অনিশ্চয়তায় শাকসু নির্বাচন
বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬, ০২:৫৯ PM

অনিশ্চয়তায় শাকসু নির্বাচন

শাবি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৮/০৩/২০২৬ ০১:০৭:০৫ PM

অনিশ্চয়তায় শাকসু নির্বাচন


শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) নির্বাচন ঘিরে নাটকীয়তা যেন থামছেই না। ২৮ বছর পর বহুল প্রত্যাশিত এই নির্বাচন একাধিকবার তারিখ পরিবর্তন, নির্বাচন কমিশনের সদস্যদের পদত্যাগ, হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ এবং নতুন করে একাডেমিক সূচির চাপের কারণে আবারও অনিশ্চয়তায় পড়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. এম. সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী প্রথমে নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে নির্বাচনের কথা বলেছিলেন। পরে ডিসেম্বর মাসে নির্বাচন আয়োজনের আলোচনা হলেও শীতকালীন ছুটি বিবেচনায় নিয়ে চূড়ান্তভাবে ২০২৬ সালের ২০ জানুয়ারি ভোটগ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করা হয়। এর আগে গত ২ নভেম্বর নির্বাচন কমিশন গঠনের পাঁচ দিনের মাথায় ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে চার কমিশনার পদত্যাগ করেন। ভোটের একদিন আগে, ১৯ জানুয়ারি বিএনপিপন্থী আটজন শিক্ষক নির্বাচন কমিশন থেকে সরে দাঁড়ান।

এর মধ্যে ১৮ জানুয়ারি শাকসু নির্বাচন স্থগিতের দাবিতে হাইকোর্টে রিট করেন স্বতন্ত্র ভিপি প্রার্থী মমিনুর রশিদ শুভ। রিটের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত চার সপ্তাহের জন্য নির্বাচন স্থগিতের আদেশ দেন। ফলে নির্ধারিত দিনে ভোটগ্রহণ আর হয়নি। ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি ওই চার সপ্তাহ অতিক্রম করলে কিছু শিক্ষার্থী অভ্যন্তরীণ ফেসবুক গ্রুপে পুনরায় নির্বাচনের আয়োজনের দাবিতে লেখালেখি শুরু করেন। তবে নির্বাচন কমিশনার কার্যালয় থেকে এ বিষয়ে স্পষ্ট কোনো বার্তা পাওয়া যায়নি।

দীর্ঘ ২৮ বছর পর শাকসু নির্বাচনকে ঘিরে পুরো ক্যাম্পাসে উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছিল। জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবির সমর্থিত প্যানেলের পাশাপাশি সাধারণ শিক্ষার্থীরা আরও দুটি প্যানেলে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। স্বতন্ত্র প্যানেল ছাড়াও অনেকে ব্যক্তিগতভাবে প্রার্থী হন। সেই সিদ্ধান্ত থেকে পুরোদমে প্রচারণা চলতে থাকে। দলীয় প্যানেলের বাইরে থাকা প্রার্থীদের অধিকাংশকেই নির্বাচনী ব্যয় বহন করতে হয়েছে নিজস্ব অর্থে টিউশনের জমানো টাকা বা ব্যক্তিগত উৎস থেকে। অন্যদিকে দলীয় প্যানেলের প্রার্থীরা সংগঠনগত সহায়তা পেয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে পুনরায় নির্বাচন হলে স্বতন্ত্র ও অন্যান্য প্যানেলের প্রার্থীদের জন্য আর্থিক বৈষম্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এদিকে, ঈদের পর সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা, যা প্রায় এক মাসব্যাপী চলবে। জাতীয় নির্বাচন কমিশনার মাসউদ ঈদের পর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের আভাসও দিয়েছেন। এর আগে জাতীয় নির্বাচনের দোহাই দিয়েও শাকসু নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছিল। সব মিলিয়ে প্রশ্ন উঠেছে- কবে হবে শাকসু নির্বাচন? ২৮ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটবে কবে?

জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের এজিএস প্রার্থী মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, শাকসু কেবল একটি নির্বাচন নয়, এটি শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক অধিকার ও নেতৃত্ব বিকাশের গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম। ২০ জানুয়ারিকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে উল্লেখযোগ্য উদ্দীপনা তৈরি হয়েছিল। বিভিন্ন বিভাগে ক্লাস-পরীক্ষা কিছুটা শিথিল ছিল এবং শিক্ষার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ চোখে পড়ার মতো ছিল। কিন্তু জাতীয় নির্বাচন ও আসন্ন সেমিস্টার ফাইনালের চাপে একাডেমিক সূচি অত্যন্ত ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। ঈদের পর প্রায় সব বিভাগেই ফাইনাল পরীক্ষা শুরু হওয়ায় বর্তমানে শাকসু নিয়ে আগ্রহ কিছুটা কমে এসেছে। এটাই বাস্তবতা।

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেলের স্বাস্থ্য ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক পদপ্রার্থী আলী আব্বাস শাহীন বলেন, শাকসু শাবিপ্রবির শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক অধিকার, কিন্তু রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে শাকসুকে স্থগিত করে দেওয়া হয়েছিল। এখন যেহেতু হাইকোর্টের দেওয়া স্থগিতাদেশের মেয়াদ শেষ এবং আইনগত কোনো বাধা নেই, আমাদের দাবি যত দ্রুত সম্ভব শাকসু বাস্তবায়ন করা। সামনে সেমিস্টার ফাইনাল থাকায় পরীক্ষায় যাতে ব্যাঘাত না ঘটে সে রকম একটি সময়ে নির্বাচন আয়োজন করা উচিত।

ছাত্রদল প্যানেল থেকে বেরিয়ে আসা ভিপি প্রার্থী মো. মোস্তাকিম বিল্লাহ বলেন, বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে শাকসু আয়োজনের উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত হয়েছে এবং একপর্যায়ে তা স্থগিত হয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

আজকের সিলেট/ডি/এসটি

সিলেটজুড়ে


মহানগর