গোলাপগঞ্জ উপজেলার বুধবারীবাজার ইউনিয়নের কালিজুরী দক্ষিণ পাড়া গ্রামে অবস্থিত ‘সাকু বিল’ জলমহালকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। আদালতের জারি করা ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করেই দুটি মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি যেকোনো সময় সংঘর্ষে লিপ্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। পবিত্র মাহে রমজানের প্রাক্কালে এমন পরিস্থিতিতে জানমালের বড় ধরনের ক্ষতির শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন এলাকাবাসী।
জানা যায়, সাকু বিল জলমহালটি ইজারা পায় ‘কালীজুরী দক্ষিণ পাড়া মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেড’। তবে সমিতির ২ জন সদস্য প্রবাসে থাকা এবং ৩ জন সদস্য মৃত্যুবরণ করায় জটিলতা সৃষ্টি হয়। জেলা সমবায় কর্মকর্তা প্রথমে সমিতিটি অবসায়নের আদেশ দিলেও পরবর্তীতে বিভাগীয় সমবায় কর্মকর্তা সেই আদেশ প্রত্যাহার করেন। এই আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতার সুযোগে জলমহালটির দখল নিয়ে দুটি পক্ষের মধ্যে বিরোধ তুঙ্গে ওঠে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২, সিলেট উক্ত জলমহালে ফৌজদারী কার্যবিধির ১৪৪ ধারা জারি করেন (সূত্র: বিবিধ ১৬/২০২৬)। আদালতের আদেশে সংশ্লিষ্ট উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি)’কে দখল বিষয়ক সুস্পষ্ট প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে গোলাপগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জকে (ওসি) নালিশি জমিতে স্থিতাবস্থা বজায় রাখা এবং আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আদালতের স্থিতাবস্থার আদেশ থাকলেও মাঠ পর্যায়ে উত্তেজনা কমেনি। যেকোনো সময় ১৪৪ ধারা ভেঙে দুই পক্ষ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
এলাকাবাসী ও মৎস্যজীবী সম্প্রদায়ের লোকজন জানান, “চলছে পবিত্র রমজান মাস। এই সময়ে যদি বড় কোনো সংঘর্ষ ঘটে, তবে এলাকায় শান্তি বিনষ্ট হবে। আমরা চাই প্রশাসন দ্রুত কঠোর পদক্ষেপ নিক এবং ১৪৪ ধারার মেয়াদ বৃদ্ধি করে রক্তপাত বন্ধ করুক।”
আদালতের আদেশের অনুলিপি ইতিমত্যে পুলিশ সুপার, সিলেট এবং গোলাপগঞ্জ থানায় প্রেরণ করা হয়েছে। পুলিশ প্রশাসনকে শান্তি রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হলেও স্থানীয়রা আরও নিবিড় তদারকির দাবি জানিয়েছেন।
আজকের সিলেট/এপি/প্রতিনিধি
গোলাপগঞ্জ প্রতিনিধি 








