ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণে প্রভাব বাড়ছে এসেনসিয়াল ড্রাগসের
মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:০৪ PM

ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণে প্রভাব বাড়ছে এসেনসিয়াল ড্রাগসের

আজকের সিলেট ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৮/০৪/২০২৬ ১০:১৬:১৮ AM

ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণে প্রভাব বাড়ছে এসেনসিয়াল ড্রাগসের


দেশে দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় ধরে সুলভ মূল্যে মানসম্মত ওষুধ সরবরাহ করে আসছে সরকারি ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান এসেনসিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেড (ইডিসিএল)। প্রতিষ্ঠানটি ১৫৬ ধরনের ওষুধ উৎপাদন করে। মূলত সরকারি হাসপাতাল, কমিউনিটি ক্লিনিক এবং বিভিন্ন স্বাস্থ্য প্রকল্পে এসব ওষুধ ব্যবহার হয়। সরকারি হাসপাতালগুলোর ৮০ শতাংশ ওষুধের চাহিদা পুরণ করে ইডিসিএল।

প্রতিষ্ঠানটি সরকারি হাসপাতালগুলোর সম্পূর্ণ চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে বর্তমানে নতুন নতুন মেশিনারিজ স্থাপনের কাজ শুরু করেছে। এছাড়া ভবিষ্যতে হাসপাতালগুলোর চাহিদা বেড়ে গেলেও সে চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে আগাম প্রস্তুতি হিসেবে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখানে বিসিক শিল্প অঞ্চলে ৩০ একর জায়গায় নতুন কারখানা স্থাপনের কাজ শুরু হতে যাচ্ছে।

জানা গেছে, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের তুলনায় ইডিসিএলের ওষুধের দাম অনেক কম। সরকারি খাতে বিপুল পরিমাণ ওষুধের চাহিদা ইডিসিএল পূরণ করায় সরকারকে বেসরকারি খাতের ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল হতে হয় না। এর মধ্যে দিয়ে দেশের ওষুধের বাজার দর স্থিতিশীল রাখতে শক্তিশালী একটি ভূমিকা রাখতে সক্ষম হচ্ছে রাষ্ট্রীয় এই প্রতিষ্ঠানটি। এরইমধ্যে ৭৯টি ওষুধের দাম দুই ধাপে কমানো হয়েছে। প্রথমধাপে ৩৩টি গুরুত্বপূর্ণ ওষুধের দাম কমানো হয় এবং দ্বিতীয় ধাপে কমানো হয়েছে ৪৬টির ওষুধের দাম।

খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, বেসরকারি ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিগুলো যখন কোনো ওষুধের দাম নির্ধারণ করে, তখন ইডিসিএলের উৎপাদন খরচ এবং সরবরাহ মূল্য একটি আদর্শ হিসেবে কাজ করে। ইডিসিএল একই মানের ওষুধ অনেক কম দামে সরবরাহ করতে পারায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো ইচ্ছেমতো দাম বাড়ানোর ক্ষেত্রে একটি অদৃশ্য চাপের মুখে থাকে।

২০২৫ সালে ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হিসেবে মো. আ. সামাদ মৃধা দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ইডিসিএল সরকারি অর্থের ব্যয় সাশ্রয়ে নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। তার নেতৃত্বে গত এক বছরে সেবার ক্ষেত্রে এসেনসিয়াল ড্রাগস গুণমান বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও অভূতপূর্ব সাফল্য পেয়েছে। তার বেশ কিছু উদ্যোগ ইডিসিএলে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

তবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই এমডি সামাদ মৃধাকে অভ্যন্তরীণ স্বার্থান্বেষী মহলের বাধার মুখে পড়তে হয় বলে জানা যায়। এসব সমালোচনা ও প্রতিবন্ধকতা উপেক্ষা করে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় সাশ্রয় এবং ক্রয় প্রক্রিয়ায় শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কাজ করেন তিনি। এই উদ্যোগগুলো ওষুধের বাজার দর নিয়ন্ত্রণে প্রভাবকের ভূমিকা পালনে প্রতিষ্ঠানটির জন্য সহায়ক হয়।

