১৭০ বছর পরও চা শ্রমিকদের 'মজুরি ১৭০ টাকা'
বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬, ০৪:২৯ PM

১৭০ বছর পরও চা শ্রমিকদের 'মজুরি ১৭০ টাকা'

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৩/০৯/২০২৪ ১০:৫১:৫৪ AM

১৭০ বছর পরও চা শ্রমিকদের 'মজুরি ১৭০ টাকা'


মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে চা শ্রমিক সংঘের সম্মেলনে বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি শ্রমিকনেতা চৌধুরী আশিকুল আলম ‘চা-শ্রমিকদেরকে সবচেয়ে অবহেলিত শ্রমিক আখ্যায়িত’ করে বলেন চা-শিল্পের ১৭০ বছর পরও চা-শ্রমিকদের মজুরি মাত্র ১৭০ টাকা। সম্প্রতি ৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট প্রদানের পরও শ্রমিকদের মজুরি হয়েছে মাত্র ১৭৮.৫০ টাকা। বর্তমান দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্দ্ধগতির সময়ে এই মজুরি দিয়ে কি করে একজন শ্রমিক ৫/৬ জনের পরিবারের ভরণপোষণ করবে? অথচ বর্তমান বাজারদরে ৬ জনের একটি পরিবারের জন্য ন্যূনতম খরচ পড়ে ৮শ’ থেকে ১ হাজার টাকা। চা-শ্রমিকদের হাড় ভাঙ্গা খাটুনিতে চায়ের রেকর্ড পরিমান উৎপাদন হচ্ছে, চা উৎপাদনকারী দেশগুলো মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বে ৯ম স্থান অর্জন করে নিয়েছে।

গতকাল রোববার চা-শ্রমিক সংঘ মৌলভীবাজার জেলা কমিটির ১ম জেলা সম্মেলন সকাল ১১ টায় কমলগঞ্জ উপজেলার শমসেরনগর জনমিলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হয়।

সম্মেলনে বক্তারা বলেন, ২০২২ সালের আগষ্টে মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে চা-শ্রমিকরা খেয়ে না খেয়ে জানবাজী রেখে দীর্ঘ ১৯ দিনের লাগাতার কর্মবিরতিসহ বিক্ষোভ, রাজপথ-রেলপথ অবরোধের মতো কঠিন সংগ্রামের ফলশ্রুতিতে দৈনিক ৫০ টাকা বৃদ্ধি করে মজুরি ১৭০ টাকা কার্যকর করা হয়েছিল। এমন কি শ্রমিকদের হাড়ভাঙ্গা খাটুনির বকেয়া ৩০ হাজার ২০০ টাকা এরিয়াকে লামসাম হিসেবে মাত্র ১১ হাজার টাকা প্রদান করে শ্রমিকদের ঠকিয়ে মালিকের স্বার্থরক্ষা করা হয়। ১৭০ টাকা মজুরি মেয়াদ ২০২২ সালে উত্তীর্ণ হওয়ার ২০ মাস অতিক্রান্ত হলেও নতুন মজুরি কার্যকরের ব্যাপারে নির্বিকার। যুগ যুগ ধরে বসবাস করার পরও চা-শ্রমিকদের ভূমির অধিকার নেই। নেই শিক্ষা, চিকিৎসার মত মৌলিক অধিকারের নিশ্চয়তা নেই। যার কারণে চা-শ্রমিকদের মধ্যে শিক্ষিতের হার কম; আবার অপুষ্টি, রোগ-শোক ও মাতৃমৃত্যুর হার অনেক বেশি।

সম্মেলন থেকে চা-শ্রমিকনেতারা সুস্থভাবে বেঁচে থাকা ও উৎপাদনে সক্রিয় থাকার প্রয়োজনে বর্তমান বাজারদরের সাথে সংগতি রেখে ৬ সদস্যের পরিবারে ভরণ পোষণের খরচ হিসাব করে ২০২৩-২০২৪ মেয়াদের জন্য নিন্মতম মজুরি নির্ধারণ এবং একটি পরিবারের সাপ্তাহিক প্রয়োজনের অনুপাতে চাল, আটা, ডাল, তেল, চিনি, সাবান, চা-পাতাসহ পূর্ণ রেশন প্রদান, ভূমির অধিকার প্রদান, চা-শিল্পে নৈমিত্তিক ছুটি (বছরে ১০ দিন) কার্যকর ও অর্জিত ছুটি প্রদানে বৈষম্যসহ শ্রম আইনের বৈষম্য নিরসন করে গণতান্ত্রিক শ্রমআইন প্রণয়ন এবং সাপ্তাহিক ছুটির দিনে মজুরি ও উৎসব বোনাস প্রদানে সকল অনিয়ম বন্ধ করে শ্রমআইন মোতাবেক নিয়োগপত্র, পরিচয়পত্র, সার্ভিস বুক প্রদান, ফুলতলা চা-বাগানসহ বন্ধ সকল চা-বাগান চালু, বকেয়া মজুরিসহ নিয়মিত সকল চা-বাগানের শ্রমিকদের মজুরি পরিশোধ এবং ৯০ দিন কাজ করলেই সকল শ্রমিককে স্থায়ী করার দাবিতে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন সংগ্রাম গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

আজকের সিলেট/ডি/এসটি

সিলেটজুড়ে


মহানগর