সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলা রসুলগঞ্জ বাজারে সুনামগঞ্জ বাগবেদ গ্রাম থেকে ১১টি গরু নিয়ে সকালে হাটে এসেছেন বিক্রেতা মতিউর রহমান। প্রায় একই সাইজের প্রতিটি গরু ১ লাখ ৮০ হাজার থেকে ২ লাখ টাকায় বিক্রির প্রত্যাশা থাকলেও ৪টি গরুই বিক্রি করতে হয়েছে দেড় লাখ টাকার নিচে। তাই ভীষণ হতাশ তিনি।
জগন্নাথপুর রসুলগঞ্জ বাজার পশুর হাটে আসা মতিউর রহমান বলেন, আমার প্রতিটি গরু কমপক্ষে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা বিক্রি হওয়ার কথা ছিল৷ কিন্তু প্রত্যাশা অনুযায়ী দাম পাচ্ছি না৷ ১১টি গরুর চারটি বিক্রি করেছি দেড় লাখের নিচে৷ বাকি ৭ টি গরু নিয়েও ঝামেলায় আছি৷ একটু বেশি দামে বিক্রির আশায় ঢাকা এনেছিলাম। কিন্তু এখন দেখছি কপাল পুড়ছে আমার। এতগুলো গরু বাড়ি ফেরত নিতেও খরচ অনেক৷ এতদিনের কষ্টও বৃথা৷ তাই সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে এগুলো বিক্রি করেই গ্রামে ফেরার।
গরু বিক্রি হচ্ছে, তবে পর্যাপ্ত নয়,কাঙ্ক্ষিত দামে মিলছে না পশু, অপেক্ষা বাড়ছে ক্রেতাদের ছোট ও মাঝারি গরুতে আগ্রহ বেশি ক্রেতাদের বেশিরভাগ বিক্রেতার অভিযোগ, তারা কাঙ্ক্ষিত মূল্য পাচ্ছেন না। মানুষের ক্রয় ক্ষমতার সমন্বয়হীনতার এবং প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত পশু বাজারে আসাকেই সমস্যার চোখে দেখছেন তারা। অপরদিকে বাজারে অতিরিক্ত দাম দিয়ে গরু কিনতে হচ্ছে বলে অভিযোগ ক্রেতাদের৷
সরেজমিন দেখা গেছে, বিক্রেতারা গরুর দাম একটু বাড়িয়ে বললেই সটকে পড়ছেন ক্রেতারা। অনেক ক্রেতা আবার অপ্রাসঙ্গিক দাম বলেই চলে যাচ্ছেন। আবার দামে বনিবনা হলে হাট ঘুরে দেখে আশ্বস্ত হলে পশু কিনে নিয়ে যাচ্ছেন অনেকেই। গরু বিক্রেতা জগন্নাথপুর পাটলী গ্রামের আব্দুর রহিম বলেন, এক ক্রেতার কাছে দেড় থেকে পৌনে দুই মণ ওজনের একটি গরুর দাম চেয়েছিলাম ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। ক্রেতার দাম পছন্দ হয়নি বলে কিছু না বলেই চলে গেছেন ।
ছাতক বড়াটুকা থেকে ৮টি গরু নিয়ে এসেছেন খামারি জাবেদ মিয়া। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় গরুটির দাম চেয়েছেন তিনি ৫ লাখ টাকা। ক্রেতারা এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ দাম বলেছেন সাড়ে ৩ লাখ টাকা। এ নিয়ে জাবেদের একটু মন খারাপ। তিনি বলেন, গরুর ন্যায্য দাম কেউ বলছে না৷ যে কারণে বিক্রি করতে পারছি না৷
রসুলগঞ্জ বাজার পশুর হাট ঘুরে দেখা গেছে, ছোট সাইজের প্রতিটি গরুর দাম হাঁকানো হচ্ছে ১ লাখ থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। তবে দরদাম শেষে সাইজ ও মানভেদে এসব গরু বিক্রি হচ্ছে ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকায়। ক্ষেত্রবিশেষ এই দাম ১ লাখের বেশিও হচ্ছে৷ মাঝারি সাইজের প্রতিটি গরুর দাম হাঁকানো হচ্ছে সাড়ে তিন থেকে পাঁচ লাখ টাকা তবে দরদাম শেষে মানভেদে এসব গরু বিক্রি হচ্ছে আড়াই থেকে সাড়ে ৩ লাখ টাকা।
জগন্নাথপুর মিরপুর থেকে গরু কিনতে আসা আরেক ক্রেতা সেলিম বলেন, গরুর দাম একটু বেশী আজ কিনবনা। আগামী শুক্রবার কিনব দেখে শুনে।
রসুলগঞ্জ বাজার গরুর হাটের ইজারাদার হাজী জমসেদ মিয়া তালুকদার বলেন, বেচাকেনা কম,এছাড়া পাইকারদের জন্য থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা আছে। হাটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সিসি ক্যামেরা দিয়ে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হচ্ছে।
আজকের সিলেট/ডি/এসটি
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি 








