জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার গুজবে সিলেটে পাম্পে ক্রেতাদের হুমড়ি
রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:১২ PM

পেট্রোল-অকটেন ২০০/৩০০ টাকার বেশি দেওয়া হচ্ছে না

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার গুজবে সিলেটে পাম্পে ক্রেতাদের হুমড়ি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৬/০৩/২০২৬ ০৮:৩৩:৪১ PM

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার গুজবে সিলেটে পাম্পে ক্রেতাদের হুমড়ি


মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে জ্বালানী তেলের দাম বেড়ে যেতে পারে এমন শঙ্কায় সিলেটের পেট্রোল পাম্পগুলোতে রীতিমত হুমড়ি খেয়ে পড়েছেন ক্রেতারা। বৃহস্পতিবার রাত থেকে নগরের পেট্রোল পাম্পগুলোতে গাড়ির দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। শুক্রবারও একই চিত্র দেখা গেছে।

মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীলতা ও বিশ্ববাজারে তেলের দামে উঠানামার কারণে দেশেও দাম বাড়বে এমন আশংকায় আগেভাগেই জ্বালানী তেল সংগ্রহ করে রাখতে প্রেট্রোল পাম্পে ভীড় করার কথা জানিয়েছেন একাধিক ক্রেতা। যদিও বিক্রেতারা জানিয়েছেন, চলতি মাসে দাম বাড়ার আশঙ্কা নেই। তেলেরও পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে। তবে শুক্র ও শনিবার ডিপো বন্ধ থাকে। ফলে ক্রেতাদের অধিক চাহিদার কারণে অনেক পাম্পে তেলের কৃত্রিম সঙ্কট দেখা দিয়েছে। একারণে শুক্রবার মোটর সাইকেল প্রতি ২০০/৩০০ টাকার অধিক পেট্রোল বা অকটেন বিক্রি করছেন না বিক্রেতারা।

নগরের পাঠানটুলা এলাকার পেট্রোল পাম্পে দেখা যায়, মোটর সাইকেলের দীর্ঘ লাইন। লাইন ধরে জ্বালানী লে সংগ্রহ করছেন চালকরা।

সুয়েব আহমদ নামের এক মোটর সাইলে চালক বলেন, যুদ্ধের কারণে পেট্রোলের দাম বেড়ে যেতে পারে। তাই একটু বেশি করে তেল কিনতে চেয়েছিলাম। কিন্তু পাম্প থেকে মাত্র ২০০ টাকার তেল দেওয়া হয়েছে।

এই পাম্পের ম্যানাজার রুপক দাস বলেন, দাম বাড়ার কোন খবর আমাদের কাছে নেই। যেহেতু সরকার কদিন আগেই (১ মার্চ) দাম অপরিবর্তিত রেখে বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে এবং আমরা ঐ দামেই জ্বালানি তেল বিক্রি করছি।

নগরীর সোবহানীঘাট এলাকার একটি পাম্পের লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা প্রাইভেট কার চালক জলিল মিয়া অভিযোগ করেন, পাম্পে তেলের পরিমাণ কম দেওয়া হচ্ছে। একারণে মানুষের মধ্যে আরও আত্ক বেড়েছে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মার্চ মাসে ডিজেল ১০০ টাকা, কেরোসিন ১১২ টাকা, পেট্রোল ১১৬ টাকা এবং অকটেন ১২০ টাকা লিটার দরে বিক্রি হবে । বিশ্ববাজারে দাম ওঠানামা করলেও আপাতত দেশে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ছে না ।

এ ব্যাপারে সিলেট বিভাগীয় পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতির যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক রিয়াসাদ আজিম আদনান বলেন, আমাদের কাছে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। বিশেষ করে পেট্রোল ও অকটেন সিলেটসহ পার্শ্ববর্তী ডিপোগুলো থেকে নিয়মিত সরবরাহ করা হচ্ছে। এছাড়া মাসের মাঝামাঝি সময়ে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কোনো সুযোগ নেই। নিয়ম অনুযায়ী মাস শেষেই প্রয়োজন হলে মূল্য সমন্বয় করা হয়। অতএব, অযথা আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।

তিনি পেট্রোল পাম্পগুলোতে অপ্রয়োজনীয় ভিড় না করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সাপ্তাহিক ছুটির সময় ডিপো বন্ধ, এমতাবস্থায় অনেকেই আতঙ্কে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি তেল সংগ্রহ করার চেষ্টা করছেন, যার ফলে সাময়িকভাবে কৃত্রিম সংকটের পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। পেট্রোল পাম্প গুলো রেশনিং করে তেল বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে। কারও কারও মজুদ রবিবারের আগেই শেষ হয়ে গেছে।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলারস ডিস্ট্রিবিউটরস এজেন্টস অ্যান্ড পেট্রোলিয়াম ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় মহাসচিব ও সিলেট বিভাগীয় কমিটির সভাপতি জুবায়ের আহমদ চৌধুরী জানিয়েছেন, সিলেটের পাম্পগুলো এখন পর্যন্ত তেলের কোন সঙ্কট হয়নি। আমাদের সিলেটের সবকটি পাম্পগুলোতে পরিমাণের জ্বালানি তেল রয়েছে।

তিনি বলেন, সিলেটের রশিদপুর ও কৈলাশটিলা গ্যাস কূপ থেকে থেকে আমাদের সিলেটের পাম্পগুলো চাহিদা মোতাবেক জ্বালানি তেল সরবরাহ করলেই তেলের সঙ্কট সিলেটে হবে না।

তিনি আরও বলেন, হুমড়ি খেয়ে সবাই যদি একসঙ্গে বেশি পরিমাণে তেল নিতে যান, তাহলে সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর চাপ তৈরি হবে। এ কারণে অপ্রয়োজনীয় মজুত না করে সাশ্রয়ীভাবে জ্বালানি ব্যবহারের আহ্বান জানান তিনি।

আজকের সিলেট/এপি

সিলেটজুড়ে


মহানগর