ফাইল ছবি
সীমান্তে চিনি চোরাচালান কোনোভাবেই বন্ধ হচ্ছে না। সিলেটের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে প্রতিদিনই বিপুল অর্থের ভারতীয় চোরাই চিনি ঢুকছে অবাধে। চিনি চোরাচালানে সিলেট শহরের রাজনৈতিক নেতাদের পাশাপাশি এসএমপির শাহপরান থানার ওসি মনির হোসেনের সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে।
সবশেষ গত রোববার রাতে ওসমানীনগর থানা পুলিশ ২০৫ বস্তা চিনিসহ ৬ জনকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারদের মধ্যে দু’জন বিএনপির নেতাও রয়েছেন। জব্দ করা হয় ১টি ট্রাক, ২টি নোহা মাইক্রোবাস ও ২টি মোটরসাইকেল।
এদিকে, বহুদিন ধরে চিনি চোরাচালানে আওয়ামীলীগ ও ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ জড়িত থাকলেও এবার বিএনপি নেতাদের নাম এসেছে। আর ওই চিনি ছিনতাইয়ের ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া সিলেট মহানগর বিএনপির ২৫নং ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক সোলেমান হোসেন সুমন ও ২৬নং ওয়ার্ড সাধারণ সম্পাদক আবদুল মান্নানকে স্থায়ীভাবে দল থেকে বহিষ্কার করেছে বিএনপি। চিনি চোরাচালানে জড়িত দুই বিএনপি নেতাদেরকে ইতিমধ্যেই দল থেকে স্থায়ী ভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।
সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী জানিয়েছেন, চিনি চোরাচালানের ঘটনায় ইতোমধ্যে বিএনপির দুই ওয়ার্ড সভাপতিকে স্থায়ীভাবে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বিএনপি সাধারণ মানুষের দল, এখানে অপরাধীর জায়গা নেই। এভাবে বিএনপির যে কেউ অপরাধে জড়িয়ে পড়লে তার আর রক্ষা নেই।
তবে এসএমপির মুখপাত্র ও অতিরিক্ত উপ-কমিশনার সাইফুল ইসলাম বলেন, শাহপরান বাইপাসসহ এসএমপি এলাকায় চিনি চোরাচালান ঠেকাতে পুলিশ নিয়মিত মাঠে কাজ করছে। শাহপরান থানার ওসি চিনি চোরাচালানে সম্পৃক্ত বলে বলা হলেও এর স্বপক্ষে কোনো ডকুমেন্টস পাওয়া যায়নি। তার এমনটি করার সুযোগ নেই। তবুও বিষয়টি কঠোরভাবে দেখা হবে বলে জানান এ পুলিশ কর্মকর্তা।
প্রসঙ্গত, সিলেটের সীমান্তবর্তী গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর, কোম্পানীগঞ্জ, কানাইঘাট উপজেলার বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে প্রতিদিন চিনির চোরাচালান নিয়ে আসা হচ্ছে। গত ছয় মাসে অন্তত হাজার কোটি টাকার চিনি অবৈধভাবে নিয়ে আসা হয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের আগে চিনি চোরাচালানের একক নিয়ন্ত্রণ ছিল ছাত্রলীগ নেতাদের হাতে। আওয়ামী লীগের কিছু নেতাও চিনি চোরাচালানে জড়িয়ে পড়েন। গণঅভ্যুত্থানের পরবর্তীতে রাজনৈতিক হাত বদল হলেও চিনি চোরাচালান কিন্তু থেমে নেই। ভারতীয় চোরাই চিনির চোরাচালান অবাধে আসছে।
আজকের সিলেট/ডি/এসটি









