বোয়িং বিক্রি করতে যুক্তরাষ্ট্রের দৌড়ঝাঁপ, এয়ারবাস কিনবে ঢাকা
রবিবার, ১৭ মে ২০২৬, ০৯:৪৯ PM

বোয়িং বিক্রি করতে যুক্তরাষ্ট্রের দৌড়ঝাঁপ, এয়ারবাস কিনবে ঢাকা

আজকের সিলেট ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩১/০৫/২০২৪ ০৯:০৮:৫১ AM

বোয়িং বিক্রি করতে যুক্তরাষ্ট্রের দৌড়ঝাঁপ, এয়ারবাস কিনবে ঢাকা


মার্কিন বিমান নির্মাতা কোম্পানি বোয়িংয়ের উড়োজাহাজে দুর্ঘটনার রেকর্ড বেশি হওয়ায় বিশ্বজুড়েই বিরাজ করছে বোয়িং আতঙ্ক। তাই আগেভাগেই বোয়িংয়ের পরিবর্তে ফরাসি বিমান নির্মাতা কোম্পানি এয়ারবাস থেকে উড়োজাহাজ কিনতে মাঠে নেমেছে বাংলাদেশ, অন্যদিকে নিজেদের জাহাজ বিক্রির জন্য দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

বহর সম্প্রসারণে নতুন ১০টি উড়োজাহাজ কিনবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। এ অবস্থায় আগেভাগেই বোয়িংয়ের পরিবর্তে ফ্রান্সের এয়ারবাস কিনতে চায় বাংলাদেশ। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রো গত সেপ্টেম্বরে ঢাকা সফরে এসে সেরে ফেলেন দ্বিপাক্ষিক আলোচনাও।

তারপরও অর্ডার পেতে নির্বাচনের আগে থেকেই দৌড়ঝাঁপ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের বোয়িং কোম্পানি। আর্থিক প্রস্তাব দেওয়ার পাশাপাশি সরকারের উচ্চ পর্যায়ে নানাভাবে বৈঠক করছে বোয়িং প্রতিনিধিদল। এতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন ভারত ও দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের বিক্রয় ও বিপণন বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট রায়ান উয়্যার।

তবে শেষ পর্যন্ত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস চারটি এয়ারবাস কেনার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করে ফেলেছে। ১৮০ মিলিয়ন ডলার করে প্রতিটি এয়ারবাসের মূল্য পড়বে। ইতোমধ্যে এয়ারবাস কেনার জন্য সবুজ সংকেত দিয়েছে বিমানের বোর্ড। এর ফলে বিমানের বিমান ক্রয় নিয়ে যে আন্তর্জাতিক মেরুকরণ এবং দরকষাকষি তার অবসান ঘটতে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কিন্তু ফ্রান্সের তৈরি এয়ারবাস কেনার ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নাখোশ হতে পারে এমন আশঙ্কা করছেন কেউ কেউ। এর ফলে নতুন করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে বলেও কূটনৈতিক মহল আশঙ্কা প্রকাশ করছেন।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিমানকে বোয়িং কেনার জন্য অনুরোধ জানিয়েছিল এবং এ নিয়ে মার্কিন দূতাবাস এবং মার্কিন সরকারের পক্ষ থেকে বেশ দরকষাকষিও করা হয়েছিল। ডোনাল্ড লু বাংলাদেশ সফরের সময়ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানকে বোয়িং কেনার ব্যাপারে প্রস্তাব দিয়েছিলেন। এছাড়াও নির্বাচনের আগে বিমানের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দেখা করেন পিটার হাস। তিনি বাংলাদেশকে বোয়িং কেনার জন্য অনুরোধ করেন।

বাংলাদেশ বিমানে নতুন করে উড়োজাহাজ কেনার বিষয়টি গত এক বছর ধরেই আলোচনার মধ্যে ছিল। এর মধ্যেই সরকার ফ্রান্সের এয়ারবাস কেনার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেছে এবং সেই আগ্রহের অংশ হিসেবে ফ্রান্সের সঙ্গে আলাপ আলোচনা অনেকদূর গড়িয়ে যায়। এই আলোচনার মাঝেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিমানে এয়ারবাসের পরিবর্তে বোয়িং দেওয়ার জন্য চেষ্টা তদবির করে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বিমানের বোর্ড সভায় এয়ারবাস কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে। এর ফলে বাংলাদেশের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের নতুন করে টানাপোড়েন হতে পারে বলে কেউ কেউ শঙ্কা প্রকাশ করেছে।

তবে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ দাবি করছে, এটি যাচাই বাছাই এবং নিরীক্ষার মাধ্যমে করা হয়েছে। কাজেই এই নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অসন্তুষ্ট হওয়ার কোনো কারণ নেই।

এদিকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনেক আগে থেকেই বোয়িংয়ের ছোট ছোট ত্রুটির কারণে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে এ কোম্পানিকে ঘিরে। এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ এটিএম নজরুল ইসলাম বলেন, বোয়িং দুর্ঘটনার পরিমাণ অনেক বেশি। ওদের এক মডেলের উড়োজাহাজেরই দুর্ঘটনার সংখ্যা এত বেশি, যা পুরো এয়ারবাসে নেই।

তথ্য অনুযায়ী, বোয়িংয়ের তুলনায় কম দুর্ঘটনা, জ্বালানি ও পরিচালন ব্যয়সাশ্রয়ী, আর যাত্রীধারণ ক্ষমতা বেশি হওয়ায় চাহিদা বাড়ছে এয়ারবাসের।

এভিয়েশন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উড়োজাহাজ নির্মাণ প্রক্রিয়া দীর্ঘ হওয়ায় দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে সরকারকে। সেক্ষেত্রে ব্যবসা ও নিরাপত্তাকে প্রাধান্য দেওয়ার পরামর্শ তাদের। এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহিদুল হক বলেন, গত বছর দেশের প্যাসেঞ্জার ট্রাফিক গ্রোথ হয়েছে ৩২ শতাংশ। এ গ্রোথ ধরে রাখতে ফ্লাইট ও সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো ছাড়া কোনো উপায় নেই।

বাংলাদেশ বিমানের বহরে থাকা ২১টি উড়োজাহাজের মধ্যে ১৬টিই বোয়িং। তবে সংশ্লিষ্টদের শঙ্কা, বহরে নতুন কোম্পানির উড়োজাহাজ যুক্ত হলে ২০ বছরে পরিচালন ব্যয় বাড়তে পারে ১৫ কোটি ডলার।

আজকের সিলেট/ডি/এসটি

সিলেটজুড়ে


মহানগর