ইডিসিএল এমডি মো. আ. সামাদ মৃধা বলেন, ইডিসিএলের ক্রয় প্রক্রিয়ায় একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট জড়িত ছিল। সেই সিন্ডিকেট ভেঙ্গে দিয়েছি। এর ফলে টেন্ডারে অধিক সংখ্যক দরদাতা প্রতিযোগিতামূলক মূল্যে অংশগ্রহণ করছে এবং কম দামে কাঁচামাল ক্রয় করতে পারছি। ওষুধের দাম কমানো সম্ভব হয়েছে।

‘এ কারণে আগের সিন্ডিকেটের ব্যবসায়ী আমার বিরুদ্ধে বিভিন্ন মাধ্যমে মিথ্যা তথ্য দিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে। তাদের এজেন্ডা আমাকে সরিয়ে দিয়ে তাদের পছন্দের ব্যক্তিকে দিয়ে তাদের স্বার্থ হাসিল করা,’ যোগ করেন সামাদ মৃধা।

জানা গেছে, ইডিসিএলের খরচের একটি বিশাল অংশ ব্যয় হয় ওষুধ তৈরির কাঁচামাল আমদানিতে। এমোক্সিসিলিন টি এইচ (কোম্প্যাক্টেড) বিপি নামের কাঁচামাল বিগত সরকারের আমলে প্রতিকেজি কেনা হতো ৩২. ২০ ডলারে। বর্তমানে একই কাঁচামাল প্রতিকেজির দাম পড়ছে ১৯.৪৮ ডলার। কেজিতে সাশ্রয় ১০.৭২ ডলার।

এমোক্সিসিলিন টি.এইচ (মাইক্রোনিজেদ) বিপি প্রতিকেজি কেনা হতো ৩০.৮৯ ডলারে। বর্তমানে    প্রতিকেজি কেনা হচ্ছে ২৫.৭০ ডলারে। কেজিপ্রতি সাশ্রয় হচ্ছে ৫.১৯ ডলার।

অ্যাটোরভাস্ট্যাটিন ক্যালসিয়াম ট্রাইহাইড্রেট ইউএসপির কাঁচামাল আগে কেনা হতো প্রতিকেজি ১১৯ ডলারে। বর্তমানে কেনা হচ্ছে ১০৬. ৯৮ ডলারে। এই কাঁচামালে বর্তমানে কেজিতে সাশ্রয় হচ্ছে ১২.২ ডলার। ডেক্সামেথাসনে সোডিয়াম ফসফেট বিপি আগে প্রতিকেজি কেনা হতো ৫৮০ ডলার। বর্তমানে কেনা হচ্ছে ৫২৫ ডলারে। এতে সাশ্রয় হচ্ছে ৫৫ ডলার। এভাবেই উৎপাদিত ৩৭ ধরণের কাঁচামাল কেনায় ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে ২৬ কোটি ৬৯ লাখ টাকা সাশ্রয় করেছে ইডিসিএল।

খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, ওষুধের বাজার দর নিয়ন্ত্রণে ইডিসিএল আগের থেকে অনেক বেশি কার্যকর ভূমিকা রাখছে। ইডিসিএল বর্তমানে সরকারি বরাদ্দ নিয়ে ৩৭ প্রকার অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ উৎপাদন করছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইডিসিএলের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ‘আগে প্রতিটি খাতে ব্যয়ের যে ধরণ ছিল, তাতে সংস্কার আনা অত্যন্ত কঠিন ছিল। কিন্তু বর্তমান এমডি যোগ দেওয়ার পর প্রতিটি পাই-পয়সার হিসাব রাখছেন। এতে খরচ যেমন কমেছে, কাজের গতিও বেড়েছে বহুগুণ।’

