ওসমানীনগর উপজেলায় দীর্ঘস্থায়ী তীব্র খরার কারণে হাওরাঞ্চলে বোরো ধান চাষ নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। অনাবৃষ্টির ফলে উপজেলার বিভিন্ন হাওর, নদী, খাল ও বিলের পানি শুকিয়ে যাওয়ায় বোরো মৌসুমে আবাদ করা ফসলি জমিতে সেচের মারাত্মক ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এতে চলতি মৌসুমে বোরো ফসল বিনষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।
উপজেলার নিরাইয়া, বাবাইয়া, মোক্তারপুর, লেংড়া, যোগনীগড়, রউনিয়াসহ প্রায় সবকটি হাওর এলাকায় বোরো ধান আবাদ করা হয়েছে। কিন্তু সময়মতো বৃষ্টি না হওয়া এবং আশপাশের নদী-নালা ও খাল শুকিয়ে যাওয়ায় জমিতে প্রয়োজনীয় পানি সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে অনেক জমিতে ফাটল দেখা দিয়েছে এবং ধানের চারা শুকিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।
উপজেলার বুরুঙ্গা বাজার ইউনিয়নের পশ্চিম সিরাজনগর গ্রামের কৃষক দিলশাদ মিয়া বলেন, জমিতে নিয়মিত সেচ দিতে পারলে ভালো ফলনের আশা করা যেত। কিন্তু পানির অভাবে ধানগাছ ঠিকমতো বেড়ে উঠছে না। দ্রুত বৃষ্টি না হলে ভালো ফলন পাওয়া কঠিন হবে।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, অনেকেই গভীর নলকূপ বা সেচ পাম্পের মাধ্যমে পানি দেওয়ার চেষ্টা করছেন। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পানির উৎস শুকিয়ে যাওয়ায় তা সম্ভব হচ্ছে না। এতে উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে, অথচ কাক্সিক্ষত ফলনের ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
ওসমানীনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা উম্মে তামিমা বলেন, উপজেলার বিভিন্ন হাওর এলাকায় খরার প্রভাব পড়েছে। আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি এবং কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বিকল্প সেচব্যবস্থা ও পানির সাশ্রয়ী ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্যও কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, আবহাওয়া পরিস্থিতি অনুকূলে না এলে উৎপাদনে প্রভাব পড়তে পারে। তাই দ্রুত বৃষ্টিপাত অথবা কার্যকর সেচব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি।
কৃষিনির্ভর এ অঞ্চলে খরার প্রভাবে বোরো ধানের উৎপাদন ব্যাহত হলে স্থানীয় অর্থনীতিতেও বিরূপ প্রভাব পড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। কৃষকদের দাবি, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে খাল-নদী খনন ও পানি সংরক্ষণের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের সংকট অনেকাংশে কমানো সম্ভব হবে।
আজকের সিলেট/ডি/এসটি
ওসমানীনগর প্রতিনিধি 








