পদোন্নতিতে অনিয়মের তদন্ত করছে মানবাধিকার কমিশন
শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ০৫:০৬ PM

পদোন্নতিতে অনিয়মের তদন্ত করছে মানবাধিকার কমিশন

আজকের সিলেট ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৩/০২/২০২৪ ০৯:২৩:৩৫ AM

পদোন্নতিতে অনিয়মের তদন্ত করছে মানবাধিকার কমিশন


জৈষ্ঠতা লঙ্ঘন বা যেকোনো ধরনের অনিয়ম করে পদোন্নতির অভিযোগ দীর্ঘদিনের। দাপ্তরিক নানা বাধ্যবাধকতা ও ভবিষ্যৎ চিন্তা করে এর শিকার হলেও সরকারি কর্মকর্তারা প্রতিকার চাচ্ছিলেন না। তবে সেই বাধা কাটিয়ে এই প্রথম জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের একটি বেঞ্চে এমন একটি অভিযোগের শুনানি চলছে।

পদোন্নতিতে অনিয়ম, জোরপূর্বক অব্যাহতিপত্রে স্বাক্ষর করানোসহ চাকরিক্ষেত্রে অধিকার খর্ব হওয়ার মতো অনিয়মগুলোর তদন্ত করছে মানবাধিকার কমিশন। এমন অনিয়মগুলো নজরে রয়েছে এবং যেকোনো সরকারি কর্মকর্তা চাকরিক্ষেত্রে অধিকার বঞ্চিত হলে অভিযোগ করতে পারবেন বলেও কমিশন থেকে এমন তথ্য জানা গেছে।

প্রথমবারের মতো কমিশনের পদোন্নতিতে অধিকার খর্ব করার অভিযোগটি ছিল রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের এক কর্মকর্তার। শুনানি শেষে মানবাধিকার কমিশন রাজউক চেয়ারম্যানের কাছে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়েছেন। যদিও বৃহস্পতিবার পর্যন্ত রাজউক চেয়ারম্যানের কোনো ব্যাখ্যা কমিশনে পাঠাননি বলে জানা গেছে।

রাজউকের বিষয়টি ছাড়া বিভিন্ন সময়ে পদোন্নতিতে অনিয়মের বা চাকরি ক্ষেত্রে অধিকার খর্ব হওয়ার অন্য যেসব অভিযোগ উঠেছে, সেগুলো কমিশনের নজরে আছে কি না এবং এসব বিষয় তদন্ত করা হবে কি না, জানতে চাইলে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘অবশ্যই আমরা নজর দেব। অবশ্যই আমাদের নজর আছে। এ রকম অভিযোগ বিভিন্ন সময় আমাদের কাছে আসে, আমরা যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠাই। যেমন অনেকে চাকরি হারিয়েছে অথবা তাকে বা তাদেরকে জোর করে স্ব-ইচ্ছায় চাকরি ছাড়ার আবেদনপত্রে সই করিয়ে নেওয়া হয়, কারণ সে মুহূূর্তে চাকরি না ছাড়লে ফান্ডের গ্যাচুয়িটির টাকা কর্তন করার ভয় দেখানো হয়। ফলে চাকরি থেকে সম্মানজনকভাবে বিদায় নিতে এই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে যেতে হয়। যেহেতু স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়ার কাগজে সই থাকে, সেক্ষেত্রে এখানে (কমিশন) অভিযোগ করেও কোনো লাভ হয় না।’

তবে চাকরি ক্ষেত্রে অধিকারবঞ্চিত হওয়ার বিষয়ে কি পরিমাণ অভিযোগ জমা পড়েছে- ‘নিরাপত্তার স্বার্থ’ দেখিয়ে সে তথ্য প্রকাশ করেনি মানবাধিকার কমিশন।

পদোন্নতিবঞ্চিত সরকারি কর্মকর্তারা কমিশনে অভিযোগ করতে পারবেন কি না এবং তাদের পরিচয় গোপন রাখা হবে কি না, এ বিষয়ে ড. কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আমরা মানুষের অধিকার নিয়ে কাজ করি। যে কেউ বাংলাদেশের নাগরিক যদি মনে করেন তার যেকোনো বিষয়ে অধিকার লঙ্ঘন হয়েছে, সেই ব্যক্তিই তার অধিকার পেতে আমাদের কাছে আসতে পারে।’

গত ১৭ ফেব্রুয়ারি গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন জানায়, জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে বঞ্চিত করে রাজউকের প্রধান প্রকৌশলী (বাস্তবায়ন) পদে কনিষ্ঠ কর্মকর্তাকে চলতি দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এমন অভিযোগ পেয়ে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন তাদের নিজস্ব বেঞ্চে অভিযোগটি পর্যালোচনা করে। এতে দেখা যায়, যাকে চলতি দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে জ্যেষ্ঠতা বিবেচনায় তার অবস্থান সংক্ষুব্ধ (অভিযোগকারী) ব্যক্তির পরে। এমনকি চলতি দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে কিছু অভিযোগের অনুসন্ধান চলছে। এরপরও তিনি প্রধান প্রকৌশলীর (বাস্তবায়ন) চলতি দায়িত্বের পদে বহাল তবিয়তে নিয়োজিত রয়েছেন। যা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ২০২৩ সালের ১৮ এপ্রিল প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। ওই প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী কোনো কর্মকর্তাকে ৬ মাসের বেশি চলতি দায়িত্ব প্রদানের প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট পদোন্নতি কমিটি বা বোর্ডের অনুমোদন নিতে হবে। অথচ এই অনুমোদন না নিয়েই চলতি দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তিন বছরের বেশি উক্ত পদে নিয়োজিত রয়েছেন।

কমিশনের বেঞ্চ-১ মনে করে, যদি দেশের গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রতিষ্ঠান রাজউকের উচ্চতর এ পদে পদায়নের ক্ষেত্রে এ ধরনের অনিয়ম হয়, তবে তা দাপ্তরিক ব্যর্থতা, ব্যবস্থাপনার বিশৃঙ্খলা এবং ইতোমধ্যেই উত্থাপিত দুর্নীতির ক্ষেত্রে প্রশ্রয়দানে যোগসাজশের ইঙ্গিত বহন করে। এছাড়াও যদি বিধি মোতাবেক কেউ প্রাপ্যতা থেকে বঞ্চিত হলে তার মানবিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন এবং মানবাধিকার লঙ্ঘন হয়। বিষয়টি স্পষ্টীকরণের জন্য রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চেয়ারম্যানকে ব্যাখ্যা দিতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আদেশের অনুলিপি গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর পাঠানো হয়েছে।

আজকের সিলেট/ডিটি/এসটি

সিলেটজুড়ে


মহানগর