প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ওষুধের গুণগত মান বজায় রেখে উৎপাদন খরচ কমিয়ে আনা ইডিসিএলের প্রধান লক্ষ্য ছিল। যা এখন বাস্তবে রূপ নিয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে দরকষাকষি এবং স্বচ্ছ টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ওষুধের কাঁচামাল কেনায় বড় ধরনের সাশ্রয়ে রাষ্ট্রীয় এই প্রতিষ্ঠানটির প্রচেষ্টার সুফল পাচ্ছেন সরাসরি জনগণ। বাজার স্থিতিশীল রাখার একটি সফল মডেলে পরিণত হয়েছে ইডিসিএল।

এক বছরে এসেনসিয়াল ড্রাগসের অর্জন 
ইডিসিএলের এমডি মো. আ. সামাদ মৃধা বলেন, কর্মঘণ্টা বৃদ্ধি এবং ওভারটাইম কমানোর ফলে বড় অঙ্কের অর্থ সাশ্রয় হয়েছে। অতিরিক্ত ও অদক্ষ লোকবল কমানোর পরও উৎপাদন ২০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।

জানা গেছে, ইডিসিএলে উৎপাদনের মেশিন বর্তমানে আগের তুলনায় ৩০ মিনিট বেশি সময় চালানো হচ্ছে। এর ফলে দৈনিক ১২৬১ কর্মঘণ্টা বেড়েছে। বছরে ৩ লাখ ১০ হাজার ২০৬ কর্মঘন্টা বাড়ায় বছরে প্রায় ৪ কোটি ৬৫ লাখ টাকা সাশ্রয় হয়েছে। প্রতিদিনের কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করা যাচ্ছে। ওভার টাইমও কমেছে। তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, গত ছয় মাসে এর আগের ছয় মাসের তুলনায় ওভারটাইমে ৪ কোটি ১৪ লাখ টাকা কম ব্যয় হয়েছে।

ক্রয় এবং অন্যান্য উৎস থেকে ব্যয় সাশ্রয় 
অতিরিক্ত ও অদক্ষ লোকবল কমানো হয়েছে। তারপরও উৎপাদন বেড়েছে প্রতিষ্ঠানটির। জানা গেছে, ৫৭৭ জন লোকবল কমানোর পরও আগের তুলনায় ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে ৫৯ কোটি টাকার ওষুধ উৎপাদন বেড়েছে। বেতন বাবদ প্রায় ২৪ কোটি টাকা সাশ্রয় হয়েছে।

ইডিসিএলের এমডি মো. আ. সামাদ মৃধা বলেন, ইডিসিএলের ক্রয় প্রক্রিয়ায় পূর্ববর্তী সিন্ডিকেট ভাঙ্গার কারণে টেন্ডারে অধিক সংখ্যক দরদাতা প্রতিযোগিতামূলক মূল্যে অংশগ্রহণ করছে। কাঁচামাল সামগ্রী আগের তুলনায় ৩০-৫০ শতাংশ পর্যন্ত কম দামে কেনা সম্ভব হচ্ছে।

জানা গেছে, ডিসোপ্রোপাইল অ্যালকোহল আগে প্রতি টন ১ হাজার ৬১৮ ইউএস ডলারে কেনা হতো। বর্তমানে প্রতিটন কেনা হচ্ছে ১ হাজার ৩৯৭ ডলারে। এতে টনপ্রতি সাশ্রয় হচ্ছে ২২১ ডলার। ম্যালিজ স্টার্চ আগে প্রতি টন ৬০৫ ডলারে কেনা হতো। বর্তমানে প্রতিটন কেনা হচ্ছে ৫১৮ ডলারে। এতে টনপ্রতি সাশ্রয় হচ্ছে ৮৭ ডলার।

সিপিকোম ট্রাইহাইড্রেট আগে প্রতি কেজি ১৩৯.৯৭ ডলারে কেনা হতো। বর্তমানে প্রতি কেজি ১২১ ডলারে কেনা হচ্ছে। এতে কেজিতে সাশ্রয় হচ্ছে ১৮.৯৭ ডলার। ক্রয় খাতে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ২৬ কোটি ৬৯ লাখ টাকা সাশ্রয় করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

