হাওর-বিলের পানি শুকিয়ে গেলে দলবেঁধে পলো ও ঠেলা জাল দিয়ে মাছ ধরতে নামত গ্রামের মানুষ। সেই দিন যেন হারিয়ে গেছে। এখন এভাবে মাছ ধরার দৃশ্য তেমন চোখে পড়ে না। পুরোনো ঐতিহ্য ধরে রাখতে প্রতি বছরের এমন দিনে পলো বাওয়া’ উৎসব হয়সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার গোয়াহরি গ্রামে।
সোমবার দিনভর গ্রামটির পশ্চিমের বিলে মাছ ধরে এলাকাবাসী। ঝপ-ঝপা-ঝপ শব্দের তালে বিকেল পর্যন্ত চলে ‘পলো বাওয়া’।
উৎসবে অংশ নিতে ও দেখতে সকাল ৮টা থেকেই গোয়াহরি গ্রামের বাসিন্দাদের পাশাপাশি আশপাশের কয়েক গ্রামের লোকজন বড়বিলের পাড়ে জড়ো হয়। পুরুষদের পাশাপাশি অনেক নারী ও শিশু আসে। ১০টার দিকে গ্রামের সব বয়সী পুরুষ ও অন্য গ্রাম থেকে আসা আত্মীয়স্বজন মাছ ধরতে বিলে নামেন। পলোর পাশাপাশি কেউ কেউ মাছ শিকারে নামেন ঠেলা জাল ও হাত জাল দিয়ে। তীব্র শীত উপেক্ষা করে ৪ ঘণ্টা মাছ ধরা চলে। অন্য বছরের তুলনায় এবার রুই, কাতলা, বোয়াল, শোল ও কার্ফু মাছ বেশি ধরা পড়েছে।
পলো দিয়ে মাছ ধরতে এসেছিলেন আমির হোসেন, পেয়েছেন দুটি বোয়াল মাছ। তাঁর বন্ধু দুলাল হোসেন ধরেছেন বড় একটি শোল ও একটি কাতলা। তাজ উদ্দিন নামে আরেক যুবক ধরেছেন দুটি বোয়াল। বড় একটি বোয়াল ও কার্ফু মাছ ধরা নাজমুজ্জামান বলেন, অন্য বছরের তুলনায় এবার মাছ কিছুটা কম। গত বছর তিনি চারটি মাছ ধরেছিলেন। বিলের ধারে দাঁড়িয়ে নানা বয়সী মানুষ উপভোগ করেন এই মাছশিকার। এলাকাবাসী জানান, তাদের এলাকায় আরও একটি বড় বিল রয়েছে। সেখানে প্রায় ২০০ বছর ধরে মাঘের প্রথম দিনে বৃহৎ পলো উৎসব হয়।
আজকের সিলেট/ডি/এপি
বিশ্বনাথ প্রতিনিধি 








