মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে আগামী ১৯ মে থেকে সিলেট বিভাগে অনির্দিষ্টকালের সড়ক পরিবহন শ্রমিক কর্মবিরতির ডাক দিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন, সিলেট বিভাগীয় কমিটি। ১৮ মে’র মধ্যে শ্রমিক নেতাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার না হলে ১৯ মে মঙ্গলবার ভোর ৬টা থেকে এ কর্মসূচি শুরু হবে।
বৃহস্পতিবার রাতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন সিলেট বিভাগীয় কমিটির জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
শ্রমিক নেতারা জানান, গত ২৭ এপ্রিল সিলেট কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় শ্রমিকদের দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় আহত দুই শ্রমিক পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
এ ঘটনায় নিহত শ্রমিক রিপন আহমদের বাবা ছাবলু মিয়া গত ৫ মে দক্ষিণ সুরমা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন সিলেট বিভাগীয় কমিটির সভাপতি হাজী ময়নুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলী আকবর রাজন, কোষাধ্যক্ষ আব্দুস শহিদ, সাবেক কোষাধ্যক্ষ সামছুল হক মানিক ও সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক নুর মিয়াসহ ২৯ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। এছাড়া অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৬০ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলা প্রত্যাহারের দাবিতেই অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছেন শ্রমিক নেতারা।
সভায় ফেডারেশনের বিভাগীয় নেতাদের পাশাপাশি সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার বিভিন্ন পরিবহন শ্রমিক সংগঠনের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন সিলেট বিভাগীয় কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি দেলোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক সজিব আলীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য দেন সুনামগঞ্জ জেলা বাস-মিনিবাস-কোচ-মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক নুরুল হক, সুনামগঞ্জ জেলা ট্রাক-পিকআপ-কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ফয়েজুর নুর ও সাধারণ সম্পাদক নুর উদ্দিন, সুনামগঞ্জ জেলা সিএনজি শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি কালা মিয়া, মৌলভীবাজার জেলা ট্রাক-পিকআপ-কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি অদুদ আহমদ, সিলেট জেলা ট্রাক-পিকআপ-কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের কার্যকরী সভাপতি কাওসার আহমদ, কোষাধ্যক্ষ বাদল আহমদ, সিলেট জেলা সিএনজি অটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আজাদ মিয়া, সিলেট জেলা ইমা-লেগুনা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ইনসান আলী, সিলেট জেলা বাস-মিনিবাস-কোচ-মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সহসাধারণ সম্পাদক মাহবুব মিয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল হাসনাত আবুল এবং প্রচার সম্পাদক হারিছ আলী।
সভায় নেতারা বলেন, কদমতলী বাস টার্মিনালের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিরপরাধ শ্রমিক নেতাদের আসামি করা হয়েছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। তারা ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেন।
নেতারা আরও বলেন, ঘটনার সময় সভাপতি হাজী ময়নুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলী আকবর রাজন ও কোষাধ্যক্ষ আব্দুস শহিদ নাজিরবাজারে একটি শ্রমিক সংগঠনের নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন। পরে সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখেন। তা সত্ত্বেও তাদের মামলায় আসামি করা হয়েছে।
শ্রমিক নেতারা অভিযোগ করেন, এ ঘটনার মাধ্যমে পরিবহন শ্রমিকদের ঐক্য নষ্টের ষড়যন্ত্র চলছে। তারা ১৮ মে’র মধ্যে মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে বলেন, দাবি পূরণ না হলে ১৯ মে ভোর ৬টা থেকে সিলেট বিভাগে সর্বাত্মক সড়ক পরিবহন শ্রমিক কর্মবিরতি শুরু হবে।
এই কর্মবিরতি কার্যকর হলে সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলায় বাস, মিনিবাস, ট্রাক, পিকআপ, কাভার্ডভ্যান, সিএনজি ও অন্যান্য গণপরিবহন চলাচল বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এতে সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আজকের সিলেট/ডি/এসটি
নিজস্ব প্রতিবেদক 








