টাঙ্গুয়ার হাওর রক্ষায় সমন্বিত ব্যবস্থাপনার তাগিদ
শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:২৬ PM

টাঙ্গুয়ার হাওর রক্ষায় সমন্বিত ব্যবস্থাপনার তাগিদ

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১২/০৯/২০২৬ ০২:১৬:৪১ PM

টাঙ্গুয়ার হাওর রক্ষায় সমন্বিত ব্যবস্থাপনার তাগিদ


সিল্টেশন, অপরিকল্পিত বাঁধ, কৃষিতে অতিরিক্ত কীটনাশক ও সার ব্যবহার, মাছের আবাসস্থল ধ্বংস এবং অনিয়ন্ত্রিত পর্যটনের মতো নানা কারণে টাঙ্গুয়ার হাওরের জলাভূমি ও জীববৈচিত্র্য ক্রমেই চাপের মুখে পড়ছে। এ পরিস্থিতিতে হাওর রক্ষায় সরকারি সংস্থা থেকে শুরু করে স্থানীয় জনগোষ্ঠী, রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানম।

শুক্রবার সকাল ১০টায় সুনামগঞ্জ সার্কিট হাউজের সভা কক্ষে ‘টাঙ্গুয়ার হাওর জলাভূমি বাস্তুতন্ত্রের সমাজভিত্তিক ব্যবস্থাপনা’ প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত ‘জলাভূমি সম্পদের সঠিক ব্যবহার বিষয়ক মতবিনিময়’ কর্মশালায় তিনি এসব কথা বলেন। পরিবেশ অধিদপ্তর এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।

ড. ফাহমিদা খানম বলেন, টাঙ্গুয়ার হাওরের সমস্যা কোনো একটি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সমাধান করা সম্ভব নয়। খনন, পানি ব্যবস্থাপনা, কৃষি ও মৎস্য উৎপাদন, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং পর্যটন—সব বিষয়কে একই ব্যবস্থাপনার আওতায় আনতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করে বাস্তব সুফল দেখানো গেলে ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক সহায়তা পাওয়ার সুযোগও বাড়বে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

হাওরের বিভিন্ন অংশে ব্যাপক পলি জমার বিষয়টি তুলে ধরে সচিব বলেন, গত তিন-চার বছরে সিল্টেশন বেড়েছে বলে গ্রাম পর্যায়ে স্থানীয় মানুষের কাছ থেকেও তিনি জানতে পেরেছেন। ভারতের সীমান্তের ওপারে বোমা মেরে পাথর উত্তোলনের কারণে পলি জমার পরিমাণ বাড়তে পারে স্থানীয়দের এমন বক্তব্যও তিনি শুনেছেন। তবে বিষয়টি আরও যাচাই ও সংশ্লিষ্ট পর্যায়ে আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে।

সিল্টেশন কমাতে দেশের ভেতরে পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ের পাশাপাশি বিষয়টির আন্তঃসীমান্ত বা ‘ট্রান্সবাউন্ডারি’ দিকও বিবেচনা করতে হবে বলে জানান তিনি।

হাওরের পানি প্রবাহ ও মাছের বিচরণে বাঁধের প্রভাব নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন ড. ফাহমিদা খানম। তার ভাষ্য, কিছু বাঁধ ডুবন্ত বাঁধ হিসেবে থাকার কথা থাকলেও সেগুলো উঁচু করা হচ্ছে। এতে বর্ষায় স্বাভাবিক পানি চলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং মানুষ ও গবাদিপশুর আশ্রয় হিসেবে ব্যবহৃত বিভিন্ন কান্দা হারিয়ে যাচ্ছে।

বাঁধ নির্মাণ ও সংস্কারের ক্ষেত্রে প্রকৌশলগত নকশা অনুসরণ করা হয় উল্লেখ করে তিনি সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে পানি প্রবাহ ও কান্দা রক্ষার ব্যবস্থা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন। একই সঙ্গে বাঁধের কারণে ফিশ পাস বন্ধ হয়ে যাওয়ার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখার আহ্বান জানান। নতুন পানি প্রবেশের সময় মাছ যাতে হাওরে আসতে পারে, সে জন্য উপযুক্ত ফিশ পাস থাকা দরকার বলে তিনি উল্লেখ করেন।

