বাহুবলে সূর্যমুখী ফুল চাষে কৃষকরা লাভবান
রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৫৩ PM

বাহুবলে সূর্যমুখী ফুল চাষে কৃষকরা লাভবান

বাহুবল (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৩/০২/২০২৬ ১১:৪০:০০ AM

বাহুবলে সূর্যমুখী ফুল চাষে কৃষকরা লাভবান


কৃষি প্রণোদনের আওতায় জেলার বাহুবল উপজেলার পশ্চিম জয়পুর গ্রামে সূর্যমুখীর চাষ করেছেন কৃষক মো. ইউনুছ আলী। আকর্ষণীয় হওয়ায় তার চাষকৃত সূর্যমুখীর ফুল দেখতে ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা। এর মধ্যে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীর সংখ্যাই বেশি। তিনি সূর্যমুখীর আবাদে সফল।

তার মতো পশ্চিম জয়পুর কৃষি ব্লকের বিভিন্ন গ্রামে কৃষক বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য, জসিম উদ্দিন, অনিক গাজী, ওয়াহিদ মিয়াসহ ১৬ জন কৃষক সূর্যমুখীর চাষ করে লাভবান হয়েছেন। তাদের সাফল্য দেখে অন্যান্য স্থানের কৃষকরাও সূর্যমুখী চাষে আগ্রহী হয়েছেন।

একইভাবে জেলার বাহুবল, নবীগঞ্জ, লাখাই, হবিগঞ্জ, মাধবপুর, চুনারুঘাট উপজেলার গ্রামে গ্রামে কৃষকরা সূর্যমুখীর চাষ করেছেন। তারাও আশানুরূপ ফলন পেয়েছেন।

হবিগঞ্জ জেলা কৃষি অফিস জানায়, চলতি মৌসুমে জেলাজুড়ে প্রায় ২০০ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখীর চাষ করেছেন ১৫০০ হাজার কৃষক। যেখানে এক সময় জেলায় শখের বসে কেউ কেউ বাড়ির আঙিনায় সূর্যমুখী গাছ রোপণ করে সৌন্দর্য উপভোগ করতেন। আর্থিকভাবেও লাভবান হতেন না। এখানে বর্তমানে কৃষি বিভাগের তৎপরতায় বাণিজ্যিকভাবে সূর্যমুখীর চাষ বেড়ে চলেছে। তাতে লাভবান কৃষকরা। শখ পূরণের পাশাপাশি আসছে অর্থ।

কৃষক মো. ইউনুছ আলী বলেন, সূর্যমুখীর চাষ সম্পর্কে তেমন ধারণা ছিল না। বাহুবল উপজেলার পশ্চিম জয়পুর কৃষি ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা শামীমুল হক শামীম মাঠে এসে পরামর্শ প্রদান করেন। আমি উৎসাহিত হয়ে প্রায় ৫০ শতক জমি আবাদ করে সূর্যমুখী চাষ করেছি। খেতে আছে হলুদ বর্ণের সূর্যমুখী ফুল। যে দৃশ্য প্রকৃতিপ্রেমীদের মন কেড়ে নিচ্ছে। চাষে খরচ হয়েছে প্রায় ২ হাজার টাকা। এখানে ৭০ হাজার টাকা লাভ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যাই হোক চাষ করে ভালো ফলন পেয়েছি। আগামীতেও চাষ করার ইচ্ছা রয়েছে।

উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা শামীমুল হক শামীম বলেন, এ ব্লকের মধ্যে প্রায় ২ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখীর চাষ হয়েছে। এরমধ্যে ১৬ জন কৃষককে জনপ্রতি ২ কেজি বীজ ও ২০ কেজি করে সার সরকারিভাবে প্রদান করা হয়েছে। সরকারি সার ও বীজ দিয়ে কৃষকদের উৎসাহিত করা হয়। যার ফলে কৃষকরা সূর্যমুখী ফুলের চাষ করে লাভবান। কৃষকদের মুখে হাসি দেখতে পেয়ে অত্যন্ত আনন্দ লাগছে।

বাহুবল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা চিন্ময় কর অপু বলেন, ২০২৫-২৬ সালে প্রণোদনার মাধ্যমে উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে প্রায় ২০ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখীর আবাদ হয়েছে। এখানে ১৩৭ জন কৃষকের মধ্যে জনপ্রতি ২ কেজি করে বীজ ও ২০ কেজি করে সার বিতরণ করা হয়। এছাড়াও কৃষকদেরকে বিভিন্ন দিকনির্দেশনাসহ সার্বিক সহযোগিতা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, সূর্যমুখী ফুলের বীজ থেকে সহজে উন্নতমানের তেল ও খৈল উৎপাদন হয়। পাশাপাশি পুষ্টিকর সবজি হিসেবেও সূর্যমুখী জনপ্রিয়। তাছাড়া এই ফুলের মাধ্যমে মৌচাক বসিয়ে বাণিজ্যিকভাবে মধু উৎপাদন করা সম্ভব। স্বাস্থ্য রক্ষা ও রোগ জীবাণু প্রতিরোধে এই ফুল থেকে উৎপাদিত তেলের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।

হবিগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. আকতারুজ্জামান বলেন, জেলাজুড়ে এক সময় সূর্যমুখীর চাষ হতো সখের বসে। উদ্যোগ নিয়ে উপসহকারী কৃষি অফিসারদের গ্রামে গ্রামে পাঠাই। তারা কৃষকদের পরামর্শ প্রদান করছে। সরকারিভাবে দেওয়া হয়েছে বীজ ও সার। কৃষকরা উৎসাহিত হয়ে সূর্যমুখীর ব্যাপক আবাদ করে সফল।

তিনি বলেন, এক যুগ আগেও সূর্যমুখী তেলের বোতল দেখা যেত সুপারশপ আর অভিজাত দোকানের তাকে। শহরের অভিজাত শ্রেণি ছিল এই তেলের মূল গ্রাহক। এখন বাড়ির পাশের দোকানের তাকেও ঠাঁই পাচ্ছে এই তেল। স্বাস্থ্য সচেতনতার কারণে অভিজাত শ্রেণির পাশাপাশি মধ্যবিত্তরাও নিয়মিত বা মাঝেমধ্যে রান্নার তালিকায় রাখছেন এই তেল। প্রচলিত তেলের চেয়ে সূর্যমুখী তেল হৃদরোগের ঝুঁকি কমায় পুষ্টিবিদদের এমন পরামর্শে রান্নার তেল হিসেবে জায়গা করে নিচ্ছে। নতুন নতুন গ্রাহক যুক্ত হয়ে বেড়ে যাচ্ছে এই তেলের চাহিদা। সেই সঙ্গে বাড়ছে সূর্যমুখী ফুলের চাষ।

আজকের সিলেট/ডি/এসটি

সিলেটজুড়ে


মহানগর