গ্রামীণ ঐতিহ্যপূর্ণ একটি সংস্কৃতি চড়ুইভাতি টুপাটুপি যা এখন প্রায় বিলুপ্ত
সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৩:০৯ PM

গ্রামীণ ঐতিহ্যপূর্ণ একটি সংস্কৃতি চড়ুইভাতি টুপাটুপি যা এখন প্রায় বিলুপ্ত

সৈয়দ হেলাল আহমদ বাদশা, গোয়াইনঘাট থেকে

প্রকাশিত: ১৩/১২/২০২৪ ০৩:১৭:০৭ AM

গ্রামীণ ঐতিহ্যপূর্ণ একটি সংস্কৃতি চড়ুইভাতি টুপাটুপি যা এখন প্রায় বিলুপ্ত


বাঙালি জাতির হরেক রকম সংস্কৃতির দেশ হচ্ছে বাংলাদেশ। পৃথিবীর আর কোথায়ও এমন সব সংস্কৃতি আছে বলে মনে হয় না। তারমধ্যে অন্যতম হলো গ্রামীণ ঐতিহ্যপূর্ণ বিভিন্ন রকমের সংস্কৃতি। যা গ্রামের সাম্য সম্প্রীতি ঐক্য বজায় রাখতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। কালের পরিক্রামায় বাংলার ঐতিহ্যের অনেকটুকুই আজ হারিয়ে গেছে। বিভিন্ন উৎসবে এখন আর বাঙালির আসর বা আয়োজন পাওয়া যায় না। বরং দেখা যায় পশ্চিমা ধাঁচের গান মাইকিং বা সাউন্ডবক্সে গান বাজানো হয়। কথায় বলে, ‘বারো মাসে তের পার্বণ’। সারা বছর নানা রকমের আয়োজনে মাতোয়ারা থাকতো বাঙালি। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিয়ে, অন্নপ্রাশন, জন্মদিন, শ্রাদ্ধ এবং সবার জন্য উন্মুক্ত বিভিন্ন মেলা উদযাপন ইত্যাদি লেগেই থাকতো। বাঙালির ভাবনায় ক্রমে গম্ভীর জীবনযাত্রা ঢুকে পড়েছে। চায়ের দোকানে আর সেই আলোচনা নেই। কেননা প্রত্যেকের মধ্যে বিদেশি চর্চায় নিজের সংসার এবং শুধু নিজেকে গুছিয়ে নেওয়ার ভাবনা ঢুকে পড়েছে। বিয়ের আসরে যে আত্মীয়তার বাঁধনে খুনসুটিগুলো ছিল তাতেও এসে পড়েছে সতর্কতা। স্বার্থের এত সতর্কতা বাঙালি মানসিকতায় আদৌ ছিল না।আধুনিকতার স্পর্শ আর সভ্যতার ক্রমবিকাশে হাজার বছরের লালিত বাংলার প্রতিটি ক্ষেত্র আজ বদলে যাচ্ছে। পরিবর্তন হচ্ছে গ্রামবাংলার দৃশ্যপট। অতীতে গ্রামবাংলার প্রতিটি বাড়িতে ছিল আমোদ প্রমোদের কতই না আয়োজন।আধুনিকতা ও যান্ত্রিকতার ছোঁয়ায় হারিয়ে যাওয়া অনেক গ্রামীণ সংস্কৃতির মধ্যে অন্যতম ছিল টুপা টুপি খাওয়া।

সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলায় পারিবারিক আয়োজনে গ্রামীণ ঐতিহ্যপূর্ণ টোপাটুপি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার গোয়াইনঘাট উপজেলার সদর ইউনিয়নের আলীর গ্রামের বাসিন্দা লেংগুড়া হাওর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ নুরুল হুদা পারিবারিকভাবে আয়োজন করেন টুপা টুপি খাওয়ার অনুষ্ঠান। সকাল দশটায় পরিবারের ছোট ছোট সদস্যরা নিজ নিজ ঘর থেকে কেউ মসলা পাতি,কেউবা তরি তরকারি,কেউ ডিম চাউল, কেউবা আবার রান্না করার তেল ও লাকড়ি নিয়ে আনন্দ আর উচ্ছ্বাসের মধ্য দিয়ে গ্রামীন পরিবেশে খোলা আকাশের নিচে শুরু করেন টুপা টুপির খাবার রান্না।

গোয়াইনঘাট বালিকা বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর শিক্ষার্থী রোহামা হোমায়রা মেঘনা রান্নার মূল কাজ শুরু করেন। তাকে সহযোগিতা করেন জালালাবাদ ক্যান্টনমেন্ট স্কুল এন্ড কলেজের পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থী সামিয়ান নওশীন।অন্যান্য টুকিটাকি কাজগুলোর ক্ষেত্রে সহযোগিতা করেন ইসফার নাকিব ৫ম শ্রেণী পিরিজপুর সরকারি প্রা. বিদ্যালয়, আনিকা তাবাসসুম তিশা ৩য় শ্রেণী,আহনাফ আদিল ১ম শ্রেণী,সিদরাতুল মুনতাহা প্রমি, নাবহান জারিফ জিয়ান,ওয়াসিম শায়ান,আবরার আবির ও রেহানা বেগম। রান্নাবান্না শেষ হলে গতানুগতিক নিয়মে দুপুর ১ টায় মাটিতে মাধুর বিছিয়ে শুরু হয় খাওয়া দাওয়ার পর্ব।

ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নুরুল হুদা বলেন,দীর্ঘ ১৭ দিন হাই স্কুল ও প্রাথমিক বিদ্যালয় গ্রীষ্মকালীন বন্ধ থাকায় পরিবারের সবাই গ্রামের বাড়িতে এসে জড়ো হয়েছেন। সেই সুবাদে দিনটিকে স্মৃতিময় করে রাখতে আমাদের এই আয়োজন।ছোট ছোট ভাতিজা ভাতিজিকে নিয়ে দিনটি আনন্দময় করে কাটিয়েছি।তাদের মাধ্যমে আজকে আমিও সেই শৈশবে হারিয়েছি।তিনি বলেন আমাদের ইতিহাস ঐতিহ্যপূর্ণ অনেক গ্রামীণ সংস্কৃতি দিন দিন বিলুপ্তির পথে।যা আমাদের বর্তমান প্রজন্মের কাছে লোক কথার গল্পের মত।আমরা একা আর ইচ্ছা করলে তো সেইসব সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনতে পারব না।তবে আজকের এই দিনটির মাধ্যমে আমাদের নতুন প্রজন্মরা বুঝতে পারবে আমাদের অতীত ঐতিহ্যপূর্ণ সংস্কৃতির দিনগুলা কত মধুময় ছিল।

আজকের সিলেট/প্রতিনিধি/এপি

সিলেটজুড়ে


মহানগর