সুনামগঞ্জে চলতি মৌসুমে বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে পেকে যাওয়ায় বৈশাখ শুরুর আগেই জেলার ১০টি হাওরে ধান কাটতে শুরু করেছেন কৃষকরা। এতে তাদের মধ্যে আনন্দ বিরাজ করছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বোরো ধানের ভান্ডার হিসেবে সারাদেশে পরিচিত সুনামগঞ্জ। এ ধানেই চলে সারা বছরের খোরাক। ধানের বড় একটি অংশ বিক্রি করে ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা, বিয়ে-শাদি ও সংসার চলে এই অঞ্চলের কৃষকদের। ধানকে ঘিরেই চাঙা হয় হাওরের প্রান্তিক পর্যায়ের অর্থনীতি। চলতি মৌসুমে সুনামগঞ্জে বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে।
জেলা কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, ১৩৭টি হাওরে দুই লাখ ২৩ হাজার ৪১০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষাবাদ হয়েছে। যেখান থেকে চাল উৎপাদন হবে ৯ লাখ ২৪ হাজার ৪১৩ মেট্রিক টন, যার বাজারমূল্য প্রায় সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা।
করচার হাওরের কৃষক রাজ উদ্দিন বলেন, এবছর বোরো ধানের ফলন ভালো হওয়ায় কৃষকরা খুশি।
স্বপন কুমার বর্মণ নামের আরেক কৃষক বলেন, ‘এবার ধান ভালো হয়েছে। বৈশাখ শুরুর আগেই ধান কেটে ঘরে তুলতে পারছি। সত্যিই অনেক আনন্দ লাগছে কষ্টের ফসল ধান ঘরে তুলতে পেরে।’
কৃষক রহমত মিয়া বলেন, হাওরের কৃষকরা যদি একমাস সময় হাতে পান, তাহলে হাওরের সম্পূর্ণ ধান ঘরে তোলা সম্ভব হবে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোস্তফা ইকবাল আজাদ বলেন, সুনামগঞ্জে এবছর বোরো ধানের ফলন ভালো হয়েছে। তবে মাঠ পর্যায়ে আমরা কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছি যাতে ৮০ শতাংশ ধান পাকলে তারপরই কাটেন।
সুনামগঞ্জের ১৩৭ হাওরে আনুষ্ঠানিকভাবে পহেলা বৈশাখ থেকে ধান কাটা শুরু হবে। ধান কাটা উৎসবে কৃষি উপদেষ্টা উপস্থিত থাকতে পারেন বলে কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে।
আজকের সিলেট/ডি/এসটি
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি 








