মিয়া জানান, উপজেলা প্রশাসনের কাছে একাধিকবার আবেদন করা হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। পরে মৌখিকভাবে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বাঁধ পুনর্নির্মাণের শর্তে কৃষকদের নিজ উদ্যোগে বাঁধ কাটার সিদ্ধান্ত হয়। এজন্য স্থানীয়ভাবে চাঁদা তুলে খরচের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।

১৬ নম্বর প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি ও ইউপি সদস্য ছালিক মিয়া বলেন, আমাদেরও জমি হাওরে আছে। কৃষকরা চরম সংকটে পড়েছেন। পানি নামানোর পর সবাই মিলে আবার বাঁধ নির্মাণ করা হবে।

ইউপি চেয়ারম্যান মাসুক মিয়া বলেন, কৃষকদের দুর্ভোগের বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তবে পরিস্থিতির চাপে কৃষকরাই নিজেরা উদ্যোগ নিয়েছেন।

এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান বলেন, কৃষকরা বাঁধ কাটার আগে আমাদের অবগত করেছেন। আমরা সার্ভে করেছি, তবে কোনো আনুষ্ঠানিক অনুমতি দেওয়া হয়নি। তারা নিজেরাই বাঁধ কেটে আবার ঠিক করবেন বলে জানিয়েছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, আমি সরেজমিনে গিয়ে পরিস্থিতি দেখেছি। কৃষকরা ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বাঁধ পুনর্নির্মাণের আশ্বাস দিয়েছেন। তবে ভবিষ্যতে বাঁধ নির্মাণে এমন পরিকল্পনা থাকা উচিত, যাতে বাইরের পানি ঠেকানোর পাশাপাশি ভেতরের পানি বের হওয়ার ব্যবস্থাও থাকে।

আজকের সিলেট/এপি

সিলেটজুড়ে


মহানগর