অভিযোগ রয়েছে, আগে সবগুলো দরদাতা প্রতিষ্ঠান সিন্ডিকেট করে টেন্ডারে বেশি দরে দরপত্র দাখিল করতো। এ কারণে ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে ঘন ঘন পুনঃদরপত্র আহ্বান করতে হতো। এর ফলে মাঝে মাঝে বিভিন্ন কাঁচামাল স্বল্পতা দেখা যেত। যার পরিপ্রেক্ষিতে ইডিসিএল কর্তৃপক্ষ মাঝেমধ্যে উচ্চমূল্যেও কাঁচামাল ক্রয় করতে বাধ্য হতো।

বর্তমানে সেই সিন্ডিকেট আর নেই। এ কারণে বেশি সংখ্যক ঠিকাদার দরপত্রে অংশগ্রহণ করছে। ভালো উৎস থেকে আগের তুলনায় কম মূল্যে কাঁচামাল কেনা সম্ভব হচ্ছে।

ইডিসিএলের এমডি বলেন, টোল ম্যানুফ্যাক্টরিং কমানোর ফলে প্রায় ৩০ কোটি ৬৭ লাখ টাকা সাশ্রয় হয়েছে। কিছু মেশিন ক্রয়ের মাধ্যমে ভবিষ্যতে টোল ম্যানুফ্যাক্টরিং শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। গোপালগঞ্জ প্রকল্পের নতুন প্রোডাক্ট আইভি ফ্লুইড উৎপাদন শুরু হয়েছে।

কাঁচামালের দাম কমিয়ে এবং অন্যান্য উৎস থেকে ব্যয় সাশ্রয় করা হয়েছে যার পরিমাণ প্রায় ২৬ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। জিএমপি কোয়ালিটি ইমপ্রুভ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

ইডিসিএলের ঢাকা কারখানার পাশে খালি ৬৭.১০৯ ডেসিমেল জায়গায় একটি বহুতল ভবন নির্মাণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। যাতে ঢাকা ফ্যাক্টরির উৎপাদন সি-জিএমপি উন্নয়ন করা হবে, পাশাপাশি উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে এবং ভাড়াকৃত গোডাউনের খরচ সাশ্রয় হবে, যার পরিমাণ বাৎসরিক প্রায় ১৩ কোটি টাকা।

উৎপাদনের সূচনা থেকেই কোম্পানিটি সরকারি হাসপাতাল, সিভিল সার্জন অফিস, সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি এবং আন্তর্জাতিক (অলাভজনক) সংস্থা, যেমন: ইউনিসেফ, ডব্লিউএইচও, আইসিডিডিআরবি ইত্যাদিতে প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ করে আসছে। এ ওষুধ সরবরাহ করার জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সরাসরি জড়িত। ফলে ওষুধগুলোর কোন বিপণন এবং প্রচার খরচ না হওয়ায় রাষ্ট্রীয় অর্থ সাশ্রয় হচ্ছে।

৩৩টি গুরুত্বপূর্ণ ওষুধের মূল্য কমেছে
ইডিসিএলে উৎপাদিত ওষুধের মূল উদ্দেশ্য হল সাশ্রয়ী মূল্যে মানসম্পন্ন ওষুধ তৈরি করা এবং সরকারি হাসপাতাল ও অন্যান্য স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে সরবরাহ করে জনগণের স্বাস্থ্য নিশ্চিত করা। ইতোমধ্যেই ৩৩টি ওষুধের মূল্য আগের তুলনায় ক্ষেত্রভেদে ১০-৫০ শতাংশ পর্যন্ত দাম কমানো হয়েছে।

ইডিসিএলের এমডি জানান, বাকি ওষুধগুলোর দাম কমানোর প্রক্রিয়া চলছে। এ লক্ষ্যে তিনি ইডিসিএল ওষুধের মূল্য নির্ধারণ কমিটি গঠন করেছেন। জনবলকে কাজের প্রতি মোটিভেট করা হয়েছে।

