জ্বালানি তেল বিক্রিতে রেশনিং পদ্ধতি চালুর পর হবিগঞ্জ জেলায় প্রতিদিন পেট্রোল, ডিজেল ও অকটেন মিলিয়ে প্রায় ১ লাখ ৯১ হাজার লিটার ঘাটতি দেখা দিচ্ছে। জেলার ১৯টি ফিলিং স্টেশনে দৈনিক চাহিদা প্রায় ২ লাখ ৭৫ হাজার লিটার হলেও ডিপো থেকে সরবরাহ মিলছে মাত্র ৮৪ হাজার লিটার। এতে করে মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকার চালকেরা সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়ছেন। জ্বালানি সংকটের কারণে অনেক পেট্রোল পাম্পে অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে।
শায়েস্তাগঞ্জের চৌধুরী ফিলিং স্টেশনে ক্রেতাদের সঙ্গে কর্মচারীদের বাকবিতণ্ডার ঘটনা ঘটেতে দেখা যায়। মোটরসাইকেলে সর্বোচ্চ ২ লিটার এবং ব্যক্তিগত গাড়িতে ১০ লিটার পেট্রোল বা অকটেন দেওয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে চালকেরা হট্টগোল করেন।
পেট্রোলিয়াম ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের তথ্যে জানা গেছে, জেলায় মোট ১৯টি ফিলিং স্টেশন রয়েছে। এর মধ্যে বাহুবল উপজেলায় ৮টি, মাধবপুর, চুনারুঘাট ও নবীগঞ্জে ২টি করে, শায়েস্তাগঞ্জ ও বানিয়াচংয়ে ১টি করে এবং সদর উপজেলায় ৩টি পাম্প রয়েছে।
এসব পাম্পে মোট চাহিদার মাত্র ৩১ শতাংশ পেট্রোল, ডিজেল ও অকটেন সরবরাহ দিচ্ছে ডিপো। ফলে বাকি ৬৯ শতাংশ চাহিদা অপূর্ণ থেকে যাচ্ছে।
জেলায় অকটেনের দৈনিক চাহিদা ২৫ হাজার লিটার হলেও রেশনিং পদ্ধতিতে ডিপো সরবরাহ দিচ্ছে মাত্র ৭ হাজার লিটার। পেট্রোলের চাহিদা ৫০ হাজার লিটারের বিপরীতে সরবরাহ মিলছে ২০ হাজার লিটার এবং ২ লাখ লিটার ডিজেলের চাহিদার বিপরীতে দেওয়া হচ্ছে মাত্র ৫৭ হাজার লিটার। ফলে প্রতিদিন ১৮ হাজার লিটার অকটেন, ৩০ হাজার লিটার পেট্রোল এবং ১ লাখ ৪৩ হাজার লিটার ডিজেলের ঘাটতি তৈরি হচ্ছে।
অ্যাসোসিয়েশনের হবিগঞ্জের সদস্যসচিব ও চৌধুরী ফিলিং স্টেশনের মালিক মাহবুবুর রহমান চৌধুরী হেলাল বলেন, হরমুজ প্রণালীর প্রতিকূল অবস্থার কোনো প্রভাব এখনো বাংলাদেশে পড়েনি। হবিগঞ্জের দুটি কূপে উৎপাদিত বিপুল পরিমাণ তেল প্রতিদিন সারাদেশে সরবরাহ করা হচ্ছে।
তবে ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি বিবেচনায় জ্বালানি সঞ্চয়ের কথা মাথায় রেখে অপ্রয়োজনীয় যান চলাচল সীমিত করা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন। অন্যথায় গাড়ির সংখ্যা বেশি রেখে সরবরাহ কম হলে পেট্রোল পাম্পগুলোতে অস্থিরতা কাটবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আজকের সিলেট/ডি/এসটি
হবিগঞ্জ প্রতিনিধি 








