হালকা, টক আর মিষ্টি স্বাদের অনন্য ফল আনারস। তবে সব আনারস এক রকম নয়। স্বাদ, রসালো গুণ আর উচ্চ ফলনের কারণে ‘হানিকুইন’ এখন শ্রীমঙ্গলের সবচেয়ে জনপ্রিয় জাত। পাহাড়ি মাটি আর অনুকূল জলবায়ুর আশীর্বাদে এই আনারস চাষে বদলে যাচ্ছে কৃষকের ভাগ্য। দ্বিগুণেরও বেশি আয় করছেন অনেক চাষি।
মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলা দীর্ঘদিন ধরেই আনারসের জন্য পরিচিত। টিলা আর পাহাড়ঘেরা জমিতে সারি সারি আনারস বাগান যেন এক মনোমুগ্ধকর দৃশ্য। কাঁটাময় ছোট গাছের মাঝখান থেকে সবুজ ফল ধীরে ধীরে যখন হলুদে রূপ নেয়, তখনই বাজারে তোলা হয় রসালো, সুগন্ধি এই আনারস।
শ্রীমঙ্গলে বর্তমানে ৪২৫ হেক্টর জমিতে আনারসের চাষ হচ্ছে। প্রতি হেক্টরে গড়ে উৎপাদন প্রায় ১৬ টন। বছরে প্রায় ৫ দশমিক ৬ কোটি টাকা বিনিয়োগ করে কৃষকেরা আয় করছেন প্রায় ১৩ কোটি টাকা।
শ্রীমঙ্গলে চাষ হওয়া উল্লেখযোগ্য জাতগুলোর মধ্যে রয়েছে হানিকুইন,জায়েন্টকি এবং এমডি-২। তবে এর মধ্যে স্বাদ ও মিষ্টতার কারণে ‘হানিকুইন’ সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়। বর্তমানে বড় আকারের আনারসের পাইকারি মূল্য প্রায় ৬০ টাকা, মাঝারি ৪০ টাকা এবং ছোট আকারের ২০ টাকা।
স্থানীয় আনারস চাষি আতর আলী জানান, ৩৫ বিঘা জমির অর্ধেকে প্রায় ৭০ হাজার আনারস গাছ লাগিয়েছেন। বছরে পরিচর্যায় প্রায় এক লাখ টাকা খরচ হলেও সব ব্যয় বাদ দিয়ে তার লাভ থাকে দেড় থেকে দুই লাখ টাকা।
তিনি বলেন, স্থানীয় কৃষি অফিসের পর্যাপ্ত সহযোগিতা পাচ্ছেন তিনি। ভবিষ্যতে আরও সহায়তা পেলে বড় পরিসরে আনারস চাষের পরিকল্পনা রয়েছে তার।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্রে জানা গেছে, চায়ের পর শ্রীমঙ্গলের সবচেয়ে পরিচিত ফসল এখন আনারস। প্রণোদনার পাশাপাশি প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি সহায়তা ও মানসম্মত চারা সরবরাহের মাধ্যমে এ অঞ্চলে আনারস চাষ সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।
কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, শ্রীমঙ্গলের জলবায়ু ও মাটি আনারস চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। বাজার সুবিধা ও উচ্চমূল্যের কারণে কৃষকেরা এ ফসলে আগ্রহী হচ্ছেন এবং লাভবান হচ্ছেন।
পুষ্টিগুণেও ভরপুর ‘হানিকুইন’ আনারস এখন শুধু একটি ফল নয়, বরং শ্রীমঙ্গলের অর্থনীতির এক সম্ভাবনাময় ব্র্যান্ড বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আজকের সিলেট/ডি/এসটি
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি 








