স্কুলছাত্র তুলে নেওয়ার চেষ্টা, নিরাপত্তাহীনতায় প্রবাসী পরিবার
রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২৬, ০৩:৩৯ PM

স্কুলছাত্র তুলে নেওয়ার চেষ্টা, নিরাপত্তাহীনতায় প্রবাসী পরিবার

সংবাদদাতা

প্রকাশিত: ২৬/০৩/২০২৫ ১০:১৯:৪১ AM

স্কুলছাত্র তুলে নেওয়ার চেষ্টা, নিরাপত্তাহীনতায় প্রবাসী পরিবার


সিলেট থেকে এসে মৌলভীবাজারে এক স্কুলছাত্রকে সাদা মাইক্রোবাসে করে তুলে নিয়ে অপহরণের চেষ্টা করা হয়েছে, তবে স্থানীয়দের সাহসী প্রতিরোধে শিশুটি রক্ষা পেয়েছে। ঘটনার পর থেকে পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। ইতোমধ্যে ভিকটিম শিশুর পরিবার মৌলভীবাজার সদর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে।

ভিকটিমের পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সিলেটের একটি গ্রুপ গত ২২ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় মৌলভীবাজার শহরের পূর্ব সুলতানপুর এলাকার একটি বাসা থেকে ১৪ বছর বয়সী তানভীর আজিজকে কৌশলে বের করে এনে গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। তবে, এলাকাবাসী বিষয়টি টের পেয়ে অপহরণকারীদের আটক করে এবং পুলিশকে খবর দেয়।

এঘটনায় ভিকটিমের মা খালেদা বেগম বাদী হয়ে তিনজনের নাম উল্লেখ করে মৌলভীবাজার সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করার দীর্ঘদিন পরও পুলিশ মামলাটি রেকর্ড করেনি। বিষয়টি নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযুক্তরা হলেন- সিলেট নগরীর মজুমদারী ৬২/২ নং বাসার বাসিন্ধা আব্দুল মুতলিবের পুত্র আব্দু হামিদ, সুবিদবাজার এলাকার বাসিন্ধা হাজী আলীর পুত্র কাজী মিজান আহমদ ও আব্দুল হাকিমের পুত্র ইয়াছিন আহমদ।

তানভীরের মা খালেদা বেগম অভিযোগে উল্লেখ করেছেন যে, তার স্বামী মধ্যপ্রাচ্যে থাকেন এবং তিনি দুই সন্তান নিয়ে ভাড়া বাসায় বসবাস করেন। ঘটনার দিন তিনি ওষুধ আনতে ফার্মেসিতে যান, তখন বাসায় ছিলেন তার ছেলে তানভীর আজিজ ও ভাতিজি সুমাইয়া সোনিয়া। ফিরে এসে ছেলেকে না পেয়ে তিনি সুমাইয়াকে জিজ্ঞাসা করলে সে জানায়, কয়েকজন লোক এসে কথা বলে তানভীরকে নিচে নিয়ে গেছে।

তারপর তিনি তানভীরকে ফোন দিলে সে আতঙ্কিত কণ্ঠে বলে, "আম্মু, ওরা আমাকে ধরে নিয়ে যাচ্ছে!" তিনি তাড়াতাড়ি তার অবস্থান জানতে চাইলে তানভীর জানায়, সে "অরবিটের সামনে" রয়েছে। দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি দেখেন, তার ছেলে ভীতসন্ত্রস্ত অবস্থায় কাঁদছে এবং আশেপাশে লোকজন জড়ো হয়েছে। তার পোশাক ময়লা হয়ে গেছে এবং গেঞ্জি ছেঁড়া।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, অপহরণকারীরা তানভীরকে মামার দোকানে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের করে এনে জোর করে একটি সাদা নোহা গাড়িতে (ঢাকা মেট্রো-চ-৫১-৯৫৩০) উঠিয়ে মুখ চেপে ধরে অপহরণের চেষ্টা করছিল। তবে, তানভীরের চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে এবং অপহরণকারীদের গাড়িসহ আটক করে রাখে। পরে পুলিশ এসে তাদের থানায় নিয়ে যায়।

ঘটনার পর থেকে তানভীর মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ও আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। পুরো পরিবার চরম উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে। মা খালেদা বেগম তার সন্তানদের স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন, কারণ অভিযুক্তরা অত্যন্ত প্রভাবশালী ও চতুর প্রকৃতির, যারা যেকোনো সময় তাদের ক্ষতি করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন।

তানভীর বলে, "ওরা আমাকে মামার দোকানে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের করে নিয়ে যায়। পরে জোর করে গাড়িতে তুলতে চায়, আমাকে টেনে-হিঁচড়ে সিটে শুইয়ে দেয়, শুধু আমার দুই পা বাইরে ছিল। যাতে আমি কথা বলতে না পারি, তাই আমার মুখ চেপে ধরে। পরে আমি চিৎকার দিলে স্থানীয়রা এসে আমাকে উদ্ধার করে।"

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী আলাল মিয়া বলেন, তানভীর এই পাড়ার ভদ্র একটি ছেলে। তাদের পরিবারও ভদ্র ও নিরীহ। হঠাৎ করে তানভীরকে এভাবে অপহরণ করার চেষ্টা করবে, মুখ চেপে গাড়ি উঠিয়ে নেওয়ার চেষ্টা  করবে, এটা প্রতিবেশি হিসেবে মেনে নিতে পারছি না। দোষীদের বিচারের দাবি করছি।

পাড়ার পান ব্যবসায়ী এক নারী বলেন, আমরা তখন ঘটনাস্থলে না থাকলে তারা উঠিয়ে নিয়ে যেত। তারপর কি করতো সেটা আল্লাহই জানেন।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী মুক্তাদির মিয়া বলেন, "আমি আমার গ্রিল ওয়ার্কশপ বন্ধ করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম, হঠাৎ দেখি সাদা গাড়ির কাছে একটি ছেলের চিৎকার। কাছে গিয়ে দেখি আমাদের পাড়ার তানভীর। সে বলছিল, 'চাচা, আমাকে বাঁচান, ওরা আমাকে ধরে নিয়ে যাচ্ছে!' তখন আমরা এগিয়ে গিয়ে তাকে উদ্ধার করি এবং অপহরণকারীদের আটকে রাখি। পরে পুলিশ এসে তাদের থানায় নিয়ে যায়।"

আরেক প্রত্যক্ষদর্শী, অরবিট ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের স্বত্বাধিকারী মোঃ জহির মিয়া বলেন, "হঠাৎ বাইরে চিৎকার শুনে বের হয়ে দেখি, একদল লোক তানভীরকে গাড়িতে তোলার চেষ্টা করছে। তখন এলাকার সবাই এগিয়ে গিয়ে তাকে উদ্ধার করি।"

তিনি আরও বলেন, "তানভীর ছোটবেলা থেকে আমাদের চোখের সামনে বড় হয়েছে, আমাদের সঙ্গে খেলাধুলা করেছে। অথচ আমাদের সামনেই ওকে ধরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছিল! আমরা ঘটনাস্থলে না থাকলে ছেলেটার কি হতো, ভাবতেই ভয় লাগে! আল্লাহ ওকে রক্ষা করেছেন।"

সদর মডেল থানার ওসি গাজি মাহবুবুর রহমান ঘটনাটি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন।

আজকের সিলেট/ডি/এসটি

সিলেটজুড়ে


মহানগর