গোয়াইনঘাটে বৃষ্টির জন্য হাহাকার, কৃষকের কপালে চিন্তার ভাঁজ
বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬, ০১:১১ PM

গোয়াইনঘাটে বৃষ্টির জন্য হাহাকার, কৃষকের কপালে চিন্তার ভাঁজ

সৈয়দ হেলাল আহমদ বাদশা, গোয়াইনঘাট থেকে

প্রকাশিত: ১৯/০৯/২০২৪ ০২:২৭:০৬ AM

গোয়াইনঘাটে বৃষ্টির জন্য হাহাকার, কৃষকের কপালে চিন্তার ভাঁজ


গোয়াইনঘাট উপজেলায় ভরা বর্ষা মৌসুমে দেখা নেই বৃষ্টির। জমিতে পানি না থাকায় আমন ধান লাগিয়ে কৃষকের কপালে হাহাকার। এক দিকে পানির অভাবে জমি ফেটে চৌচির হয়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে বীজতলাও শুকিয়ে ধানের চারা মরে যাচ্ছে। এই মৌসুমের ধানের চাষ সম্পূর্ণ বৃষ্টির পানির ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন কৃষকেরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দেশের বেশির ভাগ জেলায় চলছে তীব্র খরা ও অনাবৃষ্টি। খাল বিল ও নদীর পানি শুকিয়ে গেছে। ফসলের জমি ফেটে চৌচির হয়ে যাচ্ছে। পানির অভাবে খাঁ খাঁ করছে ফসলের মাঠ। পানির কারণে কৃষকের আমন ধানের ভালো ফলন নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষকরা। বৃষ্টির দিকে তাকিয়ে রয়েছে কৃষক। বৃষ্টি না হলে ধান ক্ষতিগ্রস্ত হবে। প্রকৃতির দিকে তাকিয়ে থাকা ছাড়া কোনো উপায় নেই। প্রচণ্ড তাপদাহ তীব্র খরা আর অনাবৃষ্টিতে একদিকে জনজীবন অতিষ্ঠ তেমনি হুমকির মুখে পড়েছে মাঠের ফসল। এতে ধানের ফলন নিয়ে শঙ্কায় পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।


কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এ বছর উপজেলায় আমন আবাদ হয়েছে আঠারো হাজার বায়ন্ন হেক্টর জমি। লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৭,৮,৩৩ হেক্টর যা লক্ষ্যমাত্রা চাইতে বেশি। বর্তমানেও নিম্মাঞ্চলের হাওরের জমিতে টুকটাক রোপন করছে কৃষকরা।সেখানে আবার পানির অভাবে জমিতে চারা শুকিয়ে যাচ্ছে,রোপন কাজ ব্যাহত হচ্ছে।

কৃষক আলমগীর বলেন, ‘আমরা বর্ষাকালে বৃষ্টির পানি দিয়ে আমন ধান চাষ করতাম। ধান লাগানোর পর থেকে বৃষ্টির অপেক্ষায় থাকতে গিয়ে আমার জমির ধান নষ্ট হয়ে যাওয়ার পথে। সেচের পানি নিতেও বাড়তি টাকা গুনতে হয়।তাই বৃষ্টির জন্য অপেক্ষা করা ছাড়া আর উপায় নেই।

কৃষক এবাদুর রহমান বলেন, এক সপ্তাহ ধরে ঘরে সার রাখা, জমিতে পানি না থাকায় দিতে পারছি না বৃষ্টির জন্য বসে আছি। সময়মতো ছাড় দিতে না পারলে ধানের গাছে পুষ্টি হবে না ফসলে পুষ্টির ঘাটতি দেখা দেবে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রায়হান পারভেজ রনি বলেন, গত এক সপ্তাহ ধরে বৃষ্টি না হওয়ায় কৃষকের জমির পানি শুকিয়ে গেছে, কৃষকরা জমিতে সার প্রয়োগ করতে পারছে না। সময়মতো বৃষ্টি না হলে এবং কৃষকরা জমিতে সার দিতে না পারলে এবং খরা দীর্ঘ সময় হলে ধানের পুস্টি গুণ হবে না, ফলনে ঘাটতি দেখা দিতে পারে। তবে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

আজকের সিলেট/ডি/প্রতিনিধি/এপি

সিলেটজুড়ে


মহানগর