সোমেশ্বরী সেতুর সাইনবোর্ডে শহীদ আয়াতুল্লাহর নাম মুছে দেওয়ার অভিযোগ
রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:০৯ PM

সোমেশ্বরী সেতুর সাইনবোর্ডে শহীদ আয়াতুল্লাহর নাম মুছে দেওয়ার অভিযোগ

মধ্যনগর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৬/০৯/২০২৬ ১২:১২:৪২ PM

সোমেশ্বরী সেতুর সাইনবোর্ডে শহীদ আয়াতুল্লাহর নাম মুছে দেওয়ার অভিযোগ


সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলায় সোমেশ্বরী নদীর ওপর নির্মিত ৩২০ মিটার দীর্ঘ সেতুর প্রবেশমুখে স্থাপন করা সাইনবোর্ড থেকে শহীদ আয়াতুল্লাহর নাম কালো রঙ দিয়ে মুছে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, রাতের আঁধারে দুর্বৃত্তরা সাইনবোর্ডে রং করে নামটি আড়াল করেছে।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে সেতু এলাকায় গিয়ে সাইনবোর্ডটির মাঝের অংশে কালো রঙের আস্তরণ দেখা যায়। সেখানেই আগে শহীদ আয়াতুল্লাহর নাম লেখা ছিল। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অনেকে এ নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯ বছর বয়সি আয়াতুল্লাহ সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার চামারদানী ইউনিয়নের জলুষা গ্রামের হাজি সিরাজুল ইসলাম ও শোভা আক্তার দম্পতির ছোট ছেলে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ঢাকার সফিপুর আনসার একাডেমি এলাকায় আন্দোলনে বড় ভাই সোহাগ মিয়ার সঙ্গে অংশ নিয়েছিলেন তিনি।

আন্দোলনের সময় গুলিবর্ষণ শুরু হলে বড় ভাই সোহাগ মিয়া আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানোর কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। এ সময় জনতার ভিড়ে আয়াতুল্লাহ নিখোঁজ হন। পরে দীর্ঘ ১১ দিন পর ১৬ আগস্ট রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে তাঁর লাশের সন্ধান পায় পরিবার। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁর বুকে গুলির চিহ্ন ছিল। ১৭ আগস্ট রাতে নিজ গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।

আয়াতুল্লাহর স্মৃতি ধরে রাখতে স্থানীয় ছাত্র-জনতার উদ্যোগে সোমেশ্বরী নদীর ওপর নির্মিত সেতুর প্রবেশমুখে তাঁর নামে একটি সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়। ২০২৪ সালের আগস্টে স্থাপিত ওই সাইনবোর্ডের উদ্বোধন করেছিলেন তাঁর বাবা হাজি সিরাজুল ইসলাম।

মধ্যনগর গ্রামের বাসিন্দা ফজলে রাব্বি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে লেখেন, ‘আমাদের মধ্যনগরের গর্ব শহীদ আয়াতুল্লাহ। ইতিহাস বিকৃত করা যায়, কিন্তু মুছে ফেলা যায় না।’

জুলাইযোদ্ধা অপি মিয়া বলেন, ‘এটা নিঃসন্দেহে জুলাইবিরোধী শক্তির কাজ বলে আমরা মনে করছি। নাম ফলক মুছে দিয়ে ইতিহাস থেকে আয়াতুল্লাহকে মুছে ফেলা যাবে না।’ যারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তাদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি। একই সঙ্গে সেতুটিকে সরকারিভাবে শহীদ আয়াতুল্লাহর নামে নামকরণ এবং প্রবেশমুখে স্থায়ী ও বড় আকারের নামফলক স্থাপনের দাবি জানান।

শহীদ আয়াতুল্লাহর বড় ভাই সোহাগ মিয়া বলেন, ফজরের নামাজ শেষে হাঁটতে বের হয়ে তিনি দেখতে পান, স্থানীয় ছাত্র-জনতার উদ্যোগে সোমেশ্বরী সেতুর ওপর টানানো তাঁর ভাইয়ের নামের সাইনবোর্ডটি কালো রঙ দিয়ে মুছে দেওয়া হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, ‘আমরা মনে করছি, এটি জুলাইবিরোধী শক্তির কাজ।’ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

সোহাগ মিয়াও সেতুটির সরকারি নাম ‘শহীদ আয়াতুল্লাহ সেতু’ করার পাশাপাশি সেখানে স্থায়ী নামফলক স্থাপনের দাবি জানান।

ঘটনার বিষয়ে মধ্যনগর থানার ওসি এ কে এম সাহাবুদ্দিন শাহীন বলেন, সেতুর নামফলক থেকে নাম মুছে দেওয়ার বিষয়টি পুলিশ জানতে পেরেছে। ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কে বা কারা এ কাজ করেছে, তা তদন্তের মাধ্যমে শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। অভিযোগ পাওয়া গেলে বা তদন্তে জড়িতদের শনাক্ত করা হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আজকের সিলেট/ জেকেএস

সিলেটজুড়ে


মহানগর