বয়স যত বাড়ে, শরীরের চাহিদাও বদলায়। বিশেষ করে চল্লিশ পেরোনোর পর অনেকেই চিন্তায় পড়েন— রোজ ডিম খাওয়া ঠিক হবে তো? কোলেস্টেরল বাড়বে না তো? হৃদরোগের ঝুঁকি বেড়ে যাবে না তো?
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক চিকিৎসক ডা. আফসানা হক নয়ন বলেন, “চল্লিশের পর শরীরে পেশির ক্ষয় শুরু হয়। ডিম পেশি গঠনে অত্যন্ত উপকারী। এতে উচ্চমানের প্রোটিন, ভিটামিন বি কমপ্লেক্স, ভিটামিন ডি, ওমেগা-থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিডস-সহ নানান পুষ্টি উপাদান রয়েছে।”
সুস্থ মানুষের জন্য রোজ একটা ডিম খাওয়া নিরাপদ এবং উপকারী।
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরের বিপাকক্রিয়া ধীর হয়ে যায়। মাংসপেশি কমতে থাকে, হাড় দুর্বল হয়। এই সময়ে উচ্চমানের প্রোটিন শরীরের জন্য অত্যন্ত জরুরি।
ডিমে রয়েছে পূর্ণাঙ্গ প্রোটিন, যাতে সব ধরনের অ্যামিনো অ্যাসিড আছে। ‘লিউসিন’ নামক অ্যামিনো অ্যাসিড পেশি গঠনে বিশেষ ভূমিকা রাখে।
ওপরের তথ্যগুলো জানিয়ে ডা. আফসানা হক বলেন “ডিমের কুসুমে থাকা ভিটামিন ডি হাড় মজবুত করে, ওমেগা-থ্রি’স হৃদযন্ত্র সুস্থ রাখে এবং কোলিন মস্তিষ্কের স্মৃতিশক্তি ধরে রাখতে সাহায্য করে।”
চিকিৎসকরা বলেন, ডিম খেলে শরীরে ‘ভালো’ কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়ে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণেও সহায়তা করে।”
কোলেস্টেরল নিয়ে যে ভয়
অনেকে ডিমের কুসুম এড়িয়ে চলেন কোলেস্টেরলের ভয়ে।
তবে হার্ভার্ড হেল্থ পাবলিশিং’য়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে ২০২৫ সালে ‘দ্য আমেরিকান জার্নাল অফ ক্লিনিকাল নিউট্রিশন’য়ে প্রকাশিত গবেষণার বরাত দিয়ে উল্লেখ করা হয়, সুস্থ মানুষের ক্ষেত্রে খাদ্যের মাধ্যমে কোলেস্টেরল গ্রহণের প্রভাব খুব বেশি নয়। শরীর নিজস্বভাবে কোলেস্টেরল তৈরি করে। তাই রোজ একটা ডিম খেলে সুস্থ মানুষের কোলেস্টেরলের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ে না।
অস্ট্রেলিয়ার ‘স্কুল অফ হেল্থ অ্যান্ড বায়োমেডিক্যাল সায়েন্স’-এর ‘আএমআইটি ইউনিভার্সিটি’র করা এই গবেষণার ফলাফলে আরও উল্লেখ করা হয়- আগে ভাবা হয়েছিল ডিম খারাপ কোলেস্টেরল ‘এলডিএল’ বাড়াতে প্রভাব রাখে, তবে এবার সেরকম উল্লেখযোগ্য কোনো প্রামাণ পাওয়া যায়নি।
তবে যাদের ইতিমধ্যে উচ্চ কোলেস্টেরল, হৃদরোগ বা ডায়াবেটিস আছে, তারা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ডিম খেতে পারেন। এছাড়া কুসুম বাদ দিয়ে শুধু সাদা অংশ খাওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়।
কয়টা ডিম খাওয়া নিরাপদ?
সাধারণ সুস্থ ব্যক্তির জন্য রোজ একটা ডিম যথেষ্ট। যারা ভারী ব্যায়াম করেন বা প্রোটিনের চাহিদা বেশি, তারা দুটো পর্যন্ত খেতে পারেন।
তবে দিনে তিনটির বেশি খাওয়ার প্রয়োজন নেই।
ডিম খাওয়ার সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর উপায় হল সেদ্ধ বা পানি পোচ। ওমলেট বা ভাজা ডিমে তেল ব্যবহার হয় বলে ক্যালরি বেড়ে যায়।
ডিমের পুষ্টিগুণ
সাধারণত একটা ডিমে থাকে-
উচ্চমানের প্রোটিন (প্রায় ৬ গ্রাম)
ভিটামিন বি১২, বি৬, বায়োটিন
ভিটামিন এ, ই এবং ডি
আয়রন (লৌহ), জিংক, সেলেনিয়াম
কোলিন (মস্তিষ্কের জন্য উপকারী)
অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট লুটেইন ও জিয়াজানথিন (চোখের স্বাস্থ্যের জন্য)
ডিমকে বলা হয় ‘পূর্ণাঙ্গ খাবার’। এতে প্রায় সব ধরনের পুষ্টি উপাদানের সমন্বয় ঘটে।
যাদের সাবধানে খাওয়া প্রয়োজন
উচ্চ কোলেস্টেরল বা হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তি
দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগী
ডিমে অ্যালার্জি আছে এমন ব্যক্তি
এসব ক্ষেত্রে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিয়ে খাওয়া উচিত।
“বয়স ৪০ পেরোনোর পর শরীরের চাহিদা বদলায়, কিন্তু ডিমের উপকারিতা কমে না। বরং এই বয়সে নিয়মিত ডিম খেলে পেশি ধরে রাখা, হাড় মজবুত করা এবং শক্তি পাওয়া সহজ হয়” বলেন ডা. নয়ন।
সুস্থ মানুষের জন্য রোজ একটা ডিম খাওয়া নিরাপদ। তবে সেদ্ধ বা স্বাস্থ্যকর উপায়ে খেতে হবে।
আজকের সিলেট/এপি
লাইফস্টাইল ডেস্ক 








