প্রভাবশালীর ক্রাশার মিলের কারণে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে ৩শ পরিবার
শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩৬ PM

প্রভাবশালীর ক্রাশার মিলের কারণে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে ৩শ পরিবার

ইমাম উদ্দিন, জৈন্তাপুর থেকে

প্রকাশিত: ২২/১১/২০২৪ ০৭:১৪:৫৩ AM

প্রভাবশালীর ক্রাশার মিলের কারণে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে ৩শ পরিবার


জৈন্তাপুর উপজেলার ২নং জৈন্তাপুর ইউনিয়নের আলু বাগান মোকামবাড়ী আবাসিক এলাকার মাঝহাঁটি,দাউদাটিল্লার প্রবেশ মুখে নিয়মনীতির কোন তোয়াক্কা না করে পরিবেশ ও জনবসতির বিপর্যয় ঘটিয়ে এবং অপরিকল্পিত ভাবে স্থাপন করা হয়েছে,মতিন কনস্ট্রাকশনের মালিকানাধীন ডাবল প্লান্টের বড় ক্রাশার মেশিন, মতিন স্টোন ক্রাশার মিল লিমিটেড।

শুরু থেকেই স্থানীয়রা আবাসিক ও ঘনবসতি এলাকায় মিল স্থাপনে বাঁধা দিলে ও মালিকপক্ষ বিগত সরকারের আমলে প্রভাবশালীদের মাধ্যমে ক্রাশার মিলটি স্হাপন করেন। 

ক্রাশার প্লানটি স্থাপনের পর পাথর ক্রাশিং এর সময় কোন পানির ব্যবহার করে না মালিক পক্ষ। স্থানীয়রা বার বার ক্রাশার মিলে পানি ব্যবহারের অনুরোধ করার পর ও মালিক পক্ষ এলাকাবাসীর অনুরোধের তোয়াক্কা করে না বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন। 

চার/পাঁচটি মহল্লায় হিন্দু মুসলিম মিলিয়ে প্রায় ২৫০ থেকে ৩শ টি পরিবার বসবাস করে। মিলের ২০০ মিটার এলাকার মধ্যে সনাতন ধর্মালম্বীদের মন্দির রয়েছে। যেখান প্রতিদিন সকালে হিন্দু সম্প্রদায়ের শিশুদের প্রাক- প্রাথমিক স্কুলের ধর্মীয় শিক্ষা দেয়া হয়।

তাছাড়া ক্রাশার মিলটি স্বয়ংক্রিয় অটোলোডেড স্টিস্টেম হওয়ার ফেলুডার যন্ত্র দিয়ে বিশাল আকৃতির পাথর লোড করা হয়।এতে মধ্যরাতে বিকট আওয়াজে কেঁপে ওঠে এলাকার চারপাশ।এতে আশ-পাশের শিশু-বৃদ্ধরা ভয়ে আতঙ্কিত হয়ে উঠে। 

মোকামবাড়ী প্রাক-প্রাথমিক স্কুলের সনাতন ধর্মীয় শিক্ষিকা রিংকু রানী পাল বলেন,মিল মালিক পক্ষ পাথর ক্রাশিংয়ের সময় পানি ব্যবহার না করার কারণে,আমাদের পূজা মন্ডব কিছুটা নিচে হওয়ায় প্রতিদিন বৃষ্টি মত ধূলোবালি মন্দিরে প্রবেশ করে।

মিলের ১শ মিটার দূরে বসবাসকারী গৃহিনী লাকি রানী পাল বলেন,আমার মেয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থী।মালিক পক্ষ ভোর থেকে রাত ৮টা ও বেশী সময় পর্যন্ত এক নাগাড়ে মিল চালায়।যা আমার বাচ্চাদের লেখাপড়ায় বিঘ্ন ঘটছে ইতিমধ্যে আমার মেয়ের নিয়োমিত মাথা ব্যাথা সমস্যা লেগেই থাকে,তাছাড়া অত্র মহল্লার অধিকাংশ শিশুরা-বয়স্ক লোকেরা শ্বাসকষ্ট ও চর্মরোগে আক্রান্ত হচ্ছেন বলে তিনি জানান।

