বালাগঞ্জে ৫৪ বছরেও পাকা হয়নি কাঁচারাস্তা
শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ০২:৪৫ AM

বালাগঞ্জে ৫৪ বছরেও পাকা হয়নি কাঁচারাস্তা

বালাগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২২/০২/২০২৫ ০৬:৫৪:৫১ AM

বালাগঞ্জে ৫৪ বছরেও পাকা হয়নি কাঁচারাস্তা


বালাগঞ্জ উপজেলার বোয়ালজুর ইউনিয়নের বালাগঞ্জ-মনোহরপুর বাজার পর্যন্ত আকাবাঁকা সরুরাস্তা। দুইটা রিকসাও একসাথে পাড়াপাড় হতে পারে না। দৈনন্দিন ছোট-খাট দুর্ঘটনা যেন নিয়মে পরিনত হয়েছে। বাজার অংশের পর থেকে গ্রামের ভেতরের প্রায় ২-৩ কি. মি. কাচা রাস্তাটি ৫৩ বছরেও পাকার মুখ দেখে নি। গ্রামের প্রায় ৫ হাজার মানুষের বসবাস। গ্রীষ্মকাল ও বর্ষাকালে সামান্য বৃষ্টি হলেই এক হাঁটু কাদা জমে। তখন যানবাহন তো দূরের কথা, হেঁটে চলাচলও বিপজ্জনক হয়ে পড়ে। একটু বৃষ্টি হলেই সমস্যায় পড়ে শিক্ষার্থী ও বয়স্করা। নিন্মাঞ্চল হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে পুরো সড়কটি ডুবে যায়। দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির পাকা অংশ প্রশস্ত এবং কাচা অংশটি পাকা করার দাবি জানিয়ে আসছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয়রা জানান, মনোহরপুর গ্রামের প্রায় ৫ হাজার লোকের চলাচল দীর্ঘ ৫৪ বছর ধরে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। প্রতি বর্ষা মৌসুমে একটু বৃষ্টি হলে স্কুল, মাদরাসা ও কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের প্রায় কাঁদা ডিঙিয়ে শিক্ষাঙ্গনে যেতে হয়। রাস্তাটির উচ্চতা বৃদ্ধি, সরু পাকা অংশটি প্রশস্ত এবং কাচা অংশটুকু পাকাকরণের দাবি এখন গণদাবিতে পরিণত হয়েছে। নির্বাচন এলে জনপ্রতিনিধিরা রাস্তাটি প্রসস্থ ও পাকাকরণের প্রতিশ্রুতি দিলেও নির্বাচিত হওয়ার পরে কার্যকর কোন উদ্যোগ নেয়া হয় না বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকবাসী।

স্থানীয় শামসুল হক জানান, উপজেলার মোবারকপুর, বানোগাঁও, মনোহরপুর, মাকড়সী গ্রামের প্রায় পনেরো-বিশ হাজার লোক চলাচল করে। সড়কটি প্রশস্ত হওয়াতে দৈনন্দিন দুর্ঘটনা ও বাকি ২-৩কিমি সড়ক কাঁচা থাকার কারণে চলাচলে তাদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। প্রতি বর্ষা মৌসুমে রাস্তাটি ডুবে যায়। এছাড়া ওই গ্রামের শতাধিক শিক্ষার্থীকে প্রতিদিন ওই কাঁচা সড়ক দিয়ে কলেজ, বিদ্যালয় ও মাদরাসায় আসা-যাওয়ায় সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হয়। ওই রাস্তা দিয়েই মোবারকপুর, বানোগাঁও, মনোহরপুর, মাকড়সী, সিংরাকোনা, হোসেনপুর, বাবরকপুরের মানুষ বালাগঞ্জ যেতে হয়, এতে চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়।

স্থানীয় উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আয়েশা জানান, রাস্তাটি পাকাকরণ খুবই প্রয়োজন। তা না হলে বিদ্যালয় যেতে আসতে প্রতিনিয়ত চরম দুর্ভোগ কিংবা যানবাহন চলাচল করতে অনুপযোগী হয়ে পড়ে। তাই দ্রুত সময়ের মধ্যে রাস্তা পাকাকরনের দাবি জানান তারা। আনিকা বলেন, হালকা বৃষ্টি হলে আমরা বিদ্যালয়ে আসতে পারি না, পথিমধ্যে কাঁদায় আমাদের ড্রেন নষ্ট হয়ে যায়। বর্ষা মৌসুম আসার আগেই আমাদের রাস্তা উচ্চতা বৃদ্ধি করে পাকাকরণের দাবি জানাচ্ছি।

মনোহরপুর বাজারে একাধিক ব্যক্তির সাথে কথা বললে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এমপি থেকে শুরু করে ইউপি চেয়ারম্যান কেউ বাকি নেই যে আমরা তাদের কাছে যাইনি। এলাকার মুরুব্বিসহ অসংখ্য মানুষ জনপ্রতিনিধিদের কাছে বার বার ধরণা দিয়ে শুধু প্রতিশ্রুতিই পেয়েছি। খুবই দুঃখের সঙ্গে বলতে হয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে কয়েকবার অবগত করা হলেও কোনো সাড়া পাইনি। করে দেয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন। গত ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান আমাদের এ রাস্তাটি করে দেয়ার প্রতিশ্রতি দিলেও এখন পর্যন্ত রাস্তাটি হচ্ছে না। সম্প্রতি সময়ে যেহেতু নির্দলীয় সরকার, দেশে উন্নয়ন কার্যক্রমও চলমান তাই এখন কাজটা করে দিলে কোথাও গিয়ে এলাকাবাসী ধরনা দিতে হবে না। অর্ধেক টাকার কাজ করে অর্ধেক লোপাট করতে পারবে না।

স্থানীয় ইউপি সফর আলী জানান, এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণের জন্য সড়কটির প্রশস্ত বাড়ানো এবং কাঁচা অংশটুকু পাকাকরণ করতে হবে। সড়কটি পাকা হলে মানুষেরা কৃষিপণ্য সহজে বাজারে বিক্রি করতে পারবে।

আজকের সিলেট/প্রতিনিধি/এপি

সিলেটজুড়ে


মহানগর