ইডিসিএলের ক্রয় প্রক্রিয়ায় পূর্ববর্তী সিন্ডিকেট ভাঙার কারণে কাঁচামালের পাশাপাশি মোড়ক সামগ্রী এবং মেশিনারিজ আইটেমসহ অন্যান্য সামগ্রী কম দামে কেনা সম্ভব হচ্ছে বলে জানা গেছে।

ইডিসিএলের নিজস্ব ডাইনিং চালানোর জন্য কিছু লোকবল নিয়োজিত ছিল। এরাও একটি সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত ছিল। এ সিন্ডিকেটও ভেঙ্গে যাওয়ায় ডাইনিং খরচ অনেকাংশে কমেছে।

পরিবহন খাতে সাশ্রয়: সরকারি হাসপাতাল, সিভিল সার্জন অফিস, সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে ইডিসিএলের নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থার মাধ্যমে উৎপাদিত ওষুধ সরবরাহ করা হয়। এতে প্রতিষ্ঠানটির সরবরাহ খরচ বা পরিবহন ব্যয় কম হয়। এসব কারণে উৎপাদিত অধিকাংশ ওষুধের দাম কম রাখা সম্ভব হচ্ছে বলে দাবী ইডিসিএলের। অন্যান্য ওষুধগুলোর মূল্য কমানোর জন্য পর্যালোচনা শুরু হয়েছে।

গত বছর প্রতিদিন ৪৬ জন জনবল ব্যবহার করে ৪০০ বক্স সিসি কিটস উৎপাদন করা হতো। এখন ২৫ জন ব্যবহার করে ৪২৫ বক্স সিসি কিটস উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে।

ইডিসিএল ওষুধের মূল্য নির্ধারণ কমিটি গঠন
প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকে থাকতে আরও প্রায় শতাধিক ধরনের ওষুধের মূল্য যাচাই বাছাই করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে সর্বনিম্ন দাম নির্ধারণ করে এবং ওষুধের গুণগত মান আদর্শ ঠিক রেখে দাম কমানো সম্ভব কিনা তা বিচার বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। বিচার বিশ্লেষণ কার্যক্রম চলমান রাখার জন্য উৎপাদিত ওষুধের মূল্য নির্ধারণের লক্ষ্যে ইডিসিএলের নতুন একটি টেকনিক্যাল কমিটি গঠন করা হয়েছে।

মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানে প্ল্যান্ট স্থাপন 
ইডিসিএলের ঢাকা কারখানা সিরাজদিখানে স্থানান্তরিত হলে সরকারি ওষুধের চাহিদা শতভাগ চাহিদা পূরণ করতে সমর্থ হবে বলে আশা করছে প্রতিষ্ঠানটির কর্তাব্যক্তিরা। তাছাড়া বিদেশে রপ্তানি করে কিছু বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জন করাও সম্ভব হবে বলে আশা করছেন তারা। পাশাপাশি ভ্যাক্সিন প্রকল্প চালু হলে দেশে ভ্যাক্সিনের শতভাগ চাহিদা পূরণ করেও ভ্যাক্সিন বিদেশে রপ্তানির সম্ভাবনা দেখছেন তারা।

নতুন প্ল্যান্টে ওষুধ উৎপাদন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে: পুরাতন প্ল্যান্টের তৈরিকৃত সব ট্যাবলেট, ক্যাপসুল, সিরাপ, অয়েন্টমেন্ট/ক্রিম, আইড্রপ/আই অয়েন্টমেন্ট, ইনজেকশনসহ নতুনভাবে সাবোজিটরি, ইনহেলারসহ সময় উপযোগী আরও বিভিন্ন ধরনের গুরুত্বপূর্ণ ওষুধ নতুন প্ল্যান্টে প্রস্তুত করা হবে।