মোকামবাড়ী দূর্গা মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক শ্রী নিত্য লাল বলেন,জৈন্তাপুর উপজেলায় বড় বড় দুইটি সমিতির অধীনে অনেক মিল চলে।আমরা দেখি প্রতিদিন সকালে মিল চালু করে সন্ধ্যা নামতেই বন্ধ করে দেয়। কিন্তু মতিন কনস্ট্রাকশনের মিলটি কোন নিয়মনীতির তোয়াক্কা করছে না।বরং অদৃশ্য কোন প্রভাব খাটিয়ে যেমন তেমন ভাবে পরিবেশের ক্ষতি করে তারা মিল চালাচ্ছে। তিনি আরো বলেন, রাত নয়টা দশটার পর মিল বন্ধ হলেও ফেলুডার দিয়ে পাথর লোডিং চলে। যার ফলে গভীর রাত পর্যন্ত বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে পুরো এলাকা। যে স্থানটিতে মিলটি স্থাপন করা হয়েছে সেটা কথিত আছে সরকারি খাঁস ভূমি। এখানে কিভাবে মিল স্থাপন করা হলো জনমনে এখন সেই প্রশ্ন?

মোকামবাড়ী আলুবাগান এলাকায় ভারতীয় চুনাপাথর আমদানি রপ্তানিকারক ব্যবসায়ী সৈয়দ শামীম আহমেদ বলেন, বার বার পানি দিয়ে মিল চালানোর কথা বললেও তারা এতে কোন কর্ণপাত করছে না। বরং অদৃশ্য কারণে গায়ের জোরে তারা পরিবেশ বিপর্যয় ঘটিয়ে ভোর থেকে রাত দশটা পর্যন্ত মিল চালায়। বর্তমান আলুবাগান এলাকায় একটি মিলের কারণে আশপাশের বনের গাছপালা ধূলায় সাদা হয়ে গেছে। এক সময় এই এলাকাতে অনেকে পানের চাষ হতো সেটাও বাদ দিয়ে দিয়েছে। অনেক সুপারী গাছ আছে ফলন আসার সাথে সাথে ডাষ্টের কারণে ফলন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

তিনি আরো বলেন,এতোদিন তাদের প্রভাব ও ক্ষমতার দাপটে স্থানীয়রা চুপ থাকলেও দেশের পট পরিবর্তনে এখন সোচ্চার হয়ে উঠেছে স্থানীয়রা এখন তাদের শিশুদের ভবিষ্যৎ স্বাস্থ্য সুরক্ষার কথা ভেবে উক্ত স্থান হতে মতিন কনস্ট্রাকশনের মিলটি অপসারনের দাবী জানান। 

তিনি আরো বলেন, পরিবেশ বিপর্যয় রোধে ও আলুবাগান মহল্লার মানুষের শান্তিতে বসবাসের জন্য স্থানীয়দের গণস্বাক্ষর নিয়ে একটি স্মারকলিপি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর গত মঙ্গলবার দাখিল করা হয়েছে। 

মতিন কনস্ট্রাকশন ক্রাশার মিলের ম্যানেজার মাকসুদুর রহমানের নিকট স্থানীয়দের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি মালিক কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা না থাকায় কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি। ক্রাশার মিলের সত্ত্বাধিকারী আবদুল ওয়াহেদের মোবাইল নাম্বার চাইলে তিনি তা দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে সালিক রুমাইয়া বলেন, মোকাবাড়ী আলুবাগান এলাকার স্থানীয়দের অভিযোগ তিনি পেয়েছেন। এ বিষয় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করার জন্য ইতিমধ্যে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) কে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।

আজকের সিলেট/প্রতিনিধি/এপি

সিলেটজুড়ে


মহানগর