ছাত্র আন্দোলনে স্বামীকে নিহত দেখিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টায় স্ত্রীর মিথ্যা মামলা
শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ০৮:৩১ AM

থানায় হাজির হয়ে চমকে দিলেন আল-আমিন

ছাত্র আন্দোলনে স্বামীকে নিহত দেখিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টায় স্ত্রীর মিথ্যা মামলা

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৩/১১/২০২৪ ০৩:২২:১৭ AM

 ছাত্র আন্দোলনে স্বামীকে নিহত দেখিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টায় স্ত্রীর মিথ্যা মামলা


গণঅভ্যুত্থানে স্বামীকে নিহত দেখিয়ে মামলা দায়ের করে বিবাদীদের কাছে থেকে অর্থ ধান্ধ্যার পাঁয়তারা করেছিলেন এক ছলনাময়ীয় স্ত্রী। কিন্তু তার অসৎ সেই উদ্দেশে বাগড়া বসিয়ে দিলেন স্বামী নিজেই। স্বশরীরে থানায় উপস্থিত হয়ে জানিয়ে দিলেন তিনি মরেননি। ‌'অবাক' করা এই ঘটনা ঘটেছে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের দক্ষিণ সুরমা থানায়।

সোমবার রাত ৯টার দিকে সিলেটের দক্ষিণ সুরমা থানায় হঠাৎ হাজির হন আল-আমিন নামের এক যুবক । তারপর বলেন তার স্ত্রী মানুষের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার জন্য তাকে আন্দোলনে নিহত দেখিয়ে মামলা করেছেন ঢাকার আশুলিয়া থানায়। ৫ আগস্টের আগে দাম্পত্য কলহে জড়িয়ে পড়েন স্বামী-স্ত্রী। এরপর রাগ করে সিলেটে চলে আসেন আল আমিন। এরপর থেকে সিলেটেই তিনি। সম্প্রতি জানতে পারেন তার স্ত্রী তাকে নিহত দেখিয়ে দায়ের করেছে একটি মামলা। আল-আমিন বলেন- ‘ভাই, আমি মরি নাই, কেউ যদি আমার অজান্তে কাগজে কলমে মাইরা ফালায়, তাহলে আমার কী বা করার আছে ? আমারে যে মরা দেখাইয়া মামলা করছে আমার বৌ, তা আমি জানতাম না, যখন শুনলাম তখন ভয়ে পালিয়ে আছি। শেষ পর্যন্ত জীবনের নিরাপত্তায় দ্বারস্থ হয়েছি পুলিশের ’।

জানা যায়, শেখ হাসিনার পতনের দিন (৫ আগস্ট) ছাত্র-জনতার আন্দোলনে আশুলিয়া থানা এলাকায় যারা মারা যাওয়া একজনের পরিচয় ছিল অজানা। সেই অজ্ঞাত ব্যক্তিকে নিজের স্বামী আল আমিন দাবি করেন কুলসুম নামের এক নারী। ২৪ অক্টোবর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৩০ জনের বিরুদ্ধে ঢাকার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলাও করেন কুলসুম। পরে সেটি ৮ নভেম্বর আশুলিয়া থানায় এজাহারভুক্ত হয়। তবে পরবর্তীতে কুলসুমের আচরণে সন্দেহজনক হয়ে উঠে। এক পর্যায়ে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। কুলসুমের স্বামী সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় অবস্থান করছেন বলে জানা যায়।

একপর্যায়ে আল-আমিনের ভাইয়ের খোঁজও পায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী একটি বাহিনী। ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত হওয়া যায়- মৃত দেখানো আল-আমিন বেঁচে আছেন। আল-আমিনের বড় ভাই জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আমার ভাই বেঁচে আছে। সে তিন দিন আগে আমাকে বলেছে মামলার বিষয়টি। সর্বশেষ সে দক্ষিণ সুরমা থানায় হাজির হয়ে পুলিশের কাছে সব খুলে বলে।’ ছেলের সঙ্গে দক্ষিণ সুরমা থানায় হাজির হন আল-আমিনের বাবাও। জীবিত ছেলেকে মৃত দেখিয়ে মামলার ঘটনায় হতবাক নুরুল ইসলাম। তিনি বলেন, আমাদের পুরো পরিবার এখন আতঙ্কগ্রস্ত। আল-আমিন বলেন, মোবাইল ফোনে কথার সূত্র ধরে পরিবারের সম্মতি ছাড়াই ভালোবেসে বিয়ে করেছিলাম কুলসুমকে। ঘরে একটি কন্যা সন্তানও রয়েছে। গত কয়েক মাস ধরে পারিবারিক কলহ বেড়ে যাওয়ায় সময়টা ভালো যাচ্ছিল না। দেশের গণ্ডগোলের পুরোটা সময় আমি ও আমার স্ত্রী মৌলভীবাজারের জুড়ীতে অবস্থান করেছি। সেসময় আশুলিয়ায় একবারের জন্যও যাইনি। অথচ আমাকে মৃত দেখিয়ে মিথ্যা মামলা করেছে সে।

এসএমপির দক্ষিণ সুরমা থানার অফিসার (ওসি) আবুল হোসেন বলেন, সোমবার রাত ৯টার দিকে আল-আমিন নামের যুবক থানায় হাজির হয়ে এসব তথ্য জানান। পরে আমরা আশুলিয়া থানা পুলিশকে অবগত করি বিষয়টি। রাতেই তাদের একটি টিম রওয়ানা দেয় সিলেটের উদ্দেশে এবং মঙ্গলবার সকালে আল-আমিনকে নিয়ে ফিরে ঢাকায়।

আজকের সিলেট/ডি/এপি

সিলেটজুড়ে


মহানগর