জগন্নাথপুরে অল্প বৃষ্টিতে বেড়িবাঁধে ফাটল, আতঙ্কে কৃষকরা
রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৩৫ PM

জগন্নাথপুরে অল্প বৃষ্টিতে বেড়িবাঁধে ফাটল, আতঙ্কে কৃষকরা

জগন্নাথপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৫/০৩/২০২৬ ০১:৩১:২০ PM

জগন্নাথপুরে অল্প বৃষ্টিতে বেড়িবাঁধে ফাটল, আতঙ্কে কৃষকরা


​সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলায় গত দুই রাতের  বৃষ্টিতে কয়েকটি ফসল রক্ষা বেড়িবাঁধে ফাটল ও ধস দেখা দিয়েছে। এত স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

কৃষকদের অভিযোগ, দায়সারা বাঁধ নির্মাণের কারণে ফসল রক্ষা বেড়িবাঁধ নির্মাণ সংস্কার কাজ নিয়ে দুশ্চিন্তায় ভুগছেন তারা। এমনকি এখনও পুরোপুরিভাবে শেষ হয়নি বেড়িবাঁধের কাজ। ফলে হাওরের বোরো ধান তুলা নিয়ে শঙ্কায় দিন কাটছে তাদের।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার নলুয়ার হাওরের ১১ নম্বর প্রকল্পে দ্বিতীয় দফা সময় বৃদ্ধির (১৫ দিন আবেদনের পরও) শনিবার পর্যন্ত মাটির কাজ শেষ হয়নি। অপরদিকে ৩ নম্বর প্রকল্প, আশারকান্দি ইউনিয়নের ৯৪ নম্বর প্রকল্পে ফাটল দেখা দিয়েছে। তাছাড়া মিরপুর ইউনিয়নে অবস্থিত জামাইকাটা হাওরের একটি গুরুত্বপূর্ণ বেড়িবাঁধে ফাটল ও ধস দেখা দেয়ায় চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন কৃষকরা।

কৃষকদের অভিযোগ, এবার প্রাক্কলন অনুযায়ী বাঁধের কাজ না হওয়ায় দায়সারা বাঁধ নির্মাণ করে বরাদ্দকৃত অর্থ লুটপাট করা হয়েছে। ফলে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল আর অকাল বন্যার আশঙ্কায় হাজার হাজার হেক্টর জমির বোরো ফসল নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

জামাইকাটা হাওরের ৩৬ নং প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির মাধ্যমে  ০.০৫৮ কি.মি. দৈর্ঘ্যর বাধ নির্মান / মুখ বন্ধ করন কাজের জন্য ৮ লক্ষ ছয় লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়।

স্হানীয় কৃষক তানভির মিয়া অভিযোগ করে বলেন, ৮ লক্ষ টাকা বরাদ্দের মধ্যে ৩ লক্ষ টাকারও কাজ হয়নি। দায়সারা বাঁধ নির্মাণের ফলে সামান্য বৃষ্টিতে বাঁধ ধসে পড়েছে।

কৃষক আশাফ আলী বলেন, এই বেড়িবাঁধ নিয়ে আমরা আতংকে রয়েছি। যদি বাঁধ ভেঙে হাওরে পানি ঢুকে পড়ে তবে মিরপুর ইউনিয়নসহ আশপাশের কয়েক হাজার কৃষকের স্বপ্ন তলিয়ে যাবে। আমরা এখন রাতে ঘুমাতে পারছি না।

মিরপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য খলিলুর রহমান বলেন, জামাই কাটা হাওরে বেড়িবাঁধের কাজ ভালো হয়নি। কৃষকরা প্রতিদিন আতঙ্কের কথা জানাচ্ছেন। দ্রুত এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে হবে।

প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি মো. গয়াছুর রহমান বলেন, আমি কোন ফাটল বা ধস দেখতে পাইনি। এই হাওরে আমার নিজের অনেক জমি রয়েছে। কাজ পুরোপুরি শেষ হয়নি এখনো। বাঁধের ত্রুটি মেরামত  করে দিবো।

জগন্নাথপুর উপজেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ সহকারী প্রকৌশলী শাহ ফরিদ মিয়া বলেন, জামাই কাটা হাওরে বেড়িবাঁধে ফাটল  শুনেছি। এছাড়াও ৩ ও ৯৪ নম্বর প্রকল্পে সামান্য ফাটল দেখা দিয়েছে। সেগুলো মেরামত করা হয়েছে। ১১ নম্বর প্রকল্পের অসমাপ্ত কাজ শেষ করতে কাজ চলমান রয়েছে।

জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরকত উল্লাহ জানান, আমরা হাওরের ফসল রক্ষা বেড়িবাঁধের কাজ তদারকি করছি। আশা করছি কোন সমস্যা হবে না।

আজকের সিলেট/ডি/এসটি

সিলেটজুড়ে


মহানগর