ওসমানীনগরে হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামীণ হস্তশিল্প
রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:০১ PM

ওসমানীনগরে হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামীণ হস্তশিল্প

ওসমানীনগর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৮/০৩/২০২৬ ১২:৩১:৫৩ PM

ওসমানীনগরে হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামীণ হস্তশিল্প


এক সময়ের সমৃদ্ধ ও ঐতিহ্যবাহী ওসমানীনগর উপজেলার গ্রামীণ জনপদে খুঁজে পাওয়া যেত নানা ধরনের হস্তশিল্প ও কৃষিজ উপকরণ যা শুধু প্রয়োজন নয়, বরং ছিল সংস্কৃতির অংশ। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আধুনিকতার ছোঁয়ায় হারিয়ে যেতে বসেছে সেই ঐতিহ্যবাহী লাঙ্গল, জোয়াল, হারিকেন, কুপি, খলই, চাচ, ড্রাম, বাঁশের ছাতা, হালের বলদ, পাট, তালের পাতা দিয়ে তৈরি হরেক রকমের গৃহস্থালি দ্রব্যাদি।

কালের আবর্তে কৃষকের চাষের প্রধান সহকারী লাঙ্গল ও বলদ এখন আর চোখে পড়ে না। আধুনিক যন্ত্রচালিত ট্রাক্টর ও পাওয়ার টিলার তার জায়গা দখল করে নিয়েছে। জোয়াল, যা দুই বলদের ঘাড়ে ফেলে হাল টানতে ব্যবহৃত হতো, সেটিও এখন স্মৃতির পাতায়।

রাতের অন্ধকারে আলো জ্বালানোর একমাত্র ভরসা ছিল হারিকেন, কুপি কিংবা কুইন লাইট। বিদ্যুৎ থাকুক আর না থাকুক, এক সময় এগুলোই আলোকিত করত প্রতিটি ঘর। আজকের এলইডি বা সোলার লাইটের যুগে হারিকেন বা কুপির কদর এখন শুধুই ঐতিহাসিক।

তালের পাতা ও বাঁশ-বেত দিয়ে তৈরি হরেক রকমের শিল্প যেমনÑ ছাতা, চালুনি, খাঁচা, খলই, চাচ, ডালি, মই প্রভৃতি এক সময় ঘরে ঘরে তৈরি হতো। এসব দ্রব্য শুধু গৃহস্থালির কাজে নয়, উৎসব বা সামাজিক আচার-অনুষ্ঠানের অন্যতম উপাদান ছিল। আজ সেগুলোর জায়গা নিয়েছে প্লাস্টিক ও ধাতব সামগ্রী।

এছাড়া মাটির কলস, হাঁড়ি-পাতিল, পানির ঘড়া ও রান্নার মাটির চুলা একসময় প্রতিটি বাড়িতে অপরিহার্য ছিল। এখন মাটির পরিবর্তে এসেছে অ্যালুমিনিয়াম, স্টিল কিংবা প্লাস্টিকের আধুনিক সামগ্রী। ফলে কুমার পল্লীগুলোতেও মাটির তৈরি শিল্পের কদর এখন হারিয়ে যাচ্ছে।

স্থানীয় প্রবীণদের মতে, এ অঞ্চলের নিজস্ব পণ্য ও প্রযুক্তি আমাদের সংস্কৃতির অংশ। এগুলোর অবলুপ্তির সঙ্গে সঙ্গে হারিয়ে যাচ্ছে আমাদের শিকড়, ইতিহাস ও লোকজ ঐতিহ্য।

সচেতন মহল মনে করেন, এই হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য রক্ষায় চাই সচেতনতা, গবেষণা, ও সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ের উদ্যোগ। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের মাঝে লোকজ সংস্কৃতি বিষয়ে সচেতনতা তৈরির পাশাপাশি হস্তশিল্প প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, স্থানীয় মিউজিয়াম বা হেরিটেজ কর্নার গড়ে তোলা সময়ের দাবি।

স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্নে গ্রামীণ ঐতিহ্য সংরক্ষণও হতে পারে অন্যতম স্তম্ভ। তাই এখনই প্রয়োজন, ওসমানীনগরের ঐতিহ্যবাহী পেশা ও উপকরণগুলোকে দলিলভুক্ত করে তা পুনর্জাগরণের বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা গ্রহণ।

আজকের সিলেট/ডি/এসটি

সিলেটজুড়ে


মহানগর