প্রতিষ্ঠানটির কর্তাব্যক্তিরা আশা করছেন হাতে নেওয়া অ্যান্টি-ভেনম প্রকল্পটি আন্তর্জাতিক মান সম্পন্ন প্রকল্প হবে এবং সরকার ভ্যাক্সিন আমদানি থেকে নিষ্কৃতি পাবে। অদূর ভবিষ্যতে ইডিসিএল শুধু সাধারণ ওষুধ শতভাগ সরকারি চাহিদা পূরণ করে ভ্যাক্সিন ও অ্যান্টি-ভেনমসহ অন্যান্য ওষুধ রপ্তানি করতে সমর্থ হবে।

অ্যান্টি-ভেনম, অ্যান্টি রেবিস এবং ডেঙ্গু ভ্যাকসিন প্রকল্প স্থাপন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এফডিএ-এর গাইডলাইন অনুযায়ী ফার্মা ও ভ্যাক্সিন প্রকল্প স্থাপন প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।

এছাড়া সফটওয়্যার আরও আধুনিকায়ন করার জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে ইডিসিএল। সিসি কিটস প্রোডাকশন ইমপ্রুভ করা হয়েছে। ইডিসিএল ফাউন্ডেশন এবং ইডিসিএল মেডিক্যাল ফাউন্ডেশন গঠন করা হয়েছে।

ইডিসিএলের এমডি সামাদ মৃধা বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা গুরুত্বপূর্ণ ২৫৭টি ওষুধের মধ্যে মাত্র ৩৩টি ওষুধ তৈরি করার জন্য চাপ প্রয়োগ করে যাতে বাকি ওষুধগুলো বেসরকারি ওষুধ কোম্পানি দ্বারা তৈরি করে তারা ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হতে পারে। কিন্তু আমি তাদের নির্দেশ পালন করতে পারিনি। কারণ এটা করলে হাসপাতালে ওষুধ সাপ্লাই বন্ধের পাশাপাশি ইডিসিএলও বন্ধ হয়ে যাবে। হাসপাতাল বন্ধ হলে রোগীরা সংকটে পড়ে যাবে এবং ইডিসিএল বন্ধ হলে ইডিসিএল-এর ৬০০০ লোক কর্মক্ষম হয়ে পড়বে। ফলে, উপদেষ্টারা আমার প্রতি চরম ক্ষুব্ধ হয়ে সচিবালয়-এর পক্ষ থেকে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা একটি তদন্ত দিয়ে আমাকে হেনস্তা করার চেষ্টা করে। ওষুধের দাম কমানোর জন্য কিছু কিছু ব্যবসায়ী আমাকে রীতিমতো হুমকিও দিয়েছেন।’

কর্মীদের কল্যাণে বিশেষ কর্মসূচি
কর্মকর্তা, কর্মচারীদের ইডিসিএল ফাউন্ডেশন গঠন করা হয়েছে: ইডিসিএল কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং শ্রমিকদের মেধাবী সন্তানদের মধ্য হতে দেশের স্বনামধন্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিক্যাল কলেজের ভর্তির সুযোগপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের এবং উচ্চতর শিক্ষা অর্জনের লক্ষ্যে বিশ্বের নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তির সুযোগপ্রাপ্ত মেধাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহয়তা প্রদানের লক্ষ্যে ইডিসিএল ফাউন্ডেশন ট্রাস্টি বোর্ড গঠন করা হয়েছে।

ইডিসিএল তাদের কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং শ্রমিকদের মধ্যে কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট, লিভার ট্রান্সপ্লান্ট, ওপেন হার্ট সার্জারি (রিং প্রতিস্থাপনসহ) এবং ক্যানসারসহ ইত্যাদি জটিল ও দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত আর্থিক সহয়তা প্রদানের লক্ষ্যে ইডিসিএল মেডিক্যাল ফাউন্ডেশন ট্রাস্টি বোর্ড গঠন করা হয়েছে।

আজকের সিলেট/ডি/এসটি

সিলেটজুড়ে


মহানগর