বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশের ১৯তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আজ মঙ্গলবার শপথ নিতে যাচ্ছেন । দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবন, কণ্টকাকীর্ণ রাজনৈতিক পথচলা এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের পরিবর্তনের পর তিনি দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন সরকারপ্রধান হিসেবে। এর মধ্য দিয়ে দেশের সংসদীয় রাজনীতিতে শেষ হচ্ছে এক দীর্ঘ অধ্যায় এবং শুরু হচ্ছে নতুন প্রজন্মের নেতৃত্বে রাষ্ট্র পরিচালনার এক নতুন পর্ব।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের আজ সকাল ১০টায় জাতীয় সংসদ ভবন-এর শপথ গ্রহণ কক্ষে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ পড়ানো হবে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করবেন। এরপর বিকাল ৪টায় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় নতুন প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে শপথ পাঠ করাবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। পুরো অনুষ্ঠান পরিচালনা করবেন নবনিযুক্ত মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি।
শপথ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে মালদ্বীপ, শ্রীলঙ্কা ও নেপালের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা ঢাকায় উপস্থিত থাকবেন। দেশি-বিদেশি মিলিয়ে প্রায় ১ হাজার ২০০ অতিথির অংশগ্রহণের কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। অনুষ্ঠান ঘিরে ইতোমধ্যে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
নিয়ম অনুযায়ী, এমপিদের শপথ শেষে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-র সংসদীয় দলের সভা অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে সংসদ নেতা নির্বাচন করা হবে, যিনি রাষ্ট্রপতির কাছে সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক আবেদন জানাবেন। এরপর রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ দিয়ে শপথ পড়াবেন এবং নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ গ্রহণ সম্পন্ন হবে।
জাতীয় সংসদ সচিবালয় জানিয়েছে, এমপিদের শপথ কয়েক ধাপে গ্রুপভিত্তিকভাবে অনুষ্ঠিত হতে পারে। শপথ শেষে সদস্যরা শপথ বইয়ে স্বাক্ষর করবেন এবং পরিচয়পত্রের জন্য ছবি তুলবেন।
এদিকে, নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ঘোষিত ফলাফলে ২৯৭টি আসনের মধ্যে বিএনপি এককভাবে ২০৯টি এবং মিত্রদের নিয়ে মোট ২১২টি আসনে জয় পেয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি আসনে জয়ী হয়েছে এবং তাদের জোটসঙ্গীরা আরও ৯টি আসন পেয়েছে। এছাড়া জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও কয়েকটি আসনে বিজয়ী হয়েছেন।
নির্বাচনে বিএনপি ধানের শীষ প্রতীকে প্রায় ৪৯ দশমিক ৯৭ শতাংশ ভোট পেয়েছে এবং জামায়াত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছে প্রায় ৩১ দশমিক ৭৬ শতাংশ ভোট। মোট ৫০টি রাজনৈতিক দল ও ২৭৪ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী এই নির্বাচনে অংশ নেয়।
উল্লেখ্য, আদালতের নির্দেশনার কারণে চট্টগ্রামের দুটি আসনের ফলাফল এখনো স্থগিত রয়েছে। বাকি ২৯৭টি আসনের ফলাফল ইতোমধ্যে ঘোষণা করা হয়েছে। নতুন সরকার ও নতুন সংসদের শপথের মধ্য দিয়ে আজ কার্যত বাংলাদেশের রাজনীতিতে শুরু হচ্ছে নতুন এক যুগের যাত্রা।
আজকের সিলেট/ডি/এসটি
আজকের সিলেট ডেস্ক 








