শাহজালাল বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ডক্টর আতী উল্লাহ বলেছেন, শিক্ষকরা কখনো মরে না,শিক্ষকরা বেঁচে থাকে তাঁর কর্মের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মাঝখানে ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে মণি হয়ে।যাকে আজ আপনারা বিদা সংবর্ধনা দিচ্ছেন এই বিদায় সেই বিদায় নয়। তিনি কর্মস্থল থেকে অব্যাহতি নিয়েছেন কিন্তু সমাজের মানুষের জন্য শিক্ষার্থীদের জন্য তিনি যে কল্যাণের কাজ করেছেন তিনি মারার পরও এই সব মানুষের মাঝে বিচরন করবেন। তাই শিক্ষক কে কোন মৃত্যু নেই। দুনিয়া থেকে বিদায় নিলেও ছাত্র-ছাত্রীদেরকে জ্ঞানের আলো দান করেছেন এবং সমাজের জন্য কল্যাণমুলক কাজ করেছেন, সেইসব কাজেই একজন শিক্ষককে আজীবন বাঁচিয়ে রাখে। শিক্ষক সুশান্ত কুমার দাস তার কর্মজীবনে অনেক শিক্ষার্থীকে পড়িয়েছেন, সত্যিকারের মানুষ হওয়ার শিক্ষা দিয়েছেন।
শনিবার সকাল ১১টায় শিক্ষার্থীদের আয়োজনে ঘোষ গ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এর অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শ্রী সুশান্ত কুমার দাসের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপরোক্ত কথাগুলো বলেন।
ড.আতি উল্লাহ বলেন, যেকোনো বিদায় বেদনার, কষ্টের। সুশান্ত কুমার দাস র মতো শিক্ষক এদেশের সম্পদ, তারাই সোনার মানুষ গড়ার কারিগর। তার অনুপস্থিতিতে এ বিদ্যালয় তার শুন্যতা অনুভব করবে। সবকিছুরই শেষ আছে, না চাইলেও একদিন ঠিকই বিদায় বলতে হয়। আমি তার অবসর জীবনের মঙ্গল কামনা করি। আর এ ধরণের অনুষ্ঠানের আয়োজন করায় বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীদের ধন্যবাদ জানান তিনি।
সংবর্ধিত অতিথির বক্তব্যে ঘোষগ্রাম প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিদায়ী প্রধান শিক্ষক সুশান্ত কুমার দাস আবেগে আপ্লুত হয়ে সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
ঘোষগ্রাম স্কুল প্রাঙ্গনে গ্রামের মুরব্বি ইব্রাহিম মিয়ার সভাপতিত্বে ও সাংবাদিক কাওসার আহমদ রাহাত এর সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, হাকুরবাজার মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা রশিদ আহমদ।
তিনি বলেন সুশান্ত কুমার দাস তার কর্মজীবনে অনেক অনেক শিক্ষার্থীকে পড়িয়ে দেশের কল্যাণে অনেক বড় জায়গা থেকে ভূমিকা রেখেছেন।
বক্তব্য রাখেন, লামাদুমকা সরকারি প্রা. বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পংকজ চৌধুরী, স্কুলের সাবেক সভাপতি মাস্টার শফিক আহমদ, মাস্টার ফয়েজুর রহমান,ঘোষগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রহমত আলী, শিক্ষিকা রীনা রানী সহ বিভিন্ন শিক্ষক শিক্ষিকাবৃন্দ।
স্কুলের সাবেক সভাপতি মাস্টার শফিক আহমদ বলেন, আজ সত্যিই আমাদের জন্য বেদনার দিন, মন খারাপের দিন। সুশান্ত কুমার দাস আর কোনোদিন ক্লাসে পাব না ভাবতেই খারাপ লাগছে। তার ন্যায়পরায়নতা, কর্মদক্ষতা, সততা ও সময়ানুবর্তিতা আমাদের অনুপ্রেরণা যোগিয়েছে।
তিনি নিজ সন্তানদের মত করে ছাত্র-ছাত্রীদেরকেও যোগ্য করে গড়ে তুলেছেন। তার অবসর জীবনের মঙ্গল কামনা করি।
অনুষ্ঠানের মানপত্র পাঠ করেন স্কুলের সাবেক ছাত্র সাহাব উদ্দিন শিহাব, শুরুতেই কোরআন তেলাওয়াত করেন সাবেক ছাত্র সালেহ আহমদ, শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন সাবেক ছাত্র নুরুল আমিন, ইঞ্জিনিয়ার তৈয়বুর রহমান,মাহদি আল আমিন সহ অনেকেই। এসময় স্কুলের শিক্ষক শিক্ষার্থীসহ এলাকার বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
দীর্ঘ প্রায় ৩০ বছরেরও বেশী সময় গোয়াইনঘাটের ঘোষগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সুশান্ত কুমার দাস।
২০২৪ সালের ১২ সেপ্টেম্বর ছিল তার শিক্ষকতা জীবনের শেষ কর্মদিবস। প্রিয় শিক্ষককে অবসর জনিত বিদায়োত্তর সংবর্ধনা দিয়েছে বিদ্যালয়ের -প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তার সহকর্মীদের পাশাপাশি উপস্থিত হন বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা। প্রিয় শিক্ষককে অশ্রুসজল নয়নে বিদায় দেন তারা। সৃষ্টি হয় এক আবেগঘন পরিবেশের।
পবিত্র কোরআন তেলওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এরপর বিদায়ী শিক্ষককের উদ্দেশ্যে মানপত্র পাঠ করা হয়। তার হাতে তুলে দেয়া হয় সম্মানসূচক ক্রেস্ট সহ গিফট বক্স। শিক্ষার্থীরা বিদায়ী গানের মাধ্যমে প্রিয় শিক্ষকের স্মৃতিচারণ করেন। শিক্ষাগুরুকে পুষ্পমাল্য পরিয়ে ফুল দিয়ে বিদায় জানান তারা।
আজকের সিলেট/প্রতিনিধি/এপি
গোয়াইনঘাট প্রতিনিধি 








