মৌলভীবাজারে ক্রেতাদের আকর্ষণ ছোট-মাঝারি গরু
রবিবার, ২৪ মে ২০২৬, ১০:২৮ AM

মৌলভীবাজারে ক্রেতাদের আকর্ষণ ছোট-মাঝারি গরু

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৪/০৫/২০২৬ ০৯:৫৫:৩২ AM

মৌলভীবাজারে ক্রেতাদের আকর্ষণ ছোট-মাঝারি গরু


মৌলভীবাজারে কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে পশুর হাটগুলোতে বেচা কিনা শুরু হয়েছে। এবার জেলায় প্রায় ৭৪ হাজার দেশীয় পশু কোরবানির জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ক্রেতারা বলছেন, হাটগুলোতে বড় গুরুর দাম কম থাকলেও ছোট ও মাঝারি গরুতে তুলনামূলক অনেক বেশি দাম চাচ্ছেন বিক্রেতারা। তবে বরাবর মতো এবারও ছোট ও মাঝারি গরুর চাহিদা বেশি বাজারে।

জেলার বিভিন্ন পশুর হাটের ক্রেতারা জানান, এই বছর গরুর দাম কম। তবে ছোট ও মাঝারি গরুতে তুলনামূলক দাম বেশি। বড় গরুর চাহিদা অনেক কম। গ্রাম এলাকায় সবচেয়ে বেশি ছোট ও মাঝারি গরু কোরবানি দেওয়া হয়।

জেলার বিভিন্ন খামারিরা ও কৃষকেরা জানান, মৌলভীবাজারের সাতটি উপজেলায় ছোট-বড় মিলে অসংখ্য খামারি রয়েছেন। গরুগুলো হাটে তুলতে শুরু করেছেন। কেনা বেচাও শুরু হয়েছে। ক্রেতারা গরুতে দাম দিতে চান না। ছোট ও মাঝারি গরুর চাহিদা বেশি। গোখাদ্য দাম বেশি থাকায় দাম বেশি চাওয়া হচ্ছে।

জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর সূত্রে জানা যায়, এবছর কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে চাহিদার চেয়ে বেশি পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। জেলায় ছোট-বড় মিলে প্রায় ৬ হাজার ২২৫ খামারি আছেন। জেলায় ৩৯ হাজার ৪৮১ টি গরু, ১ হাজার ৪৪৬ টি মহিষ, ৩০ হাজার ৮২২ টি ছাগল ও ২ হাজার ৮৩৫ ভেড়া প্রস্তুত করা হয়েছে। এবছর জেলায় কোরবানির জন পশুর চাহিদা হলো ৭১ হাজার ৪৭২টি। আর প্রস্তুত করা হয়েছে ৭৪ হাজার ৫৮৪ টি পশু।

সরেজমিনে জেলার বিভিন্ন পশুর হাট ঘুরে দেখা যায়, ঈদকে সামনে রেখে পশুর হাটে প্রচুর গরু উঠেছে। তবে বিক্রি হচ্ছে কম। হাটগুলোতে বিক্রেতারা গরুর দাম বেশি চাওয়ায় ক্রেতারা ক্রয় করতে পারছেন না। বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি গরুতে তুলনামূলক বেশি দাম চাচ্ছেন।

এদিকে জেলার আদমপুর বাজার, টেংরা বাজার, ব্রাম্মনবাজার, শমশেরনগর বাজার, ভৈরব বাজারসহ বিভিন্ন বড় কয়েকটি পশুর হাট ঘুরে দেখা যায়, এসব বাজারে কৃষকের কাছ থেকে স্থানীয় পাইকার খুচরো গরু কিনে জেলার বড় পাইকারের কাছ বিক্রি করছেন।

সিয়াম চৌধুরী নামে একজন বলেন, আমি ৯৫ হাজার টাকা দিয়ে কোরবানির গরু ক্রয় করেছি। বিক্রেতারা দাম ছাড়তে নারাজ। প্রথমে এই গরুর দাম আমার কাছে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা চাওয়া হয়। অথচ এই গরুর বাজার মূল ৯০ হাজার টাকা হবে। পরে দামদর করার পর গরুটি ক্রয় করতে সক্ষম হয়েছি।

জেলার খামারি সাইদুল ইসলাম বলেন, আমার খামারে ৮টি গরু আছে। এগুলো কোরবানির জন্য প্রস্তুত করেছি। মাত্র দুটি গরু বিক্রি করেছি তবে আশানুরূপ মূল্য পাইনি। ক্রেতারা গরুর দাম কম বলেন।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আশরাফুল আলম খান বলেন, মৌলভীবাজারে কোরবানির পশু চাহিদার চেয়ে বেশি আছে। প্রতিটি হাটে গরু পরীক্ষার জন্য মেডিকেল টিম রাখা হবে। খামারির পাশাপাশি কৃষকের অনেক পশু আছে যা জেলার চাহিদা মিটিয়ে অন্য জেলায় পাঠানো হচ্ছে।

আজকের সিলেট/ডি/এসটি

সিলেটজুড়ে


মহানগর