সিলেটের ওসমানী বিমাবন্দরসংলগ্ন বাইশটিলা ন্যাচারাল পার্কের সৌন্দর্যবর্ধনে একটি মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করছে জেলা পরিষদ। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত এটি পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণীয় স্থানে পরিণত হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিস্টরা।
শুক্রবার দুপুরে বাইশটিলা ন্যাচারাল পার্ক এলাকা পরিদর্শনে যান বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। এসময় তিনি বাইশিটালায় জেলা পরিষদের চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম পরিদর্শন করেন এবং ভবিষ্যত পরিকল্পনার কথা জানান।
সংশ্লিস্ট সূত্রে জানা নযায়, বাইশটিলার অনেকগুলোর টিলার মধ্যে সিলেট এম এ জি ওসমানী বিমানবন্দর সংলগ্ন একটি ছোট্ট নিঃসঙ্গ টিলা ও তার তিনপাশ জুড়ে-থাকা প্রাকৃতিক জলাশয়কে কেন্দ্র করে ‘দিনব্যাপী প্রাকৃতিক অবকাশ যাপন কেন্দ্র’ নামক একটি প্রকল্পের কাজ চলছে। এটি সিলেট জেলা পরিষদ কর্তৃক গৃহীত ‘বাইশ টিলা ন্যাচারাল পার্ক’ প্রকল্পের প্রথম ধাপের অংশ।
এই প্রকল্পের সংশ্লিস্টরা জানান, বাইশটিলার জলাশয়ের একপাড় সরকারি রাস্তা পাশে একটি ঘাট থাকবে (দর্শনার্থী রিসেপশন পয়েন্ট) যেখান থেকে টিকেটিং ও সিকিউরিটি চেক-আপের পর স্পিডবোট / দেশীয় নৌকা করে বিপরীত পাড়ের ঘাটে (ল্যান্ডিং ডেকে) নামতে হবে এবং সেখান থেকে টিলার গা-বেয়ে উঠা সিঁড়ি দিয়ে ক্রমশ উপরে উঠলেই ছাউনি পাওয়া যাবে। সেখান থেকে আরেকটু এগোলেই টিলার খাঁজে খাঁজে বিভিন্ন উচ্চতায় তৈরি করা দু'চালা চৌচালা বসার ব্যবস্থা। গাছগুলো আগের মতোই আছে। তবে আকাশমণি গাছের প্রাধান্য। প্রকল্পে তাই দেশী ও সিলেটের স্থানীয় বৃক্ষ-গুল্মকে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। এই চাউনি গুলোতে বসলে চারদিকের বৃক্ষরাজি ও জলাশয়ের মেলবন্ধনে রচিত দৃশ্য ব্যক্তিমাত্রকেই বিমোহিত করবে। এখানে একটি কিচেন ও রেস্টরুম থাকবে, যাতে ব্যবহারকারীরা হালকা খাবারের সুযোগ পান।
এছাড়া ঝিলের মাঝখানে একটি মাটির ঢিপি আছে যেখানে একটি দড়ি দিয়ে তৈরি ঝুলন্ত সেতু থাকবে উপভোগের অংশ হিসেবে। এছাড়া বরশি দিয়ে মাছ ধরার ব্যবস্থাও রয়েছে।পুরো প্রকল্পের নকশা করেছেন স্থপতি রাজন দাশ।
তিনি বলেন, বাইশটিলাকে একটি প্রাকৃতিক অবকাশ কেন্দ্র হিসেবে তৈরি করা হচ্ছে। যে টিলায় প্রকল্পের প্রথম ধাপের কাজ সেটির চারপাশে লেক রয়েছে। নৌকা বা স্প্রিড বোর্ডের মাধ্যমে সেখানে যেতে হবে। এরপর সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠতে হবে।
জেলা পরিষদ সংশ্লিস্টরা জানান, প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ এখনো শুরু হয়নি। দ্বিতীয় ধাপে বাইশটির বড় টিলার চতুর্দিকে ক্যাবল-কার লাইন, শিশুদের জন্য বিভিন্ন রাইড ও খেলা ব্যবস্থা, ফুডকোর্ট, এ্যাম্পিথিয়েটার, মেলার স্থান, রিসোর্ট, পার্কিং ও রেস্টরুমের ব্যবস্থা কথা মাথায় রেখেই পরবর্তী মাস্টারপ্ল্যান করা হবে।
শুক্রবার পরিদর্শনে গিয়ে বানিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বাইশটিলা এলাকায় জেলা পরিষদের ৪৩ একর জায়গা রয়েছে। এটিকে পর্যটক আকর্ষনীয় স্থানে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এখানে ন্যাচারাল পার্কে ক্যাবল কার থাকবে। রোপ ব্রিজ থাকবে। এরকম অনেক কিছু থাকবে। শিশু থেকে প্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য অনেক উপকরণ থাকবে। এটি নিয়ে একটি মাস্টারপ্ল্যান করেছে জেলা পরিষদ। এটি সিলেটের অনন্য পর্যটক আকর্ষনীয় স্থান হবে। সরকার এতে অর্থায়ন করবে।
বাইশটিলাকে একটি পর্যটক-বান্ধব স্থানে পরিনত করার আশা ব্যক্ত করেন তিনি।জেলা পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলার বড়শালা এলাকাধীন জেলা পরিষদের ন্যাচারাল পার্কের জন্য ১৯৬২-৬৩ সালে ৬৩ দশমিক ৯২ একর ভূমি পার্কের জন্য অধিগ্রহণ করা হয়। পরবর্তী সময়ে বিমানবন্দরের জন্য ১৯ দশমিক ৬৫ একর এবং রাস্তার জন্য ৩ একর জায়গা স্থানান্তর হয়। বর্তমানে পার্কটির ৪২ দশমিক ৪৭ একর জায়গা রয়েছে। এর মধ্যে ১৯৯৩ সালে জেলা পরিষদের অধিগ্রহণ করা জায়গার স্বত্ব নিয়ে মামলাও হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে ২০০৩ সালের দিকে বাদীপক্ষের আপিল খারিজ হয়ে যায়।পার্কটি ২০০২ সালের দিকে দরপত্র আহ্বান করে ইজারা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে ইজারাগ্রহীতার নামে পার্কের গাছপালা কর্তন, টিলার মাটি কেটে ফেলাসহ নানা অভিযোগ ওঠে। এতে জেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষ পরবর্তী সময়ে বাধ্য হয়েই ইজারা বাতিল করে।
আজকের সিলেট/এপি
নিউজ ডেস্ক 