হাওরের অর্থনীতি ও পরিবেশের সঙ্গে কৃষি ও মৎস্য খাতের নিবিড় সম্পর্কের কথাও তুলে ধরেন সচিব। শীত মৌসুমে দেশের ধান উৎপাদনে হাওরের বড় অবদান রয়েছে, আবার বর্ষায় এখান থেকে বিপুল পরিমাণ মাছ উৎপাদিত হয়। তাই উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্যও রক্ষা করতে হবে।

তিনি বলেন, কৃষি উৎপাদন বাড়াতে কৃষকেরা কীটনাশক, হার্বিসাইড ও অতিরিক্ত সার ব্যবহার করছেন। এসব রাসায়নিক বৃষ্টির পানি ও অন্যান্য প্রবাহের মাধ্যমে হাওরে পৌঁছে মাছের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে।

শীত মৌসুমে যেসব বিল ও জলাশয়ের নির্দিষ্ট অংশে দেশীয় ছোট মাছ টিকে থাকে, সেসব এলাকা সংরক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। একই সঙ্গে কৃষিজমি থেকে পেস্টিসাইড, হার্বিসাইড ও অতিরিক্ত সার যাতে হাওরের পানিতে না মেশে, সে ব্যবস্থাও নেওয়ার কথা বলেন।

গত বছর হাওর এলাকায় পেস্টিসাইডের ব্যবহার বেড়েছে এবং এর ফলে মাছ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে—এমন বিষয় নিয়ে ঢাকায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয় ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের মধ্যে একাধিকবার আলোচনা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

কীটনাশক বিক্রেতা ও ডিলারদের নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন ড. ফাহমিদা খানম। তার মতে, অনেক ক্ষেত্রে ডিলাররা কৃষকদের একাধিক পেস্টিসাইড একসঙ্গে ব্যবহারের পরামর্শ দেন, যা জলজ প্রাণীর জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে। এ কারণে জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে কীটনাশক ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ, কৃষকদের সচেতন করা এবং কম কীটনাশক ব্যবহারের পদ্ধতি চালুর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা বা আইপিএম পদ্ধতি ব্যবহারের কথাও তিনি বলেন।

টাঙ্গুয়ার হাওরের বিল পুনরুদ্ধারে প্রকল্পের পরিকল্পনা তুলে ধরে ড. ফাহমিদা খানম বলেন, প্রথম ধাপে রোয়া বিলকে পাইলট হিসেবে নিয়ে পুনরুদ্ধার কার্যক্রম চালানো হবে। সেখানে সাফল্য এলে পর্যায়ক্রমে অন্য বিলেও বিনিয়োগ করা হবে।

তিনি বলেন, টাঙ্গুয়ার হাওরের উন্নয়নকে কোনো একটি খাতের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না। জীববৈচিত্র্য, স্থানীয় মানুষের জীবিকা, কৃষি, মৎস্য, পর্যটন এবং জনসংখ্যার চাহিদা—সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা করতে হবে।

রামসার সাইট ঘোষণার পর দীর্ঘ সময়েও টাঙ্গুয়ার হাওরে প্রত্যাশিত উন্নয়ন হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ সময়ের মধ্যে জনসংখ্যা ও মানুষের খাদ্য ও আয়ের চাহিদা বেড়েছে। একই সঙ্গে পর্যটনের চাপও বেড়েছে। তাই বর্তমান বাস্তবতার আলোকে ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা নির্ধারণ করতে হবে।

অনিয়ন্ত্রিত পর্যটনের কারণে হাওরের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ওপর চাপ তৈরি হচ্ছে উল্লেখ করে ড. ফাহমিদা খানম বলেন, পর্যটন পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া সমাধান নয়। কোন এলাকায় পর্যটক যেতে পারবেন, কোন এলাকায় যেতে পারবেন না এবং কোন অঞ্চল সম্পূর্ণ সংরক্ষিত থাকবে—তা নির্ধারণ করে নিয়ন্ত্রিত পর্যটনের ব্যবস্থা করতে হবে। প্রকল্পের আওতায় এ ধরনের পরিকল্পনা তৈরির কথাও জানান তিনি।

