৫ বছরেও অপূণ্য তাহিরপুরে মডেল মসজিদের নির্মাণ কাজ
সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ১১:৩২ AM

৫ বছরেও অপূণ্য তাহিরপুরে মডেল মসজিদের নির্মাণ কাজ

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২/১২/২০২৪ ০৩:১৫:২৭ AM

৫ বছরেও অপূণ্য তাহিরপুরে মডেল মসজিদের নির্মাণ কাজ


সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলা সদরে নির্মাণাধীন মডেল মসজিদের কাজটি ১৮ মাসের মধ্যে কাজ শেষ করার নির্দেশনা থাকলেও গত ৫ বছরেও শেষ হয়নি।

এদিকে, ঠিকাদারেরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মসজিদের নির্মাণ শেষ না করলেও তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এ নিয়ে সর্বমহলে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

নির্মাণাধীন মসজিদের বিষয়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এখনও মসজিদের বিভিন্ন অংশে ইটের গাতনি ও আস্তর করা। টাইলস বসানো থেকে শুরু করে দরজা লাগানো, রং করা, বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাসহ অনেক কাজ বাকি রয়েছে। এছাড়া ইসলামি সাংস্কৃতিক চর্চা কেন্দ্রের অধিকাংশ জিনিসপত্র এখনো আনা হয়নি।

জেলা গণপূর্ত বিভাগ সূত্রে জানা যায়, জেলার ১২টি উপজেলায় ১২টি ও জেলা সদরে ১টি মোট ১৩টি মডেল মসজিদ ১৮৫ কোটি টাকায় ব্যয়ে কাজ শুরু হয়। প্রতিটি মসজিদে ইসলামিক ট্রেনিং ও অটিজম সেন্টার, পুরুষ ও মহিলাদের জন্য আলাদা নামাজের জায়গা, কনফারেন্স ও গেস্ট রুমসহ ফুলের বাগান রয়েছে। যা এখনও চলমান। অথচ আরো আগেই নির্মান কাজ শেষ করার কথা ছিল।

এ বিষয়ে তাহিরপুর উপজেলা সদরে নির্মাণাধীন মডেল মসজিদের দায়িত্বে থাকা বিশ্বাস বিল্ডাসের প্রকৌশলী এমডি আলম মিয়া জানান, ১১ কোটি ৭৯ লক্ষ টাকা ব্যায়ে নির্মানাধিন মডেল মসজিদটি গত ৩/৪/২০১৯ সালে কাজ শুরু করে ১৮ মাসের মধ্যে নির্মাণ করার কথা ছিল। এর মধ্যে জায়গা নিধারণ, মসজিদ ভাঙ্গা, পুকুর ভরাট, করোনা, বন্যা, ফান্ডের সমস্যাসহ নানান জটিলতার কারণে কাজ শুরু হয় ২০২০ সালে। ৬৫% কাজ হয়েছে বলে তিনি দাবী করে তিনি জানান, গণপূর্ত অধিদফতর থেকে একাধিকবার রিটেন্ডার করতে চাইলে আমরা যেহেতু কাজটি করেছি তাই শেষটাই আমরাই করতে চাই। তাই হাইকোর্টে আপিল করি। পরে আদালত চলতি বছর অক্টোবর মাসে হাইকোর্ট থেকে সময় ভাড়ানো হয়েছে ৬ মাসের। যা শেষ হবে মার্চ বা এপ্রিল মাসে। আগামী বছরের মার্চ বা এপ্রিল মাসের মধ্যে সম্পূর্ণ কাজ শেষ করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন সুনামগঞ্জের উপ-পরিচালক মোশারফ হোসেন জানান, নির্ধারিত সময়ে মডেল মসজিদের কাজ শেষ না হওয়ায় আমরা সরকারের ওপর মহলকে একাধিকবার লিখিতভাবে জানিয়েছিলাম, কিন্তু কোন কাজ হয়নি। দায়িত্বপ্রাপ্ত্যরা জানিয়েছিল ঘন ঘন নির্মাণসামগ্রীর মূল্য বৃদ্ধির ফলে ঠিকাদাররা কাজ শেষ করতে পারছে না। তারাও কন্ট্রাক্টার পরির্বতন করতে চাইলেও হয়নি। আর কাজও শেষ হয়নি। আমাদের পক্ষ থেকে দ্রুত কাজ শেষ করার দাবী জানাই।

জামায়াতে ইসলামী তাহিরপুর শাখার আমির রুকন উদ্দিন বলেন, আমাদের তাহিরপুরে মডেল মসজিদের কাজ আরোও আগেই শেষ করার কথা ছিল কিন্তু হয়নি। দ্রুত কাজ শেষ করে মুসল্লিদের নামাজের উপযোগী করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকের কাছে দাবি জানাচ্ছি।

এ বিষয়ে গণপূর্ত অধিদপ্তর তাহিরপুর উপজেলার নির্বাহী প্রকৌশলী জুয়েল রানা জানান, মডেল মসজিদ (চুক্তি মূল্য ১১কোটি ৭৯ লক্ষ টাকা ব্যায়ে) নির্মানে কাজের গতি কম থাকায় দ্রুত নির্মানের জন্য কয়েকবার তাদের চিঠি দিয়ে সতর্ক করা হয়েছিল। এরপর তাদের কাজের গতির কোনো পরিবর্তন না হওয়ায় তাদের কাজ বাতিল করার জন্য টাকা অফিসে লিখিতভাবে জানানো হয়েছিল। এরপর ঢাকা অফিস থেকে রিটেন্ডার করতে চাইলে বিশ্বাস বিল্ডাসের দায়িত্বশীলগণ হাইকোর্টে একটি আবেদন করে। আদালত এই বিষয়ে আদেশের জন্য ৬ মাসের জন্য স্থগিত করেছে। এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুল হাসেম জানান, মডেল মসজিদ দ্রুত নির্মানের জন্য বিশ্বাস বিল্ডাসের প্রকৌশলী ও গনপূর্ত বিভাগের দায়িত্বশীলদের সাথে কথা বলেছি তারা যেন দ্রুত কাজ শেষ করে মুসল্লিদের জন্য মসজিদটি উন্মুক্ত করে দেয়।

আজকের সিলেট/ডি/এপি

সিলেটজুড়ে


মহানগর