সিলেট তামাবিল স্হল বন্দরে ভারত থেকে আমদানিকৃত মিথানলের খালাসকৃত একটি ট্যাংকলরীতে অগ্নীকান্ডের ঘটনা ঘটে। তবে এ সময় আরো কয়েটি মিথানলের গাড়ি দূরে অবস্হান করছিল।অগ্নিকান্ডে আক্রান্ত ট্যাংকলরীতে মিথানল না থাকায় ভয়াবহ দূর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে তামাবিল স্হল বন্দরে কর্মরত হাজার হাজার শ্রমিক ও আশপাশের আবাসিক এলাকার বসতঘর সহ কয়েক লক্ষ বসবাসকারীর মানুষ।
শনিবার দুপুর দেড়টার দিকে ভারতীয় ট্যাংকলরী ( NLO-LA-H 9493) তে আগ্নীকান্ডের সূত্রপাত হয়।
এ সময় তামাবিল স্থলবন্দর থেকে জৈন্তাপুর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশনে খবর দেয়া হয়।কিন্তু ১২ কিমি দুর থেকে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ী আসতে বিলম্ব হবে,তাই তাৎক্ষণিকভাবে ভারতের ডাউকি স্থলবন্দর থেকে অগ্নিনির্বাপক গাড়ী বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে আধঘন্টা চেষ্টা করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
এ বিষয়ে তামাবিল স্থলবন্দরের সহকারী পরিচালক আমিনুল হক বলেন,গত ৫ই নভেম্বর বাংলাদেশের মিথানল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান সামুদা স্প্রেক ক্যামিকেল লিমিটেডের নামে ৭টি গাড়ী তামাবিল স্থলবন্দরে প্রবেশ করে। পরে ল্যাবরেটরী পরীক্ষা শেষে শনিবার বাংলাদেশের ট্যাংকলরীতে ক্যামিকেলগুলো স্হানান্তর করা হয়।
প্রতিটি ভারতীয় ট্যাংকলরীতে ২৮-৩০ টন মিথানল থাকে বলে তিনি জানান। তিনি আরো বলেন, আগুন লাগা গাড়ীটি সাতটি আমদানি হওয়া গাড়ীর সর্বশেষ গাড়ী ছিলো।
অগ্নীকান্ডের সূত্রপাত কিভাবে, এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পুড়ে যাওয়া গাড়ীর চালক সারভান বলেন গাড়ীর ভিতরে ওয়্যারিং শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত। বাকিটা তদন্ত সাপেক্ষে বলা যাবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক রাজস্ব কর্কমতা জানান যে, বিগত এক সপ্তাহ আগে এসব মিথানল আমদানী করা হয়েছিল।কিন্তু আইনি জটিলতায় তা খালাস হতে পারছিল না।পরে আইনি প্রক্রিয়া সহ শেষ করে মিথানল খালাস করা শুরু হয়।
এছাড়া সিলেট স্হল বন্দর কতৃপক্ষ তামাবিল স্হল বন্দরে মিথানল রাখার মত পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্হা কেমিক্যাল ল্যাব,ফায়ার ফাইটিং সহ অন্যান্য নিরাপদ পরিবেশের সুযোগ-সুবিধা না থাকায় মিথানল আমদানি ঝুকিপূর্ণ মনে করেন।
এদিকে, মিথানলের গাড়ীতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ও স্থলবন্দরে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্হা না থাকায় স্হানীয় ব্যবসায়ী ও স্থলবন্দর শ্রমিকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।
তামাবিল কয়লা চুনাপাথর আমদানি রপ্তানি কারক গ্রুপের সহ সভাপতি আব্দুল মান্নান বলেন,বিগত ছয় মাস পূর্বে স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের নিকট পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্হা নিশ্চিত করে ক্যামিকেল আমদানির বিষয়ে লিখিত আবেদন জানানো হয়েছিলো। কিন্তু এখন পর্যন্ত কার্যকর কোন ব্যাবস্হা নেয়ার উদ্যোগ নিতে দেখা যাচ্ছে না।
তিনি বলেন, দ্রূত সময়ের মধ্যে ক্যামিকেল আমদানির পূর্বে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্হা নিশ্চিত করা আহবান জানান তিনি।
আজকের সিলেট/ডি/এসটি
জৈন্তাপুর প্রতিনিধি 








