সুনামগঞ্জের মধ্যনগরে রাজধানী থেকে যানযোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম সড়কপথ। সারাদেশ পেরিয়ে মধ্যনগরে যানবাহন প্রবেশের রাস্তা থাকলেও নদীর পাড়ে এসেই থেমে যায় জন ও যান।এতে করে অপ্রয়োজনীয় নৌফেরীর ঘেরাকলে পড়েন পথচারীরা।পারাপারে ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীগন।কিন্তু অসংখ্য মালবাহী যানবাহন প্রতিনিয়তই প্রবেশ করতে দেখা যায় মধ্যনগর সদরে।জনমনে প্রশ্ন কেন মধ্যনগরের ভিতরে যাত্রীবাহী যানবাহন প্রবেশে বাধা, এবং কেন দুই কিলোমিটার দূরে অবস্থান করে যানবাহন? মধ্যনগর ও ধর্মপাশা সংযোগ সড়কে বহুল প্রত্যাশিত সেতু নির্মাণকাজ শেষ।চলে জনযাতায়াত ও সাধারণ যানচলাচল।যানবাহন নদীর পূর্বপারে কেন থাকবে এমন প্রশ্ন তুলেন একাধিক পথচারী।
অনুসন্ধানে জানা যায়,শুধুমাত্র যানবাহন গুলো প্রায় দুই কিলোর বাহিরে অবস্থান করার দরুন প্রতিটি যাত্রীর একঘন্টা সময় অপচয় করেই নৌ-ফেরী পার হতে হয়।যানবাহন গুলো সেতুর সম্মুখে গোল চত্বরে অবস্থান করলে লাঘব হতে পারে ভোগান্তির।এমনটাই ধারনা অনেকের। তবেই সাধারণ জনমানুষের আসবে মানসিক স্বস্তি, বাচবে সময় ও অর্থ। অযথাই নৌ-ফেরী পাড়াপাড়ের সময় বাঁচবে প্রায় একঘন্টা।অন্যদিকে একঘন্টা সময় হাতে পেলে পথচারীরা দুটি উপজেলা পেরিয়ে চলে যেতে পারে নেত্রকোনা জেলা শহরে।
প্রায় একযুগের উর্ধ্বে মহাসড়কের সাথে সদরের যান-চলাচলের ব্যাপক ভোগান্তিতে চলতো নৌ-ফেরীপারাপার।পিঁপড়াকান্দাস্থ মহাসড়কে সিএনজি, অটোরিকশা,লেগুনা,বাস সহ অসংখ্য যানবাহন সোমেশ্বরী নদীর পুর্বপার্শ্বের মহাসড়কে অবস্থানরত যানবাহনে উঠতে হতো।নৌ-পারাপাড়ে সর্বদাই তছরুপের স্বীকার ছিল অত্রাঞ্চাল সহ কয়েকটি উপজেলা ও একাধিক জেলার পথচারী,যানবাহন চালক এবং যাত্রীরা।যে দুর্ভোগ ছিল আজও তেমনটাই রয়েছে শুধু মাত্র যানবাহনের স্থান স্থানান্তরিত না হওয়ার কারণে।অন্য চলছে নৌ-ফেরীরপারাপার।
সুমেশ্বরীর প্রশাখায় উদ্ধাখালীর উপর দিয়ে বয়ে গেছে ৩১০মিটার সেতু।যার কার্য্যক্রম শেষ।এমন জন-দূর্ভোগের লাঘব ঘটে ২০২৪এর সংসদ নির্বাচনের ঠিক আগ মুহূর্ত থেকেই।যার দরুন ফেরী নৌকার তছরুপ থেকে রক্ষা পেয়েছিল প্রায় লক্ষাধিক নির্বাচনী উপভোগকারী ও সাধারণ জনতা।
এমতাবস্থায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহনের জোড়দাবী জানিয়েছেন ভুক্তভোগী জনসাধারণ।ভুক্তভোগী ও জনসাধারণের পক্ষে মধ্যনগর সদরের বাসিন্দা বীরমুক্তিযোদ্ধা ইউনূস মিয়া বলেন,এটি জনসাধারণের ভোগান্তি ও অর্থের লোভে এমনটি করছে একশ্রেণীর লোকজন।এছাড়া কিছুই না।সেতু হয়েছে কিন্তু মানুষের ভোগান্তির শেষ হয়নি।আমিও নৌপারাপারের সময় আঘাত পেয়েছি।আমি জোড় দাবী জানাই প্রশাসনিক সহযোগিতায় কতৃপক্ষকে বলতে চাই ছোট ছোট যানবাহনগুলোকে মধ্যনগরের ভিতরে প্রবেশ করতে নির্দেশ করা হোক।
মধ্যনগর পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মোঃহসান ও সিএনজি চালিত মাইক্রোবাস অটোরিকশা, বেবীট্যাক্সি মালিক সমবায় সমিতির সভাপতি রণি তালুকদার জানান, মধ্যনগরে স্ট্যান্ডের কোন নির্ধারিত জায়গা না'থাকায় দীর্ঘদিন যাবৎ নদীর পুর্বপাড়ের রাস্তাটিকেই স্ট্যান্ড ব্যাবহার করা হচ্ছে। এটাও সঠিক সাধারণ যাত্রীগণ ভোগান্তির স্বীকার।তবে প্রশাসনিক সহযোগিতার মাধ্যমে স্ট্যান্ডের জন্য জায়গা নির্ধারন অপেক্ষায়।আমাদের একটু আশ্বস্ত করলেই যানবাহন মধ্যনগর সেতু চত্বরে যানবাহন নিয়ে আসা হবে।
মধ্যনগর উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দীন এর সাথে মুঠোফোনে কথা বললে তিনি বলেন, আগামী বুধবার সরেজমিনে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।
আজকের সিলেট/প্রতিনিধি/এসটি
অমৃত জ্যোতি, মধ্যনগর (সুনামগঞ্জ) থেকে 








