সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলা সহ হাওরাঞ্চলের একাধিক উপজেলায় গবাদিপশুর খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে।যার দরুন বস্তায় ভরে দূরদূরান্ত থেকে মোটরসাইকেলে ঘাস পরিবহন করে গবাদিপশু পালন করছেন কৃষকরা।গবাদিপশুর গোবর না থাকায় ফসলি জমির উর্বরতা কমছে।
মাত্র একদশক পূর্বে হাওরাঞ্চলের প্রতিটি হাওরে যেখানে কয়েক ফুট হাটু সমান সবুজ তৃণ ঘাসের দেখা মিলতো।যখানে সেখানেই গভীর গর্তে জন্মাতো দুধ ছ্যাইল্যা, গাই ঘাস, দূর্বাঘাস, ছিছড়া, বিন্না, হুগলি ও বনতুলসি সহ নাম না'জানা অসংখ্য ঘাস। এখন আর এসব ঘাসের দেখা মিলেনা।
তজন্য এসব এলাকার কৃষকদের অন্যতম আয়ের উৎস মানবদেহে দুধ ও মাংসের চাহিদা মিঠানোর গবাদিপশু পালন করতে পারছেন'না তারা। এতে করে গৃহপালিত পশু পালনে অনিহা দেখা গেছে কৃষকদের।অনেকেই আবার কৃত্রিম উপায়ে ঘাস ফলানো বা উৎপাদনের চেষ্টাও করছেন। অনুসন্ধানে বেড়িয়ে এসেছে একমাত্র কারণ হলো লায়েক পতিত বা উচুকান্দা কেটে ফেলা হচ্ছে,ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণের জন্যে।
তাই গবাদিপশু পালনের জন্য হন্যহয়ে জ্বালানি তেল ব্যায় বহন করে যানবাহন যোগে দূরদূরান্ত থেকে আংশিক ঘাস বা সবুজ তৃণ সংগ্রহ করতে সর্বদাই ব্যাস্থ রয়েছেন একশ্রেণীর গৃহপালিত পশুপালক।
কয়েকটি উপজেলা থেকে মোটরসাইকেলে এসে গো'পালকরা দিবস অতিবাহিত করে চাহিদা মিটাচ্ছেন ঘাসের।এরিমধ্যে মধ্যনগরের ফাস্যুয়া,বোয়ালী,টগা,গুরমা,বানছাফড়া সহ অসংখ্য নাম না'জানা হাওরে আবাদী জমির আইল থেকে জীবন ঝুঁকি নিয়ে সংগ্রহ করে মোটরযানে স্থানান্তর করছেন সবুজতৃণ ঘাস।
মধ্যনগর উপজেলা সদর ইউনিয়নের গলহা গ্রামের বাসিন্দা গবাদিপশু পালক কৃষক ললিত দেবনাথ(৩৫)র সাথে কথা বললে তিনি বলেন,গরু পালতে গিয়ে প্রতি বছরেই কয়েকটি হাওর থেকে সারা দিনে ৩বস্তা ঘাস মিলাই।গরু পালনতো লাগব।তবে "আওরে(হাওরে)অহন আর ঘাস মিলে'না"।
এবিষয়ে হাওর গবেষক সজল কান্তি সরকার জানান,অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণ অব্যাবস্থাপনাই দায়ী। হাওরে ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণের জন্য লায়েক পতিত বা কান্দা কর্তন করে ভূমি ধ্বংস হচ্ছে।যদিও ফসলি জমি বাড়ছে তবে খাল বিল নদী নালা ভরাট এবং গবাদিপশুর খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে।
এর সমাধানে প্রতিটি মানুষকে ঘাস ফলানোর উদ্যোগ নিতে এবং উদ্ধুদ্ধ করে খাল,বিল,নালা' ও নিচু জায়গায় ঘাসের বীজ বপন করতে হবে।কতৃপক্ষের নজর দেয়া প্রয়োজন।তবে এখকার সময় প্রচুর বিভিন্ন জাতীয় বীজ হাতের নাগালেই পাওয়া যায়।তাই বলবো বীজ বপন করে নিজে ঘাস ফলান, গবাদিপশু পালন করে দুধ ও মাংসের চাহিদা মিটান।
আজকের সিলেট/মিমো/ প্রতিনিধি
অমৃত জ্যোতি, মধ্যনগর (সুনামগঞ্জ) থেকে 