আন্তর্জাতিক অর্থায়নের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গ্লোবাল এনভায়রনমেন্ট ফ্যাসিলিটি বা জিইএফের আন্তর্জাতিক গ্রান্টে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণসহ বৈশ্বিক পরিবেশগত সুবিধা নিশ্চিত করাই এ ধরনের অর্থায়নের উদ্দেশ্য। তাই প্রকল্পের সুফল নিশ্চিত করতে স্থানীয় মানুষের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

প্রকল্পটির মেয়াদ ২০২৯ সাল পর্যন্ত। এর মধ্যে অন্তত একটি বিল পুনরুজ্জীবিত করে সফল উদাহরণ তৈরি করা গেলে ভবিষ্যতে অন্যান্য বিলেও একই ধরনের উদ্যোগ নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে বলে জানান তিনি।

প্রকল্প পরিচালক ও পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক শাহেদা বেগম বলেন, টাঙ্গুয়ার হাওরের ব্যবস্থাপনা কোনো একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের একক দায়িত্ব নয়। উপজেলা প্রশাসন, মৎস্য দপ্তর, হাওর অধিদপ্তর ও পরিবেশ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

মাছের পরিমাণ কমে যাওয়া ঠেকাতে বিভিন্ন এলাকায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, দীর্ঘমেয়াদে এ উদ্যোগ কার্যকর রাখতে সমন্বিত ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা প্রয়োজন।

প্রকল্পের আওতায় কমিউনিটিভিত্তিক জলাভূমি ব্যবস্থাপনা জোরদার, সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠী ও সরকারি কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ এবং ৩৮০টি পরিবারের বিকল্প আয় বৃদ্ধির জন্য ক্ষুদ্র উদ্যোগ ও গ্রামীণ জীবিকায় সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

এছাড়া কমিউনিটির অংশগ্রহণে ২৪ কিলোমিটার কান্দায় জলাভূমি বাগান এবং ৪০০ হেক্টর এলাকায় জলাভূমি বাগান সৃজনের পরিকল্পনা রয়েছে। ২০ হেক্টর এলাকায় পলি অপসারণ, মাছ ও অন্যান্য জলজ জীববৈচিত্র্যের জন্য অভয়ারণ্য তৈরি এবং নলখাগড়ার প্রতিবেশ পুনরুদ্ধারের উদ্যোগও নেওয়া হবে। পরিযায়ী পাখির নিরাপদ আবাসস্থল নিশ্চিত করতে ৮০০ হেক্টর জলজ আবাসস্থল পুনরুদ্ধারের পরিকল্পনাও প্রকল্পে রয়েছে।

শাহেদা বেগম বলেন, টাঙ্গুয়ার হাওরকে সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিকমুক্ত রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। হাউজবোট মালিকদের বিকল্প ব্যবহারে উৎসাহিত করার পাশাপাশি বর্জ্য নির্দিষ্টভাবে ব্যবস্থাপনার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

নৌপরিবহন অধিদপ্তর হাউজবোটের ডিজাইন অনুমোদন করে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রতিটি হাউজবোটের নিবন্ধন ও ডিজাইন অনুমোদন নিশ্চিত করা জরুরি। ডিজেলচালিত হাউজবোটে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি থাকায় ফায়ার এক্সটিংগুইশার রাখার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

তার মতে, নিবন্ধন বা ডিজাইন অনুমোদন না থাকা নৌযান পর্যটকদের জন্য নিরাপদ নয়। এ বিষয়ে স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক প্রচারের প্রয়োজন রয়েছে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান বলেন, কর্মশালায় অংশীজনদের মতামত ও সুপারিশ ভবিষ্যৎ নীতি ও পরিকল্পনা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

২০২৫ সালের সরকারি হাওর সুরক্ষা আদেশ বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, হাউজবোট সংক্রান্ত নির্দেশনা গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে। আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, পরিবেশ অধিদপ্তর ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় মোবাইল কোর্ট ও অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

৪ দশমিক ৫ ইঞ্চির নিচে ছিদ্রযুক্ত জাল, চায়না দুয়ারিসহ নিষিদ্ধ সব ধরনের জাল ধ্বংসের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে কয়েক টন নিষিদ্ধ জাল পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

ইসিএ কমিটি ও পর্যটন উন্নয়ন কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী যান্ত্রিক নৌকা কেবল গোলাবাড়ী পয়েন্ট পর্যন্ত চলাচল করতে পারবে। এরপর থেকে শুধু হস্তচালিত ডিঙি বা নৌকা চলাচলের অনুমতি থাকবে।

হাওরের পরিবেশ রক্ষায় প্রতিটি হাউজবোটে সেপটিক ট্যাংক ও নির্দিষ্ট ডাস্টবিন রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। উচ্চশব্দে গান বাজানো বন্ধসহ আচরণবিধি মানা হচ্ছে কি না, তা নিয়মিত তদারকির কথাও জানান জেলা প্রশাসক। হাওর উন্নয়ন অধিদপ্তরের মাধ্যমে টেকেরঘাট এলাকায় ডাম্পিং স্টেশন তৈরির কাজ চলছে। পাশাপাশি হিজল-করচসহ উপযোগী গাছ লাগানোর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

কর্মশালায় উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, অতিরিক্ত পর্যটক ও জনসংখ্যার চাপ, ভূমি ব্যবহারের পরিবর্তন, অতিরিক্ত সম্পদ আহরণ, জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ টাঙ্গুয়ার হাওরের জলাভূমি সম্পদ অবক্ষয়ের অন্যতম কারণ। পলি জমে বিলের পানিধারণ ক্ষমতা কমে যাওয়া এবং পানি ও মাটির গুণগতমানের অবনতিও বড় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

বিশেষজ্ঞ ও অংশীজনেরা হাওরের প্রাকৃতিক সম্পদের দীর্ঘমেয়াদি প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা, প্রকৃত জেলেদের জন্য টেকসই মাছ ধরার পদ্ধতি চালু, মৎস্য অভয়ারণ্য ও পাখির আবাসস্থল সংরক্ষণ এবং অবৈধ মাছ ধরা ঠেকাতে কমিউনিটি গার্ডের মাধ্যমে সংরক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন।

ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনার কেন্দ্রে স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে রাখার পাশাপাশি ভূমি, পানি ও অন্যান্য প্রাকৃতিক সম্পদের টেকসই ব্যবহারের সিদ্ধান্তে তাদের ক্ষমতায়ন এবং বিভিন্ন স্তরে সংরক্ষণ দল গঠনের প্রস্তাবও উঠে আসে।

বাংলাদেশ সরকার ১৯৯৯ সালে টাঙ্গুয়ার হাওরকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা বা ইসিএ ঘোষণা করে। পরে ২০০০ সালের ১০ জুলাই রামসার সেক্রেটারিয়েট এটিকে রামসার সাইট হিসেবে ঘোষণা করে। ফলে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দুই পর্যায়েই এ জলাভূমির সংরক্ষণ ও বিচক্ষণ ব্যবহার নিশ্চিত করার দায়িত্ব রয়েছে।

কর্মশালায় বক্তারা বলেন, টাঙ্গুয়ার হাওর রক্ষা কেবল পরিবেশ সংরক্ষণের বিষয় নয়। এর সঙ্গে স্থানীয় মানুষের জীবন-জীবিকা, খাদ্য নিরাপত্তা, কৃষি ও মৎস্য উৎপাদন, পর্যটন এবং দেশের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ সরাসরি জড়িত। তাই হাওর রক্ষায় সরকারি সংস্থা, প্রশাসন, স্থানীয় জনগোষ্ঠী, রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

আজকের সিলেট/ জেকেএস

সিলেটজুড়ে


মহানগর