বিশ্বনাথে আগের চেয়ে আলু চাষের পরিমাণ এবার বেড়েছে। অন্যান্য বছরের তুলনায় এ উপজেলায় এবার আলু উৎপাদনে মনযোগী কৃষকরা। আলুর দাম বাড়ায় লোকসানের আশঙ্কা কম বলে আলু চাষে আগ্রহ বেড়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা।
বিশ্বনাথ উপজেলায় ইতোমধ্যে আলু আবাদের পরিমাণ লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করেছে। কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, উপজেলায় আলু আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ১৭৮ হেক্টর নির্ধারণ করা হলেও আবাদ হয়েছে ১৮০ হেক্টর জমি। স্থানীয় বাজারে আলুর বীজ সংকট থাকায় এখনো কৃষকদের চাষকৃত জমি বিঘার পর বিঘা খালি পড়ে আছে। আলুর বীজ পাওয়া গেলে আবাদের পরিমাণ ২০০ হেক্টরের বেশি হতো।
আলু বীজ না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি সবজি আবাদ হওয়া খাজাঞ্চী ইউনিয়ন ও অলংকারী ইউনিয়নের কৃষকরা। আলুর বীজ না পেয়ে কৃষকরা সারমিশ্রিত খালি জমিতে এখন অন্য সবজি উৎপাদন করার চিন্তা করছেন।
খাজাঞ্চী ইউনিয়নের কৃষক ইসমত আলী, মদরিছ আলী, শাহাব উদ্দিন ও অলংকারী ইউনিয়নের মোবারক আলী জানান, স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি সিলেট শহরেও আলুর বীজ পাওয়া যাচ্ছে না। আমরা সার ফেলেছি জমিতে। এখন জমি অনাবাদী রাখতে হবে। বিশ্বনাথ কৃষি অফিস বীজ সংকটের কারণ হিসেবে বলছে, লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে আবাদের কারণে এবং সিলেট জেলাভিত্তিক আলুর বীজ সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় এই সংকট মোকাবেলা করতে হচ্ছে কৃষকদের।
দেখা গেছে, শীত মৌসুম শুরুর সাথে সাথে শাক-সবজি আবাদে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন বিশ্বনাথের কৃষকক‚ল। এমন চিত্র অন্যান্য বছর কমই দেখা গেছে। আলুর পাশাপাশি অন্যান্য শাক-সবজি আবাদেরও লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে- এমনটি আশা করছে উপজেলা কৃষি অফিস।
কৃষি অফিস জানিয়েছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে শাক-সবজি আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩২৫০ হেক্টর, যার মধ্যে এ পর্যন্ত ১৩৫২ হেক্টর জমি আবাদ হয়েছে। পরিবেশ অনুক‚লে থাকলে আগাম, মাঝারী ও দীর্ঘমেয়াদী সকল প্রকার শাক-সবজি উৎপাদনের কাঙ্খিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হবে বলে জানান কৃষি কর্মকর্তা।
তিনি জানান, গত শীত মৌসুমের চেয়ে এবার আধুনিক ও উচ্চ ফলনশীল জাতের বিভিন্ন শাক-সবজি আবাদের প্রশিক্ষণ প্রদান ও কৃষকদের মাঝে কৃষি প্রণোদনা বিতরণ করেছে কৃষি অফিস।
মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, হাইব্রিড জাতের উচ্চফলনশীল ক্যাপসিকাম (নাগা মরিচ) আবাদের মাত্রাও বেড়েছে উপজেলাজুড়ে। এছাড়া গম, ভুট্টা, আলু, সরিষা, বাদাম আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ৬৭৬ হেক্টর। ইতোমধ্যে ৩৫৯ হেক্টর আবাদ হয়েছে। শিম, মিষ্টি লাউ, বাঁধাকপি, বেগুন, ফুলকপি, কাঁচা মরিচ ও মুলা আবাদের পরিামাণ বাড়লেও এবার টমেটোর আবাদ কম দেখা যাচ্ছে।
বিশ্বনাথ উপেজলার কৃষি কর্মকর্তা কনক চন্দ্র রায় জানান, গত বছরের তুলনায় এবার শীতকালীন সবজি আবাদের পরিমাণ বেড়েছে। বিশেষ করে আলু উৎপাদনের মাত্রা ইতোমধ্যে লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করেছে। বাড়তি আবাদের কারণে আলু বীজের সংকট তৈরি হয়েছে। সংকট মোকাবেলায় স্থানীয়ভাবে বীজ সংরক্ষণাগার নির্মাণ জরুরি। এ বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দেখা উচিত। তিনি আলু বীজের জন্য প্রস্তুত করা জমি খালি না রেখে অন্য ফসল উৎপাদন করার আহ্বান জানান কৃষকদের প্রতি।
আজকের সিলেট/ডি/এসটি
বিশ্বনাথ প্রতিনিধি 








