মধ্যনগরের একমাত্র পুকুর সংষ্কারেই হতে পারে পর্যটন নগরী
রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২৬, ০৩:৩৮ PM

মধ্যনগরের একমাত্র পুকুর সংষ্কারেই হতে পারে পর্যটন নগরী

অমৃত জ্যোতি, মধ্যনগর (সুনামগঞ্জ) থেকে

প্রকাশিত: ২১/১০/২০২৪ ০৪:৫৫:৫৩ AM

মধ্যনগরের একমাত্র পুকুর সংষ্কারেই হতে পারে পর্যটন নগরী


সুনামগঞ্জের মধ্যনগর সদরের শতবর্ষী একমাত্র পুকুরটি সংষ্কারের অভাবে ময়লা আর কচুময় আবর্জনায় ভরপুরে রয়েছে। সংষ্কারে মাধ্যমে ফিরে পেতে পারে তার পুরোনো অপরুপ দৃশ্য।ও হতে পরে এক আকর্ষনীয় পর্যটন নগরী। ঐতিহাসিক পুকুরের পানি দিয়েই এলাকার সকলেই মিটাতেন পানির চাহিদা।কিন্তু বর্তমানে ময়লা আর কচুময় আবর্জনায় ভরাট হয়ে উৎপন্ন হচ্ছে বিষাক্ত মশা।যার দরুন তীরবর্তী বাসিন্দাদের প্রতিনিয়তই দেখা দিচ্ছে রোগ জীবানু।এবং সন্ধ্যায় মশার ভয়ে দরজা লাগিয়ে বসে থাকেন তারা।

পুকুরটির অবস্থান মধ্যনগর উপজেলা সদর বাজারের দক্ষিণ পার্শ্বে।অনুসন্ধানে উঠে আসে ১৯১৫ থেকে ২০সালের মধ্যে এই পুকুরটি খনন করেন জমিদার ব্রজেন্দ্র কিশোর রায় চৌধুরী।এই পুকুরের মাটি দিয়ে মধ্যনগর বাজারের মূল স্থাপনার সূচনা হয়েছিল। তবে যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ, বাজর পরিচালনা ও স্থানীয় জন প্রতিনিধিদের সুনজরে নাআসায় ঐতিহ্যবাহী পুকুরটি আজ অস্তিত্ব বিলীনের দ্বারপ্রান্তে! তখনকার গৌরীপুরের জমিদার ব্রজেন্দ্র কিশোর রায় চৌধুরীর স্থানীয় জনমানুষের পানীয়ও জলের চাহিদা মিঠাতে দুই একর ভূমিতে পুকুরটি খনন করেন।পুকুরের তীরে করেন বসতী স্থপনা।পুকুরটি রক্ষণাবেক্ষণ ও পানি পরিছন্ন রাখার জন্য নিযুক্ত ছিল একাধিক লাঠিয়াল পাহাড়াদার।পুকুরের এই পানি ছিল চিকচিকে ও খুবই পরিছন্ন।পান করা,গোসল,অজু,রান্নাবান্ন সহ সমস্থগৃহ কাজে ব্যাবহার উপযোগী।

দেখা গেছে মধ্যনগর বাজারের একাধিক অগ্নিকান্ডের দুর্ঘটনা এই পুকুরের পানি দিয়েই রক্ষা পেয়েছিলো তীরবর্তী বাসিন্দা সহ অসংখ্য ব্যাবসায়ী ও প্রতিষ্ঠান।এলাকায় শুকনো মৌসুমে খাল,বিল,নদী,নালা সমস্ত জলাশয় শুকিয়ে যায়।ঠিক ঐসময়ে অগ্নি নির্বাপনে পানিদিয়ে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখে পুকুরটি। বর্তমান সময়ে হাওরের রাজধানী মধ্যনগর উপজেলায় সারাদেশের সাথে সড়ক পথে যানযোগাযোগ সুবিধা থাকায় নগরীতে প্রতিনিয়তই নামে পর্যটকের ঢল।

প্রায় দুইদশক আগে সম্ভবনাময় পুকুরটি ভরাট করার পায়তারার বিরুদ্ধে অবস্থান নিলেও মধ্যনগরের আর্তমানবতার সেবক ডাঃগোপীরঞ্জন রায় পোদ্দারের সহযোগিতায় পুকুরটি ভরাট থেকে রক্ষা পায়। পর্যটন নগরী হিসেবে সম্ভাবনার গুরুত্বপূর্ণ স্থান হতে পারে এই পুকুর।যদি পুকুরটি সংষ্কারের মাধ্যমে নিজস্বতা ফিরিয়ে পর্যটননগরীর অংশ হিসেবে চারদিকে প্রতিরক্ষা দেয়াল,প্রতিরক্ষা স্টিলের বেষ্টনী,মধ্যভাগে ফোয়ারা,বোট,নৌকার বিনোদন,চার দিকে বসার স্থান,রাস্তা ও লাইটিং নির্মাণ করার দাবী জানিয়েছেন সংষ্কৃতিমনা অসংখ্য জনমানুষ। এবিষয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টিতে এলাকার জনসাধারণের দৃষ্টিনন্দন মিনি পার্ক তৈরী হতে পারে।এমতাবস্থায় স্থানীয়দের দাবী দ্রুততার সহি সংষ্কারের উদ্যোগ না নিলে অস্তিত্ব বিলীন হতে পারে পুকুরটি এমনটাি ধারণা করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।মধ্যনগর উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃঅলিদুজ্জামান আমার সংবাদকে বলেন এমন ঐতিহাসিক পুকুরটি সরেজমিনে পরিদর্শন করবো এবং নিজস্বতা ফিরিয়ে আনতে উর্ধ্বতনে অবগত করা হবে।

আজকের সিলেট/ডি/এপি

সিলেটজুড়ে


মহানগর