বাংলাদেশ বনাম পাকিস্তানের টেস্ট সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচের চতুর্থ দিন আজ সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে পার করলো। ম্যাচের এই চার দিনে কখনো মনে হচ্ছে ম্যাচের নিয়ন্ত্রক পাকিস্তান। আবার কখনো মনে হচ্ছে নিয়ন্ত্রক বাংলাদেশ। এ মাঠে যেন প্রথম দুই ইনিংস বোলাররা দাপট দেখালেও শেষ দুই ইনিংস বোলারদের বল নির্বিষ মনে হচ্ছে। পেন্ডুলামের মতো দুলছে বাংলাদেশ-পাকিস্তান সিলেট টেস্ট।
বাংলাদেশের ছুঁড়ে দেওয়া ৪৩৭ রান তাড়া করতে বিশ্বরেকর্ড গড়তে হবে পাকিস্তানকে। তবে এই রেকর্ড করতে মরিয়া পাকিস্তানিরা। রিজওয়ান-শানরা সাহস করে সেদিকেই এগোচ্ছেন। যদিও ইতিমধ্যে চার দিনের খেলা শেষ। আগামীকাল ম্যাচের পঞ্চম দিনে আর ৩ উইকেট তুলে নিতে পারলেই জিতে যাবে বাংলাদেশ। অন্যদিকে পাকিস্তানের প্রয়োজন ১২১ রান। সিরিজ ড্র করতে এবং বাংলাদেশকে হারের স্বাদ দিতে চোখ রাঙাচ্ছে পাকিস্তান।
লাঞ্চের পর থেকেই জমে ওঠেছিল ম্যাচ। লিটন-শান্তদের স্লেজিং আর রিজওয়ানদের সময় নষ্টের চেষ্টা, খেলার ফাঁকে কথার লড়াই- সব মিলিয়ে দারুণ এক আবহ তৈরি হয়। শান মাসুদের ৭১, বাবর আজমের ৪৭, আঘা সালমানের ৭১ রানের ইনিংসে পাকিস্তান দাঁতে দাঁত চেপে লড়াই করেছে। তবে সবচেয়ে বেশি ভুগিয়েছেন রিজওয়ান। ষষ্ঠ উইকেটে সালমানকে নিয়ে রিজওয়ানের ১৩৪ রানের জুটিই জয়ের স্বপ্ন দেখায় পাকিস্তানকে।
সালমান আগা বিদায় নেওয়ার পরপর হাসান আলীকেও ফেরান তাইজুল। তবে ১৩৪ বলে ৭৫ রানে অপরাজিত রিজওয়ান এখনও হুমকি হয়ে ক্রিজে রয়ে গেছেন। ৮৬ ওভারে পাকিস্তানের সংগ্রহ ৩১৬, ৭ উইকেটে। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল পেয়েছেন ৪ উইকেট। তরুণ তুর্কি নাহিদ রানা ৫৮ রানে ২ উইকেট।
এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে লিটন দাসের ১৫৯ বলে গড়া ১২৬ রানের ইনিংসে ২৭৮ রান জড়ো করে বাংলাদেশ। পাকিস্তানের পক্ষে খুররম শাহজাদ চারটি ও মোহাম্মদ আব্বাস তিনটি উইকেট শিকার করেন।
জবাব দিতে নেমে বাবর আজমের ৬৮ ও সাজিদ খানের ঝড়ো ৩৮ রানে ভর করে ২৩২ রান জড়ো করতে সমর্থ হয় পাকিস্তান। বাংলাদেশ পায় ৪৬ রানের লিড। টাইগারদের পক্ষে নাহিদ রানা ও তাইজুল ইসলাম তিনটি করে এবং তাসকিন আহমেদ ও মেহেদী হাসান মিরাজ দুটি করে উইকেট শিকার করেন।
মুশফিকুর রহিমের সেঞ্চুরিতে ভর করে বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংসে ৩৯০ রান জড়ো করে, পাকিস্তানের লক্ষ্য দাঁড়ায় ৪৩৭ রান। ২৩৩ বলে ১৩৭ রান করেন মুশফিক। এছাড়া মাহমুদুল হাসান জয় ৬৪ বলে ৫২ ও লিটন দাস ৯২ বলে ৬৯ রান করেন। পাকিস্তানের পক্ষে খুররম শাহজাদ চারটি ও সাজিদ খান তিনটি উইকেট পান।
আজকের সিলেট/মিমো
মিজান মোহাম্